যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সরবরাহকৃত বালির ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হায়দার রাসেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাঁদা দাবির একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলোতে গাড়ি প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাবি করার কথা বলতে শোনা যায়।

অডিওতে সাইফুল হায়দার রাসেলকে বলতে শোনা যায়, পৌরসভার কোথাও মাটি বা বালি ফেলতে হলে তাকে টাকা দিতে হবে। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা বেসরকারি কোনো কাজই করা যাবে না।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাইফুল হায়দার রাসেলের চাঁদাবাজিতে তারা অতিষ্ঠ। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি গত ২৭ জানুয়ারি রাতে চাঁদা না দেওয়ায় মেসার্স নুর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজারসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমদ চৌধুরী তানভীর।

এ বিষয়ে মেসার্স নুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নুর উদ্দিন জানান, তিনি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে বালুমহাল ইজারা নিয়ে বৈধভাবে বালি বিক্রি করছেন। বিবিরহাট বাজারের সরকারি মডেল মসজিদ নির্মাণে গর্ত ভরাটে বালি সরবরাহের দায়িত্বও তার।

তিনি বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি রাতে সাইফুল হায়দার রাসেল দলবল নিয়ে বালির গাড়ি আটক করে প্রথমে গাড়ি প্রতি ২০০ টাকা দাবি করেন। ম্যানেজার টাকা দিতে অস্বীকার করলে পরে গাড়ি প্রতি ১৫০ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ম্যানেজার ও গাড়ির চালককে মারধর করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা তানভীরসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও গালিগালাজ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ফটিকছড়ি পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান সাইফুল হায়দার রাসেল। দায়িত্ব পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বিদেশে চলে যান। তৎকালীন সময়ে বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। একই সঙ্গে পৌরসভা যুবদলের নেতাকর্মীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে অব্যাহতি দিয়ে ওই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ককে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়।

দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাইফুল হায়দার রাসেল দেশে ফেরেন। দেশে এসে সম্প্রতি তিনি পুনরায় ফটিকছড়ি পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন। এরপর থেকেই তিনি ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগঠনের পদ ব্যবহার করে আসামি ধরিয়ে দেওয়া ও ছাড়িয়ে নেওয়া, জমি দখল ও বেদখল, প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, সরকারি ইজারা নেওয়া বালুমহাল এবং রাস্তায় চলাচল করা মাটি ও বালুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করে আসছেন তিনি। এছাড়া ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা সিগারেট ও কসমেটিকসের সিন্ডিকেট থেকে মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে সাইফুল হায়দার রাসেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপনার কাছে চাঁদাদাবির কোনো অডিও থাকলে ছেড়ে দেন। মূল ঘটনা হচ্ছে তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার একজন আওয়ামী লীগের নেতা। যিনি মামলার আসামি। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছি। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দিতে পারিনি। শিগগিরই লিখিত অভিযোগ দেব। তারা এর আগেও যুবদল নেতার ওপর হামলা করেছিল।

ফটিকছড়ি পৌরসভা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আহসানুল করিম রাজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে লেখালেখি করছেন। নির্বাচনের সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আমাদের দল বিব্রত হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন নেতারা বিষয়টি দেখবেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।