ইরান আক্রমণ : যুদ্ধ আর কত কোমল প্রাণ কেড়ে নেবে

বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতি যখন ক্ষমতার দাপট আর আধিপত্য বিস্তারের নেশায় মত্ত, তখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান অভিমুখে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে যে ভয়াবহতা উন্মোচিত হয়েছে, তা কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং মানবতার হৃদপিণ্ডে এক গভীর ক্ষত। বিশেষ করে, এই হামলায় অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি বিশ্ববিবেককে এক চরম কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন অতর্কিত এই হামলায় কয়েক ডজন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। যারা কেবল জীবনের বর্ণমালা শিখতে শুরু করেছিল, যাদের চোখে ছিল আগামীর স্বপ্ন, আজ তারা নিথর দেহ হয়ে পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। একটি দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা সামরিক কৌশল কীভাবে নিরপরাধ শিশুদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। এই হত্যাকাণ্ড কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং এটি একটি সুষ্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, যুদ্ধ মানেই লাশের মিছিল। কিন্তু যুদ্ধেরও কিছু নীতি থাকে, কিছু আন্তর্জাতিক পরিভাষা থাকে। জেনেভা কনভেনশন থেকে শুরু করে জাতিসংঘের চার্টার—সর্বত্রই বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। অথচ ইসরায়েল ও আমেরিকার এই যৌথ অভিযানে সেই ন্যূনতম মানবিক শিষ্টাচারের লেশমাত্র দেখা যায়নি। ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ বা ‘সন্ত্রাসবাদ দমন’-এর দোহাই দিয়ে যেভাবে জনবহুল এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা বিশ্বশক্তির কাছে জোরালো আবেদন জানাই—যুদ্ধ বন্ধ করুন। ক্ষমতার লড়াইয়ে নারী ও শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হোক। মায়েরা যেন তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, সেই ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর মৃত্যু মানে কেবল একটি প্রাণের বিনাশ নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যু।
আমরা আহ্বান জানাই আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং জাতিসংঘের প্রতি, যাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করা হয় এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়। যুদ্ধের দামামা থামিয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধান খুঁজুন। মনে রাখবেন, প্রতিহিংসা কেবল প্রতিহিংসাই জন্ম দেয়, শান্তি নয়। আসুন, আমরা এমন এক পৃথিবী গড়ে তুলি যেখানে আকাশের বুক চিরে বৃষ্টির বদলে আর কখনো মরণঘাতী মিসাইল ঝরে পড়বে না।