ইরানে হামলা : এই উন্মত্ততার তীব্র নিন্দা জানাই

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আজ বারুদের গন্ধে ভারী, আর মাটির বুক চিরে বেরোচ্ছে স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে যে ব্যাপক হামলা, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিবেকের মুখে এক চরম চপেটাঘাত। এই বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিটি ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুদ্ধের এক নতুন দাবানল জ্বালিয়ে দিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রতিশোধ কিংবা সামরিক কৌশলের অজুহাতে চালানো এই হামলায় বাদ যায়নি বেসামরিক জনপদ, হাসপাতাল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ব্যবহার করে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ নেই। নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার এই দৃশ্য প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ এখন কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের শোবার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমরা এই পাশবিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অশান্তি রোধ এবং শান্তি স্থাপনের প্রধান অভিভাবক হলো জাতিসংঘ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের টানাপোড়েনে জাতিসংঘ আজ অনেক ক্ষেত্রে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। ইরানে চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে যেখানে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা কাম্য ছিল, সেখানে আমরা দেখছি কেবল ধীরগতির নিন্দা প্রস্তাব আর কূটনৈতিক দীর্ঘসূত্রতা। যখন শক্তিশালী দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে, তখন বিশ্ব সংস্থার নীরবতা বা দুর্বল প্রতিক্রিয়া বাকি বিশ্বের কাছে এক ভুল বার্তা পাঠায়।
আমরা বিশ্বাস করি, বুলেট কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র কখনোই দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। বরং প্রতিটি সংঘাত জন্ম দেয় পরবর্তী প্রজন্মের মনে এক গভীর ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা। তাই এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত-কোনো শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে হামলা বন্ধ করা। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।সামরিক শক্তির বদলে টেবিলের আলোচনায় সংকটের সমাধান খোঁজা। ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা ।
বিশ্ব আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা কি শক্তির দাপটে আইনকে পদদলিত হতে দেখব, নাকি ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ব? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই আগ্রাসন বন্ধে কেবল নিন্দা যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান—আপনাদের মূল আদর্শে ফিরে আসুন। যুদ্ধের এই মহোৎসব বন্ধ করে পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনুন। মনে রাখতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বললে তার উত্তাপ থেকে বিশ্ব নিরাপদ থাকবে না।