উত্তেজনার মধ্যে শাহবাগ থানায় গিয়ে মারধরের শিকার ঢাবি শিক্ষার্থী

সুপ্রভাত ডেস্ক »

গতকাল বিকেলের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সরাতে পুলিশি অ্যাকশনের মধ্যে পড়ে মারধরের শিকার হয়েছেন শাহবাগ থানায় জিডি করতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

শাহবাগ থানার গেটের কাছেই পুলিশ তাকে পেটায় বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র সাব্বির আহমেদ। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সাব্বির আহমেদ জানিয়েছেন এ বিষয়ে তিনি শিগগিরই শাহবাগ থানায় জিডি করবেন।

জানা গেছে, পুলিশের মারধরের পর তিনি কোনোভাবে দৌড়ে শাহবাগের একটি ফুলের দোকানে আশ্রয় নেন। প্রায় ১ ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হলে পৌঁছে দেয়।

সাব্বির আহমেদের বরাত দিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সাব্বির শাহবাগ থানায় গিয়েছিলেন একটি জিডি করতে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথমে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেন। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর থানার সার্ভার সমস্যার কথা বলে জিডি করতে দেরি হবে বলে জানানো হয়। পরে সে তার বন্ধুকে খুঁজতে থানার সামনে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন এসেছেন? জিডি করতে এসেছেন বলে জানালে তাকে থানার ভেতরে যেতে বলা হয়। ভেতরে ঢোকার সময় থানার গেটের সামনে কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন পুলিশ কোনো কিছু  জিজ্ঞেস না করেই লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারতে থাকেন।

সাব্বির জানান, এতে তার হাত ও পিঠে আঘাত লাগে। ডান হাতের কব্জিতে বেশি আঘাত পাওয়ায় তাৎক্ষণিক এক্স-রে করাতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাকে মারার সময় আমার পকেটে থাকা ফোনটা পুলিশের লাঠির আঘাতে একদম ভেঙে যায়। এই ফোনটা আমার খুবই কষ্টের টাকায়, লোনের টাকায় কেনা। ফোনের টাকাও এখনও সম্পূর্ণ পরিশোধ করিনি। এই ফোন বা এই পরিমাণ টাকা আমার জন্য অনেক বেশি। যেটা আমার সামর্থ্যের বাইরে। এখন আমি ক্ষতিপূরণ চাইবো কার কাছে বা বিচার চাইবো কার কাছে?”

সাব্বির বলেন, “পুলিশ থানা প্রাঙ্গণে আমাকে এভাবে অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। আমি আমার নাগরিক অধিকার নিতে থানায় গিয়ে আহত হয়ে ফিরেছি। কার কাছে বিচার চাইব? থানায় গেলে হয়তো আবারও হামলার শিকার হবো।’’

আজ প্রক্টর অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলেও জানান এই শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেন, “এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তা আমার জানা নেই। গ্যাঞ্জামের মধ্যে এমন কিছু হতে পারে। এমন কোনো অভিযোগ আমাদের থানায় আসেনি।”