৮ বছর পর নাসের হুসেনকে স্লেজিংয়ের পাল্টা জবাব কাইফের

0
274

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক :
২০০২ অভিজাত লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনাল।আনকোরা এক তরুণ ব্যাটসম্যানের ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে মেগা ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংরেজদের। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে রান তাড়া করে সেরা পাঁচটি জয়ের তালিকায় নিঃসন্দেহে থাকবে ৩২৬ রান তাড়া করে ভারতের সেই জয়। কিন্তু ব্যাট হাতে ভারতের ম্যাচ জয়ের নায়ক সেদিন ব্যাট হাতে ক্রিজে নামার আগে স্লেজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন তৎকালীন ইংরেজ অধিনায়ক নাসের হুসেনের। মুহম্মদ কাইফকে ওই ম্যাচে ‘বাস ড্রাইভার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন ওই ম্যাচের একমাত্র শতরানকারী নাসের। জীবনের প্রথম এবং শেষ ওয়ানডে শতরান করে ইংরেজ অধিনায়কের সেলিব্রেশন নজর কেড়েছিল অনুরাগীদের।
সে যাইহোক সম্প্রতি স্কাই স্পোর্টসের একটি ক্রিকেটীয় পোডকাস্টে স্মরণীয় সেই ম্যাচের স্মৃতিতে ডুব দিয়েছিলেন বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেন। ফিরে দেখা সেই মেগা ফাইনালের স্মৃতি রোমন্থন করে নাসের হুসেন বলেন কাইফ যখন ব্যাট হাতে নামছিল ওইদিন, ওকে ‘বাস ড্রাইভার’ বলে সম্বোধন করেছিলাম। প্রাক্তন ইংরেজ অধিনায়কের কথায়, ‘ছেলেটা (কাইফ) ওইদিন জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলেছিল। ওই ইনিংসটার জন্য ও সারাজীবন মনে থাকবে।’
স্লেজিং প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের শতরানকারী বলেছেন, ‘মনে আছে ওকে ব্যাটিংয়ে নামতে দেখে সামান্য স্লেজিং করেছিলাম। কারণ তখন ওদের ৫ উইকেট চলে গিয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ একটা বলেছিল- কে এটা? আমি জবাব দিয়েছিলাম, বাস ড্রাইভার হবে হয়তো, মনে হয় টেন্ডুলকারকে বাসে নিয়ে ঘোরে।’ ম্যাচ জিতিয়ে কাইফ কিছু না বললেও সেদিন একটা তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল আমার দিকে। জানিয়েছেন নাসের। তিনি আরও বলেন, ‘এটা টেন্ডুলকার কিংবা সেহওয়াগ হলে তবু মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু দুই অজানা তরুণ ব্যাটসম্যান সেদিন যা করেছিল তাতে ভারতীয় ক্রিকেট অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল।’
পোডকাস্টে ২০০২ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ফাইনাল নিয়ে নাসেরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার অডিও ক্লিপিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে স্কাই স্পোর্টস। পাল্টা সেই অডিও ক্লিপিংটি শেয়ার করে কাইফ ১৮ বছর আগে নাসেরের সেই স্লেজিংয়ের জবাব দিলেন সম্প্রতি। কাইফ লিখলেন, ‘নাসের হুসেন, ধন্যবাদ ওইদিনের ইনিংসটাকে যেটা বাস ড্রাইভার দারুণভাবে ড্রাইভ করেছিল।’
উল্লেখ্য, ৩২৬ রান তাড়া করতে নেমে ওই ম্যাচে ১২৯ রানে ৫ উইকেট খুঁইয়ে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল ভারত। সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে যুবরাজ-কাইফের ১২৩ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচ জিততে সাহায্য করে ভারতকে। যুবরাজ ৬৩ বলে ৬৯ রান করে আউট হলেও ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন কাইফ। ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে ভারত।
খবর : কলকাতাটোয়েন্টিফোর’র।