মিরসরাইয়ে পানিবন্দি ৪ শতাধিক পরিবার

0
197
মিরসরাইয়ের বাঁশখালী ওচমানপুর ইউনিয়নে পানিবন্দি বাড়ি-সুপ্রভাত
সামান্য বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মিরসরাই

খাল সংস্কারে অনিয়মের কারণে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৪ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী গ্রামের বাসিন্দাদের। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম এলে কষ্টের শেষ থাকে না এখানকার মানুষের। এলাকাবাসীর দাবির প্রেড়্গিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশের জয়তারা খাল সংস্কার করা হয়। কিন’ সংস্কারে অনিয়ম করায় আগের মত জলাবদ্ধতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ওই এলাকার বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন, মোহাম্মদ মোসত্মফা, আনোয়ার হোসেন, গিয়াস উদ্দিন জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে ওসমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী গ্রাম পানিতে ডুবে থাকে। পরে স্থানীয়রা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের কাছে একাধিকবার আবেদন করলে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জয় তারা খাল সংস্কারের ব্যবস্থা করেন। খালের সংস্কার কাজ পান ট্রাম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ইছাখালী অংশে সংস্কার করলেও ওছমানপুর অংশে খাল সংস্কার না করায় পরিসি’তি আগের মত রয়ে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার। রাসত্মা, ঘাট, কবরস্থান পানিতে ডুবে আছে। এখানকার মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেনা। এই পরিসি’তি থেকে মুক্ত পেতে সঠিক ভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে, না হলে আরো চরম দুর্ভোগ হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতায় ভাসছে এলাকাবাসী। উঠান ভর্তি হাঁটু পানিতে দিন কাটাচ্ছে। থেমে গেছে কাজকর্ম। চুলোয় উঠছেনা হাঁড়ি পাতিল। একদিকে করোনার এই পরিসি’তি যেখানে মানুষ খেতে পারছেনা ঠিকমতো তার মধ্যে এমন দুর্ভোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকাবাসীরা।

ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক বলেন, বাঁশখালী এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি পেতে সাবেক মন্ত্রী আমাদের প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে জয়তারা খাল সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন’ ঠিকাদার নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে। যে অংশে খাল চওড়া ওই অংশে সংস্কার করেছেন, যে অংশে সংকুচিত ওই অংশে সংস্কার কাজ করেনি। এই ব্যাপারে তাকে একাধিকবার বলা হলেও করোনা সহ বিভিন্ন অজুহাতে সে সঠিকভাবে খাল সংস্কার না করায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

এদিকে খাল সংস্কারের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার জয়তারা খালের সংস্কার কাজ করা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ট্রাম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মুরাদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দিলে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রম্নহুল আমিন বলেন, ওসমানপুরের বাঁশখালী এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয়টি কেউ আমাকে অবহিত করেনি। এখন আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। খালের সংস্কারের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারপরও আমি সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।