সিনহা হত্যা দুই আসামির দায় স্বীকার

0
285

প্রদীপ আরও একদিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরখাস্ত এসআই লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর প্রধান আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে আরো একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

(৩১ আগস্ট) সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা দিকে নন্দদুলাল রক্ষিতকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে আনা হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকাল সোয়া তিনটার দিকে কারাভ্যানে করে তাকে জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে (৩০ আগস্ট) রোববার বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরখাস্ত এসআই লিয়াকত আলী একই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  দেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের দুইজনকেই কারাভ্যানে করে জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওই মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে আনা হয়।  সেখানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল ইসলাম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য পুনরায় ১ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে শুনানি  শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে ওসি প্রদীপসহ তিন আসামির  স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

জবানবন্দি শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের এসএসপি খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি এসআই লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত জিজ্ঞাসাবাদে সিনহা হত্যা সম্পর্কে যা স্বীকার করেছে আদালতের কাছেও একই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

র‌্যাব সূত্র মতে, আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরো সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চারদিন রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরো চারদিনের আবেদন করা হলে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। এরপর প্রধান দুই আসামি আদালতে তাদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেওয়ার পর জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়। অপর আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে আরো অধিকতর তথ্য উদঘাটনের জন্য পুনরায় ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান।

ঘটনার পর পুলিশ বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে  গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দি দেন। যার কারণে এ তিন পুলিশ সদস্যও কারাগারে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। পরে আরো ছয়জনকে আসামি করা হয়। দু’জন ছাড়া সব আসামি  গ্রেফতার হয়েছেন।