১৪২ বছর ধরে টিকে আছে ‘জোয়ারার পাগলা গারদ’

0
148

চলছে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য ছাড়াই

মো. নুরুল আলম, চন্দনাইশ <<

প্রায় ১৪২ বছর আগে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা দিতে চন্দনাইশে গড়ে উঠে দামোদর ঔষুধালয়। কবিরাজ নিশি চন্দ্র দাশের গড়ে তোলা এ চিকিৎসালয়ে মানসিক রোগীদের সুস্থ করতে দেয়া হয় আর্য়ুবেদিক চিকিৎসা। তাদের এ চিকিৎসায় স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন সহস্রাধিক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে চন্দনাইশ পৌরসভার জোয়ারা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ চিকিৎসালয় ধীরে ধীরে পরিচিতি পায় জোয়ারার পাগলা গারদ নামে।
১৮৮০ সালে একর জমিজুড়ে সরকারি অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। দামোদর ঔষুধালয় হিসেবে নামকরণ করা হলেও এটি প্রথমে নিশি বৈদ্যের বাড়ি পরে জোয়ারার পাগলা গারদ নামে পরিচিতি পায়। সেই থেকে এখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি সাহায্য ছাড়াই আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে আছে এটি।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে চিকিৎসাসেবা দিতো প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিশি বৈদ্যের গড়ে তোলা এ পাগলা গারদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধ্বংস করা হয় কবিরাজী ওষুধ কারখানাও। দেশ স্বাধীনের পর ধার-কর্জ করে পুনরায় এ মানসিক হাসপাতাল চালু করা হলেও তা আর আগের রূপ ফিরে পায়নি। নিশি বৈদ্য বাড়ির ঐতিহ্য বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরেন কবিরাজ নিশি রঞ্জন দাশের ছেলে কবিরাজ চিত্ত রঞ্জন দাশ।
বর্তমানে ৬ জন পুরুষ ও একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর চিকিৎসাধীন এখানে। সাধারণ রোগীর ভর্তি ফি বাবদ ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা নেয়া হয়। কেউ ভর্তি করিয়ে ভরণ-পোষণ চালায়, আবার কেউ ভরণ-পোষণ তো দূরের কথা রোগীর খোঁজই নেন না।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, দুটি বিশাল আয়তনের মাটির ঘরে চালানো হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ঘর দুটিতে ছোট ছোট কক্ষে রাখা হয়েছে রোগীদের। আছেন কেয়ারটেকার। যিনি খাওয়া-দাওয়াসহ রোগীদের যাবতীয় বিষয়াদি দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার রোগী রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অধিক জটিল রোগীর চিকিৎসা সম্ভব না হলে তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের একমাত্র আয়ুর্বেদি মানসিক ভারসাম্যহীনদের চিকিৎসালয়ের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক পীযুষ সেন জানান, তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বৃক্ষ, গুল্ম, লতা-পাতা ও বিভিন্ন ওষুধি দ্রব্যের সাহায্যে প্রস্তত করা ওষুধ ব্যবহার করা হয় চিকিৎসায়। কোনো ধরনের এলোপ্যাথিক বা অন্য কোন ওষুধ রোগীদের দেয়া হয় না।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীনদের সুস্থ হওয়ার রেকর্ড শতকরা ৮০ ভাগ। আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত কোন ব্যবস্থা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, সরকারি বা বেসরকারি কোন বিভাগ বা সংস্থা থেকে কখনও কোন সাহায্য পাওয়া যায়নি। আর্থিক টানাপোড়নের কারণে ইচ্ছা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। রোগীদের চিকিৎসায় পাওয়া অর্থে কোনোমতে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। বাণিজ্যিক নয়, শুধু সেবাব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালানো হচ্ছে। আয়ুর্বেদিক ওষুধ মানসিক বিকারগ্রস্তদের রোগ নিরাময়ে যতটুকু উপকারি সেরকম অন্যান্য ওষুধ দিয়ে তা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।