সাফল্য ও স্তিমিত হওয়ার কারণ

চট্টগ্রামে ব্রাহ্মধর্ম

এন. এইচ. এম. আবু বকর

ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা ছিল এক অস্থির সন্ধিক্ষণ। একদিকে মধ্যযুগীয় অন্ধ সংস্কার আর ধর্মীয় গোঁড়ামির নিগড়, অন্যদিকে পাশ্চাত্য শিক্ষার আলোকপ্রাপ্ত নব্য প্রজন্মের যুক্তিবাদী বিদ্রোহ। এই সংঘাতের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া রাজা রামমোহন রায় ( ১৭৭২-১৮৩৩) প্রবর্তিত ব্রাহ্ম আন্দোলন কেবল কলকাতার নগরকেন্দ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পূর্ববঙ্গের জনপদগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো প্রান্তিক কিন্তু সামাজিকভাবে সচেতন এলাকায় ব্রাহ্মধর্মের আগমন এক বিরাট পরিবর্তনের ঢেউ তুলেছিল। চট্টগ্রামের সমাজ সংস্কারে এই আন্দোলনের সাফল্য যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি এর প্রভাব স্তিমিত হওয়ার কারণগুলোও অত্যন্ত সুগভীর এবং বহুমাত্রিক। ধর্মতাত্ত্বিক জটিলতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, ব্রাহ্মধর্ম শেষ পর্যন্ত একটি ‘আলোকিত বৃত্তের’ মধ্যে বন্দি হয়ে পড়েছিল।
চট্টগ্রামে ব্রাহ্মধর্মের যাত্রাপথ সুগম করেছিলেন একদল নিষ্ঠাবান সমাজ সংস্কারক। ১৮৫৫ সালে চট্টগ্রামের তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হরিমোহন চৌধুরীর ভূমিকা এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। তার উদ্যোগে বদরপাতি এলাকায় প্রথম ব্রাহ্ম উপাসনা শুরু হয় এবং এর পর থেকেই স্থানীয় শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্তের মধ্যে এক নতুন চেতনার জন্ম হয়। এই হিসেবে হরিমোহন চৌধুরীকে চট্টগ্রামের ব্রাহ্ম আন্দোলনের আদি পুরুষ বলা চলে। তার সমসাময়িক চট্টগ্রামের মুন্সেফ হিসেবে কর্মরত কাশীশ্বর মিত্রও ব্রাহ্মসমাজের প্রসারে তার সহযোগী ছিলেন। (তিনি ও হরমোহন চৌধুরী মিলে চট্টগ্রামে ব্রাহ্মধর্মের প্রচার শুরু করেন এবং তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের বাধা সত্ত্বেও উপাসনা চালিয়ে যান।) দুজনের প্রচেষ্টায় ও তত্ত্বাবধানে ১৮৫৫ থেকে ১৮৬০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত স্থানীয় রক্ষণশীল সমাজের বাধা সত্বেও ব্রাহ্ম সমাজের উপাসনা পরিচালিত হয়।
এরপর স্থানীয়দের মধ্য থেকে রজনীকান্ত সেন (১৮৪১-১৯০১) প্রথম চট্টগ্রামের ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও আচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে এই আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলে। ১৮৬৫ সালে কেশবচন্দ্র সেন (১৮৩৮ -১৮৮৪) চট্টগ্রাম সফরে এলে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরবর্তীতে এই আন্দোলনকে আরও পূর্ণতা দান ও সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সমাজ সংস্কারক নবীনচন্দ্র দত্ত (১৮৫৩ -১৯০৯),ও হরিশচন্দ্র দত্ত (১৮৫২-১৯১৪)। অনেক সময় তারা দুজন একত্রে উপাসনা সভা পরিচালনা ও আধ্যাত্মিক আলোচনার নেতৃত্ব দিতেন। তবে ১৮৮০ সালে হরিশচন্দ্র দত্ত যখন আচার্যের পূর্ণ দায়িত্ব নেন, তখন চট্টগ্রামের ব্রাহ্ম সমাজ একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং ১৮৮১ সালে পাথরঘাটায় নিজস্ব মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়, যা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০০৯ সালে নবীনচন্দ্র দত্তের উদ্যোগে মোমিন রোডের বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয় । মূলত পৌত্তলিকতা ও কুসংস্কারমুক্ত একেশ্বরবাদী সমাজ গঠন এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন তৎকালীন চট্টগ্রামের রক্ষণশীল সমাজে আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রসারে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে।
চট্রগ্রামের ব্রাহ্ম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাফল্য ছিল নারী শিক্ষার প্রসার। এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নবীনচন্দ্র দত্ত ১৮৭৮ সালে একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ব্রাহ্ম সমাজ ও অন্নদাচরণ খাস্তগীরের সহায়তায় এটি ডাঃ খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণতা পায় — যা এখনও চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে অগ্রগণ্য।
চট্টগ্রামে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র বা ছাপাখানা শুরুর ক্ষেত্রেও ব্রাহ্ম সমাজের নেতাদের অবদান স্মরণীয়। ১৮৬০-এর দশকে তাঁরা সামাজিক সংস্কারমূলক লিফলেট এবং পত্রিকা প্রকাশের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা চট্টগ্রামে প্রগতিশীল সাহিত্য চর্চার পথ খুলে দেয়।
একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, চট্টগ্রামের অনেক বিপ্লবী যারা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন (যেমন মাস্টারদা সূর্য সেন : ১৮৯৪-১৯৩৪)-এর অনুসারী অনেকে), তাঁদের পারিবারিক বা সামাজিক শিক্ষায় ব্রাহ্ম সমাজের উদারনৈতিক ও কুসংস্কারমুক্ত চিন্তার প্রভাব ছিল। সূর্য সেন সরাসরি ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য না হলেও, তিনি এবং তাঁর সাথীরা (যেমন, প্রেমানন্দ দত্ত: ১৯০৬-১৯৩০) চট্টগ্রামের এই উদারনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছিলেন। ব্রাহ্ম মন্দিরের প্রগতিশীল আলোচনার পরিবেশ চট্টগ্রামের যুবকদের মধ্যে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল।
চট্টগ্রামের ব্রাহ্মসমাজের আচার্যরা কেবল ধর্মীয় কর্মকাণ্ডই পরিচালনা করেননি, বরং তাঁদের জীবনচর্চা ছিল আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। এই আন্দোলনের প্রধান সাফল্য ছিল শিক্ষার প্রসার এবং নারী মুক্তির আন্দোলনে। চট্টগ্রামের রক্ষণশীল সমাজ যখন নারীদের গৃহবন্দি রাখতে সচেষ্ট ছিল, তখন ব্রাহ্মরা নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা প্রচার করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের পরিবারের নারীদের শিক্ষিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বাল্যবিবাহ রোধ এবং বিধবা বিবাহ প্রচলনের ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা ছিল বৈপ্লবিক।
তবে ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্রাহ্মধর্মের মূল দর্শনই ছিল এর প্রসারের পথে বড় বাধা। ব্রাহ্মধর্মের ভিত্তি ছিল উপনিষদের একেশ্বরবাদ এবং পাশ্চাত্য যুক্তিবাদ। এটি ছিল অত্যন্ত বিমূর্ত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক একটি ধর্মতত্ত্ব। সাধারণ মানুষ ধর্মের মধ্যে যে লৌকিক আনন্দ, আশ্রয়, মূর্তিনির্ভর আরাধনা বা ধর্মীয় উৎসবের আমেজ খুঁজে পায়, ব্রাহ্মদের নিরাকার উপাসনা পদ্ধতিতে তার কোনো স্থান ছিল না। ফলে এটি সাধারণ জনগণের কাছে কেবল একটি ‘শিক্ষিতদের ধর্ম’ হিসেবেই পরিচিতি পায়। ব্রাহ্মদের আরাধনায় যে শুষ্কতা ও গাম্ভীর্য ছিল, তা বাঙালির চিরাচরিত মরমী ভাবধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কেশবচন্দ্র সেন এর আগমনের পর ব্রাহ্মধর্মে যখন খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের সারতত্ত্ব মিলিয়ে এক মিশ্র মতবাদ (নববিধান) প্রচার শুরু হলো, তখন তা সাধারণ হিন্দুদের কাছে আরও বিভ্রান্তিকর ও বিজাতীয় হিসেবে প্রতিভাত হতে থাকে। ধর্মতত্ত্বের এই অতি-আধুনিকতা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সমাজের মূলে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়।
সামাজিকভাবে ব্রাহ্মধর্ম ছিল মূলত একটি ‘ভদ্রলোক’ বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির আন্দোলন। চট্টগ্রামের সমাজ কাঠামোয় এর প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রজনীকান্ত সেন, নবীন চন্দ্র দত্ত ও হরিশচন্দ্র দত্তদের মতো যারা এই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা প্রায় সবাই ছিলেন শহরের প্রভাবশালী শিক্ষিত নাগরিক। ফলে এই আন্দোলন কোনোদিনই গ্রামীণ বা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। ব্রাহ্মরা নিজেদের জন্য যে অত্যন্ত পরিশীলিত এবং আধুনিক জীবনধারা তৈরি করেছিলেন, তা তাঁদের সাধারণ হিন্দু সমাজ থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। জাতপাত বিরোধী প্রচার করলেও তাঁরা সাধারণ নিম্নবর্ণের মানুষের সঙ্গে কোনো আত্মিক বা সাংগঠনিক সংযোগ গড়ে তুলতে পারেননি। এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে ব্রাহ্মধর্ম একটি ‘এলিট সোসাইটি’ বা অভিজাত ক্লাবের রূপ নেয়। এটি একটি আলোকিত বৃত্তের জন্ম দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই বৃত্তের বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসার মতো কোনো তৃণমূল সংযোগ তাঁদের ছিল না।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও ব্রাহ্মধর্মের প্রভাব হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। উনিশ শতকের শেষার্ধে ভারতবর্ষে ‘হিন্দু পুনর্জাগরণবাদ’ এবং সশস্ত্র জাতীয়তাবাদের যে জোয়ার আসে, তা ব্রাহ্মদের যুক্তিবাদী সংস্কার আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা কমিয়ে দেয়। স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩-১৯০২) -এর মতো ব্যক্তিত্বরা যখন প্রমাণ করলেন যে হিন্দুধর্মের নিজস্ব ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়িয়েও আধুনিক এবং দেশপ্রেমিক হওয়া সম্ভব, তখন শিক্ষিত যুবসমাজ ব্রাহ্মধর্মের চেয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের সেবাধর্মের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। জাতীয়তাবাদের সেই উষালগ্নে মানুষ যখন নিজের শিকড় খুঁজছিল, তখন ব্রাহ্মদের পাশ্চাত্য ঘেঁষা জীবনরীতিকে অনেকেই ‘পরাধীন মানসিকতা’ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। এছাড়া, ব্রিটিশ সরকার ১৮৫৭ সালের পর ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি গ্রহণ করায় ব্রাহ্মদের সমাজ সংস্কারমূলক কাজে যে রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছিল, তাও স্তিমিত হয়ে আসে। রাজনীতি যখন ধর্মীয় সংস্কার ছাড়িয়ে সরাসরি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়, তখন ব্রাহ্মদের তাত্ত্বিক আলোচনা সাধারণের কাছে আবেদন হারায়। লক্ষ্যণীয় যে, চট্টগ্রামের হরিশচন্দ্র দত্তের উত্তরসূরি প্রেমানন্দ দত্ত যখন মাস্টারদা সূর্য সেন (১৮৯৪-১৯৩৪)- এর বিপ্লবী দলে যোগ দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তখন তা ছিল মূলত ব্রাহ্মধর্মের তাত্ত্বিক সংস্কার থেকে বেরিয়ে দেশপ্রেমের এক বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তরণ।
আন্দোলনের ভেতরের সাংগঠনিক ভাঙন এবং নেতৃত্বের সংকটও একে সামাজিকভাবে দুর্বল করে দেয়। কেশবচন্দ্র সেনের নিজের কন্যার বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মসমাজের মধ্যে যে বড় বিভাজন তৈরি হয়, তা সারা বাংলার মতো চট্টগ্রামের ব্রাহ্মদের মধ্যেও অনাস্থা তৈরি করে। যারা সমাজ সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন, তাঁদের নিজেদের ঘরেই যখন সংস্কারের বিচ্যুতি দেখা গেল, তখন সাধারণ সমাজ এই আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। হরিশচন্দ্র দত্ত ও নবীনচন্দ্র দত্তের মতো নিষ্ঠাবান আচার্যরা তাঁদের ব্যক্তিগত চারিত্রিক বল দিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেককে ধরে রাখলেও, কেন্দ্রের এই ভাঙন আন্দোলনটিকে সাংগঠনিকভাবে পঙ্গু করে দেয়।
এতকিছুর পরেও চট্টগ্রামের সমাজ সংস্কারে ব্রাহ্মধর্মের সাফল্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আজ যে আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক চট্টগ্রামের কথা বলা হয়, তার বীজ বপন করেছিলেন এই ব্রাহ্ম নেতারাই। তাঁরাই প্রথম চট্টগ্রামে নারীদের শিক্ষার আঙিনায় নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরাই প্রথম জাতপাত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে শিখিয়েছিলেন। ব্রাহ্মরা ধর্ম হিসেবে ব্যর্থ হলেও একটি চিন্তাধারা হিসেবে সফল হয়েছিলেন। তাঁদের হাত ধরেই চট্টগ্রামের তৎকালীন শহুরে হিন্দুদের একাংশ প্রথম বিশ্বজনীন মানবিকতাবোধ এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের আলোয় সমাজকে দেখতে শিখেছিল।
উপসংহারে বলা যায়, চট্টগ্রামের সমাজ সংস্কারে ব্রাহ্মধর্ম ছিল এক অসমাপ্ত বিপ্লবের ইতিকথা। ধর্মতাত্ত্বিক শুষ্কতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এটি হয়তো একটি বৃহত্তর লোকধর্মে রূপান্তরিত হতে পারেনি, কিন্তু এটি যে আলোকিত বৃত্তের জন্ম দিয়েছিল, তা বাঙালির চিন্তাজগতকে চিরদিনের জন্য আধুনিক করে দিয়েছে। চট্টগ্রামের ব্রাহ্মসমাজের আচার্যদের অবদান কেবল ইতিহাসের পাতায় বা মোমিন রোডের এই মন্দিরের দেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মিশে আছে জনগণের আধুনিক মনস্তত্ত্বের গভীরে। ব্রাহ্মধর্ম একটি ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে স্তিমিত হয়ে গেলেও, এর সংস্কারবাদী চেতনা বাঙালির প্রগতিশীলতার পথকে আজও আলোকিত করে চলেছে।