রাতে আমার পেখম মেলে

38

মোহাম্মদ আলী :

চর্যাপদ থেকে মধ্যযুগের ‘ইউসুফ-জুলেখা’, ‘নূরনামা’ হয়ে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বাঙলা সাহিত্যের যে-কাব্যিক ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক পরিব্রাজন, জনমানসের অন্তর্গত বোধ ছুঁয়ে থাকার কবিতার যে দায়, সামাজিক-রাষ্ট্রীয়-সাম্রাজ্যবাদী শোষণের খোঁয়াড় হিসেবে যে পুঁজিবাদী পৃথিবীর জন্ম হলো, হাফিজ রশিদ খানের কবিতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকে অভেদ্য প্রাচীর হয়ে আর সুফিবাদী সৌন্দর্যের বিম্বিত আলৌকিকতা ছড়িয়ে দেয় পৃথিবীময়। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে মনোপৃথিবীর এক গম্ভীর নান্দনিক প্রেরণায় তাড়িত হয় তাঁর কবিতা। সময় যেমন রূপক, তেমনি স্থান মানুষের জন্য মৌলক, ভাষা বহতা পৃথিবীর ধারালো তরঙ্গ-ছুরি, সন্দেশ, মধু ও মিষ্টতার আস্বাদন। সেই মিষ্টতার মধু ও অক্ষরের ছুরি নিয়ে তিনি কবিতার মাঠে নেমেছেন। কবিতা কবির সময় ও স্থানিকতার তাল-লয়-স্মৃতিসত্তাকে বিম্বিত করে। কবি মজে যান তাঁর সময়ের স্মৃতিময় জীবনের মাদকতায়। এটা কবি হাফিজ রশিদ খানের জন্য যেমন সত্য, তেমনি পৃথিবীর সব কবির বেলায়ও সত্য। ভিন্ন-ভিন্ন ভাষার কবি তাঁর ভাষায় তাঁর সময়, স্থানের যাপনকে কবিতার পঙক্তিতে মনমাধুরী দিয়ে সাজান। বাংলা ভাষার কবিতাও সে মৌলিকতায় গৌরবান্বিত। তাই বাংলা ভাষার কবিতা হয়েও অলাদা ভাষা ‘রোঁয়াই ও চাটি’র সান্নিধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কবিতার একটা আলাদা স্বর ও সুর  লক্ষ করা যায়, নূরনামা’র ‘নির্ণয় ন জানি’, মহাকবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’, শহীদ সাবেরের ‘শোকার্ত মায়ের প্রতি’ মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’, মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘দরিয়ানগর কাব্য’সহ এ রকম অসংখ্য কবিতার উদাহরণ দেওয়া যায়। হাফিজ রশিদ খান বঙ্গোপসাগরের তীরের সন্তান বলে তাঁর ভাবনার দিগন্ত, দিগন্তের খোসা ভেঙে দিগন্তে উড়িয়ে দেন। যাপনের সমস্ত মূর্ত ও বিমূর্ত বিস্তারকে তিনি কবিতার শিরায় ঢেলে দেন।

‘রাতে আমার পেখম মেলে’ কাব্যটির প্রতিটি কবিতার মধ্যে উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রস্ফুটিত হয়েছে। জন্মভূমি, তার জন্য দরদ ও মায়া, সময়, তার জন্য স্মৃতি, ব্যাকুল কাতরতা, কান্না-বেদনা, সুখ ও অসুখের অনন্তের অনুধ্যান।তাঁর ভাষায়, ‘কবিতার জন্য সবচেয়ে বড় কথা হলো কবিতাকে মানুষের হৃদয়ের কাছে যেতে হয়। তবেই কবিতা বেঁচে থাকে। কবিতা তো নিছক কিছু ভালোলাগা শব্দের স্তূপ নয়। নিশ্চল প্রতিমা বা গথিক নয়। শুধুমাত্র ছন্দকুশলীর কারুকাজও তো নয় কবিতা। মননের ও চেতনার কঠিন-কঠোর আরাধনা তার রূপে রূপান্তর আনে। আবার এই কবিতাকে মানুষের কাছে অনেক কিছু শিখে নিতে হয়।’ হাফিজ রশিদ খানের ষোলতম কাব্য ‘রাতে আমার পেখম মেলে’র ফ্ল্যাপে উল্লিখিত বয়ান দেওয়া আছে। কবিতাকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে আশি’র দশক থেকে কবিতার চাষাবাদ করে যাচ্ছেন কবি হাফিজ রশিদ খান। নগর মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছন কিনা জানি না তবে আদিবাসী নিটোল-নরম মানুষের কাছে পৌঁছে গেছেন তিনি বহু আগে। একুশ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘জোসনা কেমন ফুটেছে (১৯৮২)। মাঝখানে বয়ে গেছে সময় তার নিজ পথে। বাংলা কবিতার সমৃদ্ধি যেমন হয়েছে, তেমনি সম্প্রসারণও হয়েছে। সমৃদ্ধি অথবা সম্প্রসারণের যেকোনো একটি স্রোতে বেরিয়েছে ১৬টি কাব্য। ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে আগামী প্রকাশনী বের করেছে  ‘রাতে আমার পেখম মেলে’ কবিতাবই। যেখানে কবিতার ছন্দে সমকালীন নানা বিষয় তুলে এনেছেন তিনি। সাংসারিক, সাংবাদিক অথবা পৃথিবীর সংবেদনশীল একজন পরম সমাজসচেতন সমকালীন সংবেদী কবি তিনি। একইসঙ্গে এই জনপদের বহুকালের সহজিয়া জীবনধারা, উতল মরমি উৎসব, তার ভেতরকার আনন্দ-বেদনা ও ঐতিহ্যের রঙ, উজাড় ভালোবাসা আর হেলা-অবহেলার শাব্দিক চিত্রকল্প গাঁথা হয়ে আছে কবিতাগুলোতে। তিপ্পান্নটি কবিতায় নির্মাণ করেছেন ‘রাতে আমার পেখম মেলে’র কাব্যশরীর।

রাজনৈতিক-সামাজিক ঘটনা এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের যে-কষ্ট, রাজনৈতিক যে-বিভাজন তাও  ওঠে আসে। এদেশের মানুষের যে-আনন্দ-বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, যেগুলো কবি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছেন সেগুলো তাঁর  কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। কাজেই বলা যায়, এটা সমকালীন কাব্য। বলা যায়, এদেশের, এ সময়ের এবং এ বিশ্বের। কাশ্মিরের প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে স্বৈরাচারী মনোভাব ও জাতিবিদ্বেষ অত্যন্ত গূঢ় বেদনায় তিনি ধরেছেন। দার্শনিক ম্যাকিয়েভ্যালির ‘দ্য প্রিন্স’ থেকে সমকালীন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা মার্কজাকারবার্গকেও কবিতার অনুষঙ্গে পরিণত করেছেন।

০২

হাফিজ রশিদ খানের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় মাত্র বছর দুয়েক আগে। কবিতার বিশ্লেষণী বই সংগ্রহ করতে ঢাকার প্রকাশক ও লেখক ‘প্রকৃতি’র স্বত্বাধিকারী সৈকত হাবিব আমার হাতে তাঁর ‘কবিতার কারাবাস কবিতার মুক্তি’ গদ্যের বইটি দিয়ে জানতে চাইলেন পরিচয় আছে কিনা। পরবর্তীসময়ে বাতিঘরে গবেষক মোরশেদুল ইসলামেরমাধ্যমে পরিচয়তাঁর সাথে। এরপর জেনেছি, চট্টগ্রাম শহরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মতো মানুষ তিনি। আমার কবিতা পড়তে তার ভালোমন্দ বিশ্লেষণ করার সময়, মন্দ কবিতাটিরও মন্দ দিক  বলতে তিনি এক অদ্ভুত স্বপ্নমাখা উৎসাহী অনুরাগের ভাষায় প্রেষণা  দেন। আমি সেই মায়াবী ভাষার মায়ায় পড়ে গেলাম। তারপর ধীরে-ধীরে সম্পর্ক এগুতে  থাকে। এই সদালাপী কবি, সজ্জন ব্যক্তির অসামান্য ব্যক্তিত্বের মোহে পড়ে যাই। তাঁর বন্ধু ও অনুজ সকল তরুণকবিই এই মোহে মুগ্ধ হয়েছেন বলে শুনেছি।

হাফিজ রশিদ খানের জন্ম, ২৩ জুন ১৯৬১ সালে। স্থায়ী নিবাস ৬৭২ কালামিয়া মুনশি লেন দক্ষিণ শুলকবহর, চান্দগাঁও, চট্টগ্রামে। বাঙলা কবিতাঙ্গনে আদিবাসী প্রসঙ্গের মতোন একটি নবমাত্রার সফল যোগানদার, আদিবাসী আত্মপরিচয়দানকারী এবং উত্তর উপনিবেশবাদের(চড়ংঃ-ঈড়ষড়হরধষরংস) দার্শনিকসত্তার একজন তাত্ত্বিক। আশি’র দশকে লেখালেখি শুরু করলেও মূলত নব্বইদশকের শুরুতে পিতার মৃত্যুর পর চাকরির প্রয়োজনে কবিকে পার্বত্য বান্দরবান জেলায় অবস্থান করতে হয়। তারও আগে পিতার কর্মসূত্রে এবং নিজের ভ্রমণপিপাসার সুবাদে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সমাজ কবির মনে এবং চেতনায় এক প্রত্যয়ের জন্ম দেয়। তা হল- এ-জীবনধারাকে বাঙলা কবিতায় প্রবাহিত করা। বাংলাদেশের কবিতায় এ-অনুষঙ্গ  অনুপস্থিত।  ভ্রমণকাহিনি, পিকনিক বা হঠাৎ ঘুরে এসে হালকাচালের গদ্যেই এ জীবনধারার অনুরণন সীমিত ছিল। কিছু কিছু ব্রিটিশ আমলা, লেখক-গবেষক এবং আমাদের দেশের কিছু আমলাও আদিবাসীদের বিষয়ে কিছু গ্রন্থরচনা করলেও, কবিতায় আদিবাসী জীবনের অনুষঙ্গ অধরাই ছিল। বাঙলা কবিতার দেহে প্রয়োগ করলেন আদিবাসী অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত রেখা, যে-রেখা প্রোজ্জ্বল হয়ে থাকবে চিরকাল।

০৩

আশি’র দশক থেকে চলমান একবিংশ শতকের এই দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় সকল বনেদি ও স্বনামধন্য লিটলম্যাগাজিন ও সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে তাঁর অজ¯্র কবিতা মুদ্রিত হয়ে আসছে মর্যাদার সঙ্গে। নিভৃতচারী  কবির এই নতুন কাব্যটি কতটুকু পেখম মেলেছে তার উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের আগে দেখতে হবে কবিতায় বিচরণ এবং আচরণ। পরিণত নাকি কবির কবিতা পরাহত।কাব্যটি প্রসঙ্গে হাফিজ রশিদ খান ‘দেশ রূপান্তর’কে বলেন, ‘এই কবিতার বই নানাভাবে আমাদের যাপিত সময়কে স্পর্শ করে গেছে। মানুষের অন্তরের সৌন্দর্য ও তার ভেতরের ক্লেদ এই দুই পরস্পরবিরোধী প্রবণতাকে এখানে উন্মোচনের  চেষ্টা করেছি। অসত্য ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ মানবতার লড়াইয়ের পক্ষে উপমায়-উৎপ্রেক্ষায় শামিল হয়েছি। বিরূপবিশ্বে নিঃসঙ্গ মানুষের সাথি হয়ে থাকার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছি কবিতাগুলোর ছত্রে-ছত্রে।’ হাফিজ রশিদ খান মোটাদাগে একজন উচুঁমানের পাঠক-কবি, দর্শনচর্চার পারঙ্গমতা তাঁর কবিতায় ফুটেছে। ‘দূর থেকে সামান্য’ কবিতায় কান্টের দার্শনিক তত্ত্বের ছাপ মেলে :

আমার সকল কর্ম পরবর্তীকালের নিরিখে

ভুবনে কল্যাণ-আলো জ্বালাবোই একদিন

সমগ্রে,সার্বিকে …

কবি বাঙলা কবিতার অগ্রজ কবিদের স্মরণেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। কবি শামসুর রাহমান ও শহীদ কাদীর‘র জন্য কবির উচ্চারণে জনপদ কান খাড়া করে রাখে। ‘মৈত্রেয় বৈমানিক’ ও ‘শামসুর রাহমান’ নামক কবিতার সারবস্তু কবির যাপিত জীবনের দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। স্বদেশ, স্বজাতি ও বিশ্বমানবের মঙ্গল কামনাকে অঙ্গীকার করেই তাঁর আবাল্য কাব্যসাধনা। গণমানুষের জন্য কবির আছে পরম নিবেদন :

আমি তো বাঞ্ছিত মানুষের ভালোবাসাবাসি

আমার শরীরজুড়ে কত রকমের চিহ্ন

তারা নানা ধর্ম গোত্র আর ভাষাভাষী ,,,

০৪

‘আমি তো আদিবাসীই, অর্থাৎ আদিম অধিবাসী। এ-জনপদে যা আদি, যা অকৃত্রিম-তার সঙ্গে আমার স্নায়ু ও রক্তবেগের সম্পর্ক। আমি তো প্রথম যুগে গাছের ফলমূল-পাতা, পোকামাকড় সংগ্রহ করে জীবনধারণ করতাম। গাছের গুঁড়ির ফাটলে, গুহায় ঘুমাতাম। পরে মাছ শিকার করতে শিখলাম, পশু-পাখি শিকারে অভ্যস্ত হয়ে উঠলাম। ওই সময়ে আমি সশস্ত্র ছিলাম- আমার অস্ত্র ছিল গাছের শুকনো ডালপালা ও পাথর। আরও পরে পশুপালন ও পশুচারণের সংস্কৃতি রপ্ত করি। তারপর কৃষিকার্য উদ্ভাবন। তবে গরু-ঘোড়া বা লাঙলে নয়, চাষাবাদ করতাম লাঠি দিয়ে মাটিতে গর্ত করে বীজ বা চারা রুয়ে দিয়ে। যা এখনও আদিবাসী সমাজে প্রচলিত। যাকে ওরা জুমচাষ বলে। এ-আদিমতা আমি ভুলি কীভাবে? তবে হ্যাঁ, আমি যখন শিখে গেলাম বেঁচেবর্তে থাকার আর্ট বা কলানৈপুণ্য, তখন ঘোষণা দিয়ে হলাম জাতি, রচনা করলাম জাতিরাষ্ট্র। ওই যে চর্যাপদ’র কবি জানিয়ে দিলেন ‘ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলা’! আমি সেই আদিম, আমি সেই বাঙালি। আর সেই জন্যই তো বাংলার আদিবাসীদের আমি সবসময় বুক দিই, পিঠ দিই না। ইতিহাস আর নৃতত্ত্ব এ বোধ আমার ভেতরে চারিয়ে দিয়েছে, কীআছে আমার করার?’

হাফিজ রশিদ খান দীর্ঘদিনের পার্বত্য মানুষেরসহমর্মিতার কুঞ্জবন ছেড়ে আসতে পরেননি অথবা আসতে পারেন না। তাঁর চেতনাবিন্দু গড়িয়ে-গড়িয়ে ছড়িয়ে থাকে তাঁর সমস্ত প্রকাশে, যা ধারণা করে মহাসিন্ধুতে। ধ্রুপদি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের যুগেও কবির ধ্যান ও জ্ঞান, পিতৃপুরুষের দায়বদ্ধতা এড়াতে পারে না। ফলে পেখম মেলে উড়তে গিয়েও জাতিস্মরতার টানে নিজ পৃথিবীকে ভালোবেসে বসবাস করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং সেখানে দৃঢ় পদক্ষেপে যোগ দেন হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টানের মিলিত সংগ্রামে। ‘একজন কুঞ্জবন’ ‘অষ্টম সিম্ফনি’ ‘কবিতা আদিবাসী কুটিরের ঘ্রাণ’ কবিতাত্রয় কবির আদিনিবাসের মিষ্টি ঘ্রাণ।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কবিতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘যে লেখাটি সমকালের স্মৃতি বা স্বপ্নকে তুলে আনতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সমকালকে অতিক্রমের যোগ্যতা রাখে, তাকেই বোধ হয় কবিতা বলা যেতে পারে’।  হাফিজ রশিদ খান সমকালের স্মৃতিকে তুলে আনতে সক্ষম বলে বিজ্ঞজনের বিজ্ঞাপন আছে, তবে সমকালকে অতিক্রম করতে পারবে কিনা তাঁর কবিতা তা সময়ের হাতে ছেড়ে দিলেই হয়। কবিগুরুর ‘অনেক হাজার বছরের’ কবিতার মতো মহাকালের কাছে তিনিও সন্ন্যাসী :

মহাকাল, সন্ন্যাসী তুমি।

তোমার অতলস্পর্শ ধ্যানের তরঙ্গ-শিখরে

উচ্ছ্রিত হয়ে উঠছে সৃষ্টি

আবার নেমে যাচ্ছে ধ্যানের তরঙ্গতলে।

প্রচ- বেগে চলেছে ব্যক্ত অব্যক্তের চক্রনৃত্য,

তারি নিস্তব্ধ কেন্দ্রস্থলে

তুমি আছ অবিচলিত আনন্দে।

হে নির্মম, দাও আমাকে তোমার ঐ সন্ন্যাসের দীক্ষা।

জীবন আর পাওয়া আর হারানোর মাঝখানে

যেখানে আছে অক্ষুব্ধ শান্তি

সেই সৃষ্টি-হোমাগ্নিশিখার অন্তরতম

স্তিমিত নিভৃতে

দাও আমাকে আশ্রয়।