সুপ্রভাত ডেস্ক »
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এমপিও অনুমোদন কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে পরবর্তী সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এমপিও কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমপিও অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর আলোকে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি, স্নাতক (পাস) পর্যায়ের ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন রয়েছে।
এতে বলা হয়, নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রাপ্ত আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সাম্যসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়ায় প্রাপ্ত গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করে অর্থ বিভাগের সম্মতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিরূপণ করা হলেও এখনো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্য ও অনলাইন ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তথ্য সরেজমিনে যাচাই করা হবে বলেও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনলাইন তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে এমপিওভুক্তির তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য বা সংবাদ প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এমপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এমপিও অনুমোদনের নামে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (০১৩৩৯-৭৭৪৫২৮) জানাতে বলা হয়েছে।



















































