রাউজানে পৃথক স্থান থেকে দুটি লাশ উদ্ধার

0
272

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজান: 
রাউজানে গহিরা ইউনিয়নের দলই নগরে একটি পুকুর থেকে গৃহবধূ ও কদলপুর ইউনিয়নের সোমবাইজ্যা হাট এলাকা থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের দলই নগর এলাকায় পদ্ম পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত লাশটি পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শায়ের মো. চৌধুরীর বাড়ী মৃত মোজারুল হকের পুত্র মো. মনছুর আলমের স্ত্রী নাছরিন আকতার সুবর্ণা (২৫)। উদ্ধার করা লাশের দেহের বিভিন্ন স্থানে জখমের দাগ রয়েছে।
এলাকার লোকজন জানান, সুবর্ণার একটি এক বৎসর বয়সের ছেলে সন্তান রয়েছে। সুবর্ণার স্বামী মানসুরের সাথে দাম্পত্য কলহের কারণে সুবর্ণা তার পিতার বাড়ী ফটিকছড়ি চলে যায়। ফটিকছড়ি সুবর্ণার পিতার বাড়ী থেকে সুবর্ণাকে কেউ ফুসলীয়ে এনে রাউজানে হত্যা করে তার লাশ পুকুরের মধ্যে ফেলে দেয়। সুবর্ণার লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করার সময় রাউজান রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম ও রাউজান থানার ওসি আবদুল্ল্যাহ আল হারুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অপরদিকে, মঙ্গলবার কদলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোমবাইজ্যা হাট এালাকায় সোমবাইজহ্যার হাটের পশ্চিমে কদলপুল আইডিয়েল স্কুলের পাশে খালের পাড় থেকে জালাল আহম্মদ (৬০) নামের এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত লাশটি একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোমরপাড়া গ্রামের ইদ্রিস চেয়ারম্যানের বাড়ির মৃত তনজিল আহমেদের পুত্র।
জালাল আহম্মদের ভগ্নি পতি এসকান্দর তার পুত্রবধূ কোহিনুর আকতার বলেন, জালাল আহম্মদের সাথে তার পুত্র বাহাদুর ও শফিউলের সাথে তার সাথে বিরোধ চলে আসছে গত ৮ বৎসর ধরে। জালাল আহম্মদ তার বসতভিটা ছেড়ে কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। জালাল আহম্মদের পুত্র শফিকুল ও বাহাদুর জালাল আহম্মদের বিরুদ্ধে কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর কাছে তাদের সাথে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ নিরসনের জন্য আবেদন করেন। ৭ ডিসেম্বর সোমবার জালাল আহম্মদ কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে সময় চাইলে কদলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী সালিশি বৈঠকের সময় দেয়। এতে জালাল আহম্মদের পুত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে ভাড়াটিয়া কিছু যুবকদের নিয়ে জালাল আহম্মদকে লাঞ্ছিত করে। ৭ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় জালাল আহম্মদ তার ভগ্নি পতি এসকান্দর হোসেনের কদলপুর সোমবাইজ্যার হাটস্থ বাড়ী থেকে বের হয়ে চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে জালাল আহম্মদের লাশ কদলপুর সোমবাইজ্যার হাটের পশ্চিমে কদলপুর আইডিয়েল স্কুলের পাশে খালের পাে পাওয়া যায়।
জালাল আহম্মদরে কন্যার জামাতা রাউজানের কেয়েপাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন চৌধুরী বলেন, তার শ্বশুর জালাল আহম্মদ তার বসতবাড়ী ছেড়ে পাশর্^বর্তী জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। জালাল আহম্মদরে পুত্ররা তাকে তার বসতবাড়ীতে ফিরিয়ে আনার জন্য কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর সহায়তা চেয়েছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, গহিরায় উদ্ধারকৃত মহিলার লাশটি প্রাথমিকভাবে হত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে কদলপুরে উদ্ধারকৃত বৃদ্ধের লাশটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
রাউজান থানার ওসি আবদুল্ল্যাহ আল হারুন বলেন, গহিরা দলই নগর পুকুর থেকে সুবর্ণার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে জালাল আহম্মদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রাউজান থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।