এবারের জাতীয় নির্বাচনের সমাপ্তি সুন্দর হয়নি : হামিদুর রহমান আযাদ

সুপ্রভাত ডেস্ক »

জাতীয় নির্বাচনের সূচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বড় সহিংসতা দৃশ্যমান ছিল না। তবে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে আমরা অসুস্থ পরিবেশ খেয়াল করেছিলাম। ভোটগ্রহণ সূচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয়নি। প্রচুর জালভোট হয়েছে, কালো টাকা ছড়ানো হয়েছে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা উপাদান ছিল।

তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। যেমন কোনো কেন্দ্রে সেখানে কর্তব্যরত অফিসাররাও নিজেরা ব্যালটে সিল মারার কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। দলীয় কর্মীরাও সিল মেরেছেন। আবার ভোটগ্রহণের সময় ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে, ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আমরা যারা ১১ দল একসঙ্গে ইলেকশন করেছি, তাদের পক্ষ থেকে বারবার কমিশনকে বলা হয়েছে। কিন্তু এটার কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

ভোট গণনার ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টকে ফোর্স করে বের করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আবার যারা ছিলেন, তাদের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়েছে। একটা সুষ্ঠু গণনার যে পরিবেশ দরকার, সেটা কোথাও কোথাও ব্যহত হয়েছে। ভোট গণনার মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায়, ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। রেজাল্টে ঘষামাজা, ওভাররাইটিং ছিল। ভোট গণনার এসব ত্রুটি নিয়ে আজ আমরা কথা বলেছি। ৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে আমাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিশনের কাছে আমরা এটাও বলেছি, আপনারা তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছেন। কারণ ১২ তারিখ ইলেকশন হয়েছে। ১৩ তারিখ রাত ১১টায় গেজেট প্রকাশ হয়েছে। তাহলে একজন লোক পঞ্চগড়-টেকনাফ- কুতুবদিয়া থেকে এসে ১৩ তারিখ অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। ১৪ তারিখ হলে তিনি পারতেন।

হামিদুর রহমান আযাদ, এরইমধ্যে আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে গতকাল লিঁয়াজো কমিটির মিটিং করেছি। শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদ সভা এবং বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছি। কারণ হচ্ছে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। দেশে একটি পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। সেই পার্লামেন্টে রাজনীতির সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হোক। এটাই গণতান্ত্রিক রেওয়াজ।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কনস্টিটিউশনাল প্রসেসে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। একদল ক্ষমতায় আসে, দেশ পরিচালনা করে, পাঁচ বছর পরে আবার ইলেকশন হবে। এবারের নির্বাচনে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়তে চাই। দেশকে সামনে এগিয়ে দিতে চাই, সেই চিন্তা ধ্যান ধারণা সমুন্নত রেখে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

এর আগে বেলা সাড়ে এগারোটায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও ফলাফল শিটে ঘষা মাজার অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে ইসিতে আসেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।