সাতকানিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী সোহেল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

291

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতকানিয়া :

সাতকানিয়ার মাদক বেপারি সোহেল পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ রূপকানিয়া গারাংগিয়া মাদ্রাসা এলাকার কোতোয়াল দীঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বড় বারদোনা আদর্শ পাড়ার আবদুল আলীমের ছেলে। জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পোমরা ইউনিয়নের পোমরা ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের গহীন জঙ্গল থেকে পুলিশ গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার সময় কৃষি ক্ষেতের পাহারা টং ঘর থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সফিউল কবীর বলেন, গ্রেফতার করে সোহেলকে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে থানায় আনা হয়। সোহেলের স্বীকারোক্তিমতে শুক্রবার রাত দেড়টার সময় তাকে সাথে নিয়ে হত্যাকা- বে্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করতে থানার অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সসহ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ রূপকানিয়া গাজীর পাড়া কোতোয়াল দীঘির উত্তর-পূর্ব পাড় এলাকায় পৌঁছি। এ সময় সোহেলের ৪/৫জন সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লড়্গ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে।  আত্মরড়্গার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়া শুরু করে। দু’পক্ষের গোলাগুলির সুযোগে সোহেল পালানোর চেষ্টা করলে অজ্ঞাতনামা তার সহযোগীদের গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে সোহেলের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে সোহেলকে গুলিবিদ্ধ অবস’ায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় মোসাদ্দেক হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ (৩৮), সহকারি উপ-পরিদর্শক মো. জিহাদ আলী (৩৫), কনস্টেবল কামরম্নল হাসান (২৭), সবুজ মিয়া (২৬) ও নাজমুল হাসান (২৪)সহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশীয় তৈরি এলজি, ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা, ৬৫ ইয়াবা ট্যাবলেট, বাংলা মদ, খেলার তাস, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং ১টি পাটি উদ্ধার করা হয়। গত ২২ জুন সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বারদোনা আদর্শ পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান ওরফে সোহেলের ছুরিকাঘাতে মোসাদ্দেকুর রহমান খুন হন। গুরুতর আহত হয়ে মোসাদ্দেকের সহোদর মো. ফয়সাল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার ২দিন পর মোসাদ্দেকের বাবা মাহবুবুর রহমান বাদি হয়ে আবদুল হান্নান ওরফে সোহেলকে আসামি করে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সফিউল কবীর বলেন, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অস্ত্র ও মাদকসহ থানায় ৩টি মামলা করা হয়েছে।