হেফাজত আমির আল্লামা শফি আর নেই

0
260

হাটহাজারী মাদ্রাসায় আজ জোহরের নামাজের পর জানাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০১৩ সালে ১৩ দফা দাবি নিয়ে আলোচনায় আসা হেফাজতে ইসলামের আমীর ও আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি আর নেই। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তিনি ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৪ বছর।
বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার শূরা কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধান পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আহমদ শফি। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১ টার দিকে আহমদ শফিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর হৃদপি- অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেডিক্যাল বোর্ডে বসেন। শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দুপুরে চিকিৎসকরা আহমদ শফিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বিকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় এনে আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ এই আলেমের মৃত্যুতে সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গতকাল রাতে আজগর আলী হাসপাতাল থেকে আহমদ শফির মরদেহ ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় জোহরের নামাজের পর তার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
আহমদ শফি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট এবং হজমজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
গত ৭ জুন তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। ৮ দিন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি আগের মতো আর স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেননি। তাঁকে রাইস টিউব (নাকে নল) দিয়ে শুধু তরল খাবার খাওয়ানো হতো। তিনি ভালোভাবে কথাবার্তা বলতে পারতেন না, হাঁটাচলাও করতে পারতেন না।
আহমদ শফি ১৯১৬ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে এক অভিজাত সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম বরকত আলী।
আহমদ শফি ১৯৮৬ সালে তিনি হাটহাজারী দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রধান পরিচালকের দায়িত্ব নেন। একটানা গত ৩৪ বছর ধরে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ( বেফাক) চেয়ারম্যান ছিলেন।
আহমদ শফি গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমিরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।