সুরের বাঁধনে একলা রনবীর

34

কায়সার মোহাম্মদ ইসলাম :

(পরবর্তী অংশ)

বাসার সিঁড়িতে উঠতেই বিপুল দাসের সাথে রনবীরের দেখা। রনবীর  যেচে কথা বলতে চাইলেও বিপুল দাস মাথা নিচু করে সুড়সুড় করে  পেরিয়ে গেল বাড়ির গেট। তৃতীয় তলার বেল বাজাতে গিয়ে সাইনবোর্ডে চোখ পড়তেই সে থমকে দাঁড়ায়, ডা. বিপুল দাস, এমবিবিএস…

মিনিট পাঁচেক পরে সে কলিংবেলে চাপ দেয়। আজ ছোটবোন ইন্দ্রাণী দরজা খুললো না; খুললো সুলেখা চৌধুরী। মায়ের চোখে চোখ রাখতেই রনবীর  প্রশ্ন করে, মা কোনো সমস্যা?

হাত-মুখ ধুয়ে রুমে বস; তোর সাথে কথা আছে।

হাত-মুখ ধুয়ে খাটে হেলান দিতেই ইন্দ্রাণীর প্রবেশ।

দাদা কেমন আছো?

খুব একটা ভালো নাই রে।

ইনসুরেন্স কোম্পানির জন্য কোনো ক্লাইন্ট পেলে?

না রে, অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কেউ তো সাড়া দিল না, বোন।

দাদা, তোমার জন্য একটা দুঃসংবাদ আছে। তোমাকে আগামী জুন মাসের মধ্যে বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে। কলকাতা থেকে আমার ননদ রাখি জুনের ত্রিশ তারিখ সপরিবারে এই ঘরে উঠবে।

অসুবিধা নাই। আমি পারলে জুনের শুরুতেই রুমটা খালি করবার চেষ্টা করবো।

বাইরে বাতাস বইয়ে যাচ্ছে। রনবীরের খোলা জানালায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা ঢুকতে শুরু করে। সে তার পেইন্টিংগুলো সরিয়ে রাখার প্রয়োজন বোধ করে না। তার মনে হচ্ছে আর্টকলেজে পড়া, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ব্যাংকের চাকরিÑ এসব আসলে অর্থহীন। আর  যেটা সবচেয়ে জরুরি ছিল, সেটা হচ্ছে ম্যাচুরিটি বা আত্মদর্শন অর্জন। কিন্তু আনফর্চুনেটলি তাকে এই ম্যাচুরিটি অর্জনের জন্য অক্ষো করতে হল দীর্ঘ ৪৫টি বছর। এবার বিখ্যাত হওয়ার সকল ঝামেলা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন বেছে নেব। প্রয়োজনে রিকশা চালাবো, রনবীর ভাবলো।

দেখতে দেখতে জুন মাসের ২৫ তারিখ পেরিয়ে যায়। রনবীরের কোনো  চৈতন্যোদয় ঘটে না। সুলেখা চৌধুরী দরজায় কড়া নেড়ে বলেন, বাবা, বাসা খুঁজে পেয়েছিস? উত্তরে বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে রনবীর বলে, মনে করিয়ে দিয়ে খুব ভালো করেছ। আমার তো ব্যাপারটা মনেই ছিল না।

সারাজীবন খামখেয়ালি থেকে যাবি তোর বাবার মতন? কত অপমান সহ্য করেছি জীবনভর। তোর মতো পুত্রসন্তান থাকতে মেয়ে আর জামাইবাবুর ঘাড়েই জীবন কাটিয়ে দিতে  হলো।

সুলেখা চৌধুরীর অশ্রুসিক্ত চোখ দেখে রনবীর দাঁড়িয়ে মাকে সান্ত¡না  দিতে থাকে, ‘মা ইন্দ্রাণীকে চিন্তা করতে নিষেধ করো, আমি ঠিক ২৯ তারিখের মধ্যেই এই বাসা ছেড়ে চলে যাবো।’

হঠাৎ ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে দেখে রনবীরের প্রাণ আনন্দে মেতে ওঠে। সে হারমোনিয়ামে হাত রেখে নিয়মমাফিক কন্ঠসাধনায় মন দেয়। বালিশের ওপর মোবাইলফোনটা বেজে ওঠে। মিলির ফোন।

দাদা, নতুন বাসার খোঁজ পেলে?

বাসা না বলে মাথাগোঁজার ঠাঁই বললে এপ্রোপ্রিয়েট হতো।

এই মাসের ২৯ তারিখেই তো তোমার রুম ছেড়ে দেয়ার কথা।

তোমার কাছে কোনো খবর আছে?

তুমি চাইলে আমাদের ৭ তলার চিলেকোঠায় ওঠে যেতে পারো। আমি উদয়ের সাথে কথা ফাইনাল করে তোমাকে জানাচ্ছি।

ঐন্দ্রিলার ফোন আসে, বাবা তুমি কেমন আছ?

কথা বলতে বলতে রনবীর ঘুমিয়ে পড়ে। সে স্বপ্ন দেখছে, কলকাতা ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ তার একক চিত্রপ্রদর্শনী হচ্ছে। প্রচুর দর্শক ভিড় করেছে। সে ইন্টারভিউ দিচ্ছে ভারতের প্রথমসারির টিভি চ্যানেলের উদ্দেশ্যে। প্রথমে হিন্দিতে, তারপর বাংলায়, তারপর ইংরেজিতে। ইংরেজি বলতে বলতে তার ঘুম ভেঙে যায়।

বিছানা থেকে ওঠেই তার পেইন্টিংগুলি পরখ করে। না, এখনও ওগুলো আগের মতই আছে। বৃষ্টির পানি কোনো পেইন্টিংই স্পর্শ করতে পারেনি।

বিকেল ৫টায় আবার মিলির ফোন আসে। রনবীর ফোন রিসিভ করতেই মিলি বলে, দাদা, উদয় শংকর তোমার সাথে কথা বলতে চায়। বহুদিনের বৈরী স্মৃতি কাটিয়ে রনবীর বলে, আদাব দাদা, কেমন আছেন?

উদয় : প্রথমে আমি তোমার কাছে অতীতের মন্দ ব্যবহারের জন্য অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সত্যি আজ থেকে ২০ বছর আগে তোমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলাম। এখন তো মনে হয়, জলির সাথে তোমার বিয়েটা হলে আমার বোনটি অনেক সুখেই থাকতো। অবশেষে যার কাছে তাকে তুলে দিলাম, সে ছিল এক নারীলোভী, লম্পট, কুলঙ্গার আর সর্বভুক।

রনবীর : সেসব বলে আর কী হবে? আপনি আমার কাছে এখনও সেই সিনিয়র ক্লাসের উদয় শংকরদা, যার নেতৃত্বে আমরা ‘নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ জিতেছিলাম।

উদয় হাসতে হাসতে বলে, তোমার তো দেখি সবই মনে আছে?

রনবীর : জলির অসুখের কথা শুনলাম। আর শুনে খুব দুঃখ পেলাম। জামাইবাবু নাকি তাকে প্রায় সময় মারধর করতো। এমন কি ক্যানসার  রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও!

থাক সেসব কথা। কান্না জড়িতকন্ঠে উদয় শংকর বলে,  চাইলে তুমি আমাদের ছাদের চিলেকোঠায় আজীবন কাটিয়ে দিতে পারো। ওখানে দুটো রুম, রান্নঘর আর বাথরুম আছে, গ্যাসলাইনও আছে। এখন থেকে তুমি আমাদের সাথে খাবে-দাবে, বিনিময়ে তোমার কাছে আমাদের একটিই চাওয়া। আমাদের মেয়ে দুটিকে ছবি আঁকা শেখাবে।

তাতো বটেই। মামণি দুটোর নাম কি জানি?

ক্যাটেরিনা আর ক্যারিনা, দুজনই ক্লাস সেভেনে পড়ে।

পরদিন সকালেই রনবীর মালপত্র নিয়ে মিলিদের চিলেকোঠায় ওঠে এলো। দুপুরে মিলির হাতের রান্না খেয়ে মনে হল, অনেকদিনের জমে থাকা ক্ষুধা কিছুটা হলেও মিটলো। সেই সাথে উদয় শংকরের আতিথেয়তা রনবীরের জীবনটাকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও ধন্য করে দিল।

বিশাল ছাদ আর রনবীরের চিলেকোঠাটা ছাদের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিম  কোণে। রনবীর গান ধরেছে, আমি তোমার সঙ্গে  বেঁধেছি আমার প্রাণ … মিলি চুপি চুপি জানালায় উঁকি মেরে বলে, দাদা পৃথিবীতে কি শুধু এই একটি গানই আছে?

না, আসলে এই গানটি ইদানিং গাইতে বেশ ভালো লাগছে। তাছাড়া…

তা ছাড়া কি, মিলি প্রশ্ন করে

দেখ এই যে আমি, যাকে তুমি সম্মুখে দেখছ, সে জীবনে কখনও ভালোবাসাকে আলিঙ্গন করতে শেখেনি। কিন্তু ঠিক এই সময়টাতে ভালোবাসা যে তার কতটা প্রয়োজন, সেটার ব্যাখ্যা সে তোমাকে দিতে পারবে না। কারণ সেই ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার মতো যথেষ্ট  ভাষার সম্ভার তার নেই।

মিলি এবার সিঁড়িঘরের দিকে দৃষ্টি রেখে বলে, দাদা দ্যাখো, কাকে নিয়ে এসেছি।

রনবীর দেখলো, হালকা-পাতলা গড়নের শীর্ণকায় এক নারী তার দিকে হাসিমুখে এগিয়ে আসছে। অনেক্ষণ পর চিনতে পেরে বলে, ও জলি! কতদিন পর, কেমন আছ ? জলি আগবাড়িয়ে রনবীরের হাত দুটি ছুঁয়ে  ফেলে। (মানুষ কতো অসহায় সময়ের কাছে, অথচ ২০ বছর আগে এই জলিকে শুধু একবার ছুঁয়ে দেখতে তাকে কত  মেহনত করতে হয়েছে, রনবীর ভাবে।)

জলি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। জোরে শ্বাস নিতে থাকে। সে মিলির সাহায্যে খাটে বসে পড়ে, তারপর ধীরে ধীরে সংকোচ ভেঙে গা এলিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর রনবীরের দিকে চোখ তুলে বলে, দাদা গাও না সেই গানটা  যেটার সাথে আমি প্রায়ই তবলায় সঙ্গত করতাম।

ওহ, বলে রনবীর গাইতে থাকে, তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী …

খাটের পাশে তবলা আর বাঁয়াজোড়া দেখতে পেয়ে জলি আবার বসে পড়ে। তবলায় বোল দিতে শুরু করে। কিছুক্ষণ বাজিয়ে বলে, দাদা তুমি  তো দেখি আগের মতই তালকানা রইয়ে গেলে! রনবীর হাসতে থাকে। তারপর জলির চোখাচোখি হয়ে বলে, তুমি আমাকে দাদা ডাকছ কেন? আগের মতোই সম্মোধন কর। সিঁড়িঘর থেকে লম্বা পা ফেলতে ফেলতে উদয় শংকরও আড্ডায় যোগ দিতে আসে। রনবীর ছাঁকনিতে চায়ের পানি ঢালতে ঢালতে বলে, দাদা মনে আছে, সেই স্কাউট জীবনে তুমি আমাদের চা বানিয়ে খাওয়াতে।

হ্যাঁ, মনে থাকবে না কেন? চায়ের পর্ব চলতে থাকে …

সন্ধ্যা নামলে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। মিলি আর উদয় জলিকে  দোতলায় নিয়ে যায়। রনবীর আবার একা হয়ে পড়ে।

কার্টিজ পেপারে প্যাস্টেল ঘষে ঘষে মনের আনন্দে ছবি আঁকছে ঐন্দ্রিলা। তার পাশে বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকছেন গায়ত্রী।

মা, গত দুমাসে তোমার প্রায় ৬টি ছবি বিক্রি হয়ে গেল। আমাদের আর অভাব থাকবে না।

দেখা যাক, তোমার সম্ভু কাকুর দোকান থেকে আরও কিছু অর্ডার আসার কথা। এবার টাকা পেলে আমরা দিল্লি ঘুরে আসবো। বড় মামার বাসায় উঠবো।

কেন মা, আমরা বাংলাদেশে যাবো না বাবাকে নিয়ে আসতে? গায়ত্রী কথা ঘুরিয়ে বলে, বাঃ তোমার ছবিটা তো বেশ মজার হয়েছে। তুমি  তো দেখি ইম্প্রেশনিস্ট স্টাইলের ছবি আঁকা শুরু করেছ।

হ্যাঁ মা, বাবার কাছ থেকে পাওয়া জন্মদিনের উপহার, ‘দি পোস্ট ইম্প্রেশনিস্ট’ বইটি আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছে। এখন দেখছি আনমনেই ঝিরিঝিরি স্ট্রোকের রঙবেরঙের ছবি আঁকা হয়ে যাচ্ছে।

মোবাইল ফোনটা নিয়ম মাফিক বেজে ওঠে। ঐন্দ্রিলা ভিডিওকলটি রিসিভ করে বলে, বাবা দেখ, আমি নতুন কিছু ছবি এঁকেছি! অন্যপ্রান্ত থেকে রনবীর উত্তর দেয়, বাহ, খুব সুন্দর হয়েছে মামণি। আমার নতুন কাজ দেখবে? হ্যাঁ বাবা …

মোবাইলফোনটা টেবিলে রাখতেই জলি বলে ওঠে, ঐন্দ্রিলা কত বড় হয়েছে ও? এই যে আগামী মাসেই ষোলতে পা রাখবে। জলিকে আজ  বেশ প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে। এ যেন কোনো ঐশ্বরিক ছোঁয়া। যখনই সে রনবীরের সাথে আলাপচারিতায় মগ্ন থাকে, তখনই তার চেহারায় একটা দ্যুতি ফুটে ওঠে। জানালা দিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা মিলি বলে ওঠে, একেই তো বলে প্রেম।

রনবীর: এটা প্রেম নয়, এটা বন্ধুত্ব।

জলি : ঠিক বলেছ। আমাদের এই বয়সে বন্ধুত্বটাই আসল। দুজনের মননশীলতা শেয়ার করার প্রধান মাধ্যম।

মিলি : হ্যাঁ আসলেই। একটা সময়ে এই বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

রনবীর চা তৈরিতে মনোযোগ দেয় আর জলিকে উদ্দেশ করে বলে, চায়ে কি চিনি দেব?

অবশ্যই, তবে মিলিকে দিও না।

হঠাৎ বৃষ্টি নামে। মিলি, জলি সবাই নীড়ে ফিরে যায়। রনবীর ছবি আঁকাতে মনোনিবেশ করে। ইলেস্ট্রেশনের কাজগুলো আগামী পরশু দিনই মনোয়ারকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

একরাতে উদয় শংকরের পুরোনো গাড়ির শব্দে রনবীরের ঘুম ভেঙে যায়। সে দ্রুত সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতেই দেখে, সবাই ধরাধরি করে অসুস্থ জলিকে গাড়িতে তুলছে। রনবীরকে দেখে উদয় শংকর বলে, বুঝলে, অনেক চেষ্টা করেও একটা এ্যম্বুলেন্স ম্যানেজ করতে পারলাম না। তাই ভাঙা গাড়িতে জলিকে হসপিটাল নিয়ে যাচ্ছি।

গাড়ি ছুটে যায় গন্তব্যে। দারোয়ান আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়াতে, রনবীরকেই বাড়ির গেটটা বন্ধ করতে হলো অবশেষে। অন্ধকারে ৭ তলার সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হাঁপিয়ে ওঠে সে। তারপর ছাদের ঠান্ডা বাতাসে গা এলিয়ে দিয়ে তারার মেলা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্ন দেখছে : গায়ত্রী তাকে বলছে, ঐটা হচ্ছে ‘অ্যাকোয়ারিয়াস’ আর ঐ-ঐ দূরেরটা হচ্ছে ‘জ্যামিনাই’ …।

বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগতেই রনবীরের ঘুম ভেঙে যায়। গায়ত্রী আর ঐন্দ্রিলার সান্নিধ্যের জন্য হঠাৎ করে সে অস্থির হয়ে ওঠে। এমন সময় মিলির ফোন আসে, দাদা জলি আর বেঁচে নেই।

কখন?

এই তো রাত ৩.৩০ টায় সে শেষ নিশ্বাসটা নিয়েছে আমার কোলে মাথা  রেখে। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

জলির মৃত্যু সংবাদে রনবীর অনুভূতিহীন। তার কাছে জলি হলো ২০ বছর আগে মরে যাওয়া এক পুতুল। যে আবার নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে তার কাছে ফিরে এসেছিল। তবে গায়ত্রী পুতুল নয়। গায়ত্রী হচ্ছে স্বর্গ  থেকে নেমে আসা অনিন্দ্যসুন্দর মনের এক নারী। তার যদি এখন দুটো ডানা থাকতো তাহলে সে অবশ্যই কলকাতায় উড়ে যেত আর গায়ত্রীর জানালায় দাঁড়িয়ে গাইতো, আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে …