মেজর সিনহার ‘খুনি’ লিয়াকতসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা

0
207

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আলেচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা  মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আরও চারজনের বিরুদ্ধে  ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেছেন এসএম জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী। গতকাল দুপুরে মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে এ মামলা হয়। একই মামলায় বাদি আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারসহ মোট ১৩জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে আদালত বাবুল আকতারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি। ইন্সপেক্টর লিয়াকতসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আরও চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশের উপকমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার বাদি জসিম উদ্দিন পতেঙ্গা থানার নাছিরনগর এলাকার  নেকবার হোসেনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদির আইনজীবী জুয়েল দাশ সুপ্রভাতকে জানান, মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে মহানগর ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি আদালত।  অভিযুক্তরা হলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এসআই লিয়াকত আলী এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাবেক এসআই নজরুল ও হান্নান। অভিযুক্ত বাকি চারজন হলেন এসএম সাহাবুদ্দিন, বিষ্ণুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও জিয়াউর রহমান।

প্রসঙ্গত, ইন্সপেক্টর (বরখাস্ত) লিয়াকত আলী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ছিলেন। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ শাপলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করেন ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী। ঘটনার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই ঘটনায় মেজর (অব.) সিনহাকে খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় টেকনাফ থানার ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৩ জনকে। তারা সবাই এখন কারাবন্দি। আদালত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি তারা হলেন ডিবির সাবেক এসআই সন্তোষ কুমার চাকমা, পতেঙ্গা থানার সাবেক এসআই কামরুল, সদরঘাট থানার সাবেক এসআই তালাত মাহমুদ, পতেঙ্গা থানার সাবেক ওসি প্রণব চৌধুরী, সদরঘাট থানার সাবেক ওসি মর্জিনা বেগম এবং ডিবি’র সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

বাদির আইনজীবী জুয়েল দাশ জানান, মামলার বাদি এএসএম জসিম উদ্দিন নগরের সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকার একটি কারখানার মালিক। ২০১৩ সালে তার কারখানায় চুরির ঘটনায় আদালতে মামলা করেন তিনি। ওই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ডিবি’র তৎকালীন এসআই লিয়াকত আলী। বাদির অভিযোগ, ২০১৪ সালের ১৪ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী তার অফিসে বাদি জসিম উদ্দিনকে ডেকে নেন। এর আগে মামলা সঠিকভাবে তদন্তের জন্য জসিমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন লিয়াকত। পরে আরেক দফা অফিসে ডেকে নিয়ে আসামিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য জসিমকে চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য জসিমকে  চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। চোখ  খোলার পর বাদি জসিম দেখেন তিনি পতেঙ্গা থানায়। সেখানে নেওয়ার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য জসিমকে মারধর করে। এক পর্যায়ে ইলেট্রিক শকও দেয়। পরে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। এ সময় পরিবার ও আত্মীয়স্বজন থেকে সংগ্রহ করে তাদের হাতে আড়াই লাখ টাকা তুলে দেন। টাকা দেয়ার পরও জসিমকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার একটি ভুয়া পরোয়ানার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ছয়মাস পর তিনি জামিনে ছাড়া পান।