হিসাবের বাইরে উপসর্গের মৃত্যু!

0
388

একদিনে করোনা উপসর্গে মৃত্যু ১৭ জন #

শুভজিৎ বড়ুয়া :
করোনা আক্রান্তরা নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার অনেকে করোনা উপসর্গ নিয়েও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের নাম নেই স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেবের তালিকায়। অথচ দিন দিন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
সোমবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক দুই হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের সমন্বয়ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. আব্দুর রব বলেন, ‘হাসিনা বেগম (৬০) নামের জেনারেল হাসপাতালের একজন স্টাফ করোনা উপসর্গ নিয়ে রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে আনা হয়। আজ ( সোমবার) সকালে আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’ এছাড়া করোনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে মারা গিয়েছে একজন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি আইসোলেশনে থাকায় দৈনিক দুইবার তথ্য সংগ্রহ করি। রোববার রাত ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চমেক হাসপাতালে ১৯ জন মারা গেছেন। তারমধ্যে তিনজন পজেটিভ ছিলেন। এছাড়া বাকি ১৬ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।’
করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোন হিসেব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান এর কাছে। তিনি বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের হিসেব প্রকাশিত হচ্ছে। আর যারা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন, তাদের হিসেব প্রকাশিত হচ্ছে না। এখন দেখতে হবে স্বাস্থ্য দপ্তর সে হিসেবটি রাখছে কিনা। তারা যদি হিসেব রাখে তাহলে তা আমাদের গণনার জন্য সুবিধা হবে। তবে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ আমাদের ঢাকা অফিসের টেকনিক্যাল কমিটি সিদ্ধান্ত নিবেন। উনারা যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে অর্থাৎ করোনা সংকট চলাকালীন সময়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের হিসেব নিতে বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা হিসেবটি সংগ্রহ করবো। অন্যথায় আমরা এ হিসেবটা আর নিবো না। তবে আমাদের কাজের সুবিধার জন্য হিসেবেই তারা রাখছেন কিনা সেটা জানার প্রয়োজন আছে।’
হিসেব রাখা হচ্ছে কিনা তা জানতে চাওয়া হয় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের গঠিত মোকাবেলা কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমানের কাছে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন এবং উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের হিসেব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাখছেন। তবে অনেকে রোগ গোপন করে করোনা উপসর্গ নিয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অনেকে বাসাতে মারা যাচ্ছেন। এই হিসাবটা হাসপাতাল বা আমাদের কাছে নেই।’
প্রসঙ্গত, গতকাল চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৮৫ জন। তারমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২২৪ জন। আর আজকের একজন কোভিড পজেটিভ রোগীসহ মারা গেছেন ৭৬ জন।