ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন শুরু

0
193

১৪ দিন পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার ৭৮৫ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইন চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।
গতকাল নগরীর মোস্তফা-হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। এসময় তিনি বলেন, এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হলো শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি ও ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা ও পুষ্টি বিষয়ক অন্যান্য কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা অবশ্যই পালন করতে হবে তা হলো ৬ মাস বয়সী শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বিষয়ে পুষ্টিবার্তা প্রচার করা। সামাজিকভাবে সুস্থ না থাকলে জাতি হিসেবে আমরা সুস্থ থাকতে পারবো না।
৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু যাতে এ ক্যাম্পেইনের আওতাভুক্ত হয় সেই ব্যাপারে দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬৯ বছর, সেখানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। এ সাফল্যের পেছনে যাদের অবদান তারা হলেন আমাদের চিকিৎসক সমাজ।
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, জীবনের ফুল ফোটানো হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। চিকিৎসাসেবা বিষয়টিকে সিটি করপোরেশন মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। চসিক পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নগরের ৬০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নগর স্বাস্থ্য, চক্ষু পরিচর্যা কেন্দ্র, ও নগর মাতৃসদন সেবা চালু রেখেছে। এসব হাসপাতালে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।
সিটি করপোরেশন নগরীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৫২ শিশু। আর জেলা সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৩ শিশুকে এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ১ হাজার ২৮৮টি ও ২০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ২০০টি ইউনিয়নের ৬০০টি ওয়ার্ডে, ১৫টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।