সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, জননিরাপত্তা এখানে কতটা গৌণ। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ওই পাম্পটির ছিল না পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা ফায়ার সার্ভিসের ন্যূনতম অনুমোদন। এই ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি প্রশাসনিক অবহেলা এবং ব্যবসায়িক হঠকারিতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
একটি গ্যাস পাম্প বা সিএনজি স্টেশনের মতো অতি দাহ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কীভাবে বছরের পর বছর অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নিয়ম অনুযায়ী, এমন প্রতিষ্ঠান চালুর আগে কঠোর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি যাচাই করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কক্সবাজারের এই পাম্পটির ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কোনো প্রকার বৈধ নথি ছাড়া একটি “টাইম বোমার” মতো স্থাপনা নিয়ে জনবহুল এলাকায় ব্যবসা চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই চিত্রটি কেবল কক্সবাজারের নয়, বরং সারা দেশেরই সাধারণ চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অথবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে লাইসেন্স ছাড়াই দাহ্য পদার্থের ব্যবসা গড়ে ওঠে। ফায়ার সার্ভিস বা পরিবেশ অধিদপ্তর যখন কোনো স্থাপনাকে অনুমোদন দেয় না, তার অর্থ হলো সেখানে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো অবকাঠামো নেই। অথচ সেই বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাম্প পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিস্ফোরণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার এখন কে নেবে?
আমরা মনে করি, কেবল শোক প্রকাশ বা তদন্ত কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়। এই ঘটনার পেছনে যে প্রশাসনিক শিথিলতা কাজ করেছে, তার বিচার হওয়া জরুরি। কেন এই অবৈধ পাম্পটি আগে বন্ধ করা হলো না? সংশ্লিষ্ট এলাকার তদারকি কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা কোথায়?
ভবিষ্যতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি এড়াতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। অবিলম্বে সারা দেশের সিএনজি ও এলপিজি পাম্পগুলোর অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই, সেগুলো অবিলম্বে সিলগালা করতে হবে। একই সাথে, দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
উন্নয়ন মানে কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; প্রকৃত উন্নয়ন হলো নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কক্সবাজারের এই বিস্ফোরণ আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। আমরা আর কোনো ‘অনুমোদনহীন মৃত্যুফাঁদ’ দেখতে চাই না।

















































