সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়ে হাতে শটগান নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের। অসুস্থ কর্মীর শিয়রে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত নেতার দাবি, অস্ত্রটি তার লাইসেন্স করা বৈধ শটগান। খবর ঢাকা পোস্টের।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নুর ছাফা সাবু সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তাকে দেখতে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার বাড়িতে যান আবু তাহের। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আবু তাহের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ভাইরাল ছবি ও অস্ত্রের বিবরণ
সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

আইনি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক
গত রোববার রাতে ‘সাজিদ চৌধুরী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও তা জনসমক্ষে প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অস্ত্র বহন করলেও তা সর্বদা দৃষ্টির আড়ালে রাখতে হয়। আগ্নেয়াস্ত্র আইন ও লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন করলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন। এমনকি নিয়মবহির্ভূত এই আচরণের জন্য ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের বলেন, ‘অস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি সঙ্গে রাখা স্বাভাবিক বিষয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ছবি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ছবিটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় বা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ মিললে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


















































