ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিনের অপসারণ দাবি রাঙামাটি ছাত্রলীগের

0
202
 : গতকাল অভিযুক্তদের নিয়ে  রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি :

গত ২৯ আগস্ট ছাত্রলীগের যে চার নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন রাঙামাটি সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম, দুদিন পর গতকাল সেই চারনেতাকে পাশে নিয়ে পাল্টা আরেক সংবাদ সম্মেলন থেকে ‘ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে’ নাসরিনের অপসারণ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিনকে ‘অনুপ্রবেশকারি’ ‘সাবেক ছাত্রদল ও জাসাসনেত্রী’ ‘বিএনপি-জামাতের এজেন্ট’ ‘চরিত্রহীনা’ এবং ‘অৈেনতিক কর্মকা-ে জড়িত’  ‘কুচক্রী’ ‘ষড়যন্ত্রকারী ’ বলে অভিহিত করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

তিনদিন আগে ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে ‘শ্লীলতাহানি’র অভিযোগ এনে অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করার পরদিনই তাকে জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো পদে না রাখার কথা জানানো হয় পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। সর্বশেষ গতকাল সকালে  জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নাসরিন ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে অপসারণের দাবিও জানানো হলো।

জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাসরিন ইসলাম তার সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কতিপয় নেতাকর্মীর নাম জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর, বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য পরিবেশন করেছেন, যা দুঃখজনক। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কলুষিত করে তোলায় এলাকাবাসী তার ওপর ক্ষুদ্ধ। ছাত্রজীবনে তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে নেতৃত্বে ছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা ( জাসাস) এরও একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।’

তিনি তার সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগসহ অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের কুৎসা রটনা করেছেন। যা যড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত মর্মে প্রতীয়মান হয়। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœকারী উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান নাসরিন ইসলামকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে উক্ত পদে পুনঃনির্বাচন দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ছাড়াও নাসরিনের থানায় দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্ত চার ছাত্রলীগ নেতা, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বাপ্পী, সহ-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন কায়সার, সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ইমরুল, রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগষ্ট রাঙামাটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিক ইসলাম অভিযোগ করেন যে, ২৪ আগস্ট রাত নয়টার সময় উপজেলা পরিষদের টিউবওয়েল বসানো নিয়ে বাসায় এক সভা চলাকালে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর জব্বার সুজনের ছত্রছায়ায় তারই লালিত ছাত্রলীগের ওই চার নেতা তাঁর বাসায় হামলা করে। এ সময় বাসার ভিতর ভাঙচুরসহ আমার শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা চালায়।

তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো মামলা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়নি অভিযোগটি। আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তিনি বলেন,  ছাত্রলীগের কতিপয় সন্ত্রাসীর কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এর পরদিনই তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগ এবং তার সাথে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বিবৃতি দেয় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ। নাসরিন ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবেই ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।