বিমানবন্দরে সারচার্জ কমলো, গড়ে উঠবে টেকসই এভিয়েশন শিল্প!

সুপ্রভাত ডেস্ক »

প্রত্যাশার তিন দশক পর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কমানো হয়েছে সারচার্জের পরিমাণ। একে টেকসই এভিয়েশন শিল্প গড়তে মাইলফলক বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, সারচার্জ কমানোর ফলে টিকে থাকা তাদের জন্য সহজ হবে।

বিমানবন্দর রানওয়ে ব্যবহার, কন্ট্রোল রুম, বিমান পার্কিং ও টার্মিনাল সুবিধার ওপর বার্ষিক সারচার্জ ভারতে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, ওমানে ১০, সিঙ্গাপুরে ৮ আর পাকিস্তানে মাত্র ২ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে এই সারচার্জ ৭২ শতাংশ। এই উচ্চ সারচার্জের কারণে দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো পড়ে আর্থিক সংকটে এবং বন্ধ হয়ে যায় কয়েকটি এয়ার সংস্থা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই চার্জ কমানোর দাবি থাকলেও গুরুত্ব দেয়নি কোনো রাজনৈতিক সরকার।

২০২৬ সালে বিষয়টি আমলে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বিমান মন্ত্রণালয় বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সাতটি বিমানবন্দর ব্যবহারে এক ধাপে ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে সারচার্জ করা হয় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। যা সক্ষমতা বাড়াবে বলে জানায় এয়ারলাইন্সগুলো।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৯ বছর ধরে আমরা সারচার্জ কমানোর দাবি করেছি। বিগত সময়ের সরকারগুলো কথা শুনেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সুযোগটি দিয়েছে। সারচার্জ কমার ফলে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং এয়ারলাইন্সের স্থায়ীত্ব বাড়বে।’
 
মূলত বিমানবন্দর ব্যবহারের চার্জ বকেয়া রাখলে প্রতিমাসে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হতো ৬ শতাংশ। বছর শেষে হিসাবের খাতায় যোগ হতো ৭২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা জানান, এভিয়েশন শিল্প সম্প্রসারণে বড় বাধা ছিল তুলনামূলক বাড়তি এই অর্থ।
 
দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বড় এয়ারলাইন্স যেমন জিএমজি, ইউনাইটেড এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সারচার্জ। এত বড় পরিমাণ সারচার্জ বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না, অর্থাৎ এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই সারচার্জ কমানো দেশের বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
 
এদিকে, নতুন সিদ্ধান্ত চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে। তবে সারচার্জ কমলেও টিকিটের দামে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, সিভিল এভিয়েশন চার্জেস কমানোর ফলে এয়ারলাইন্সগুলো কিছুটা স্বচ্ছল হবে। তবে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত টিকিটের ভাড়ার ওপর খুব একটা পড়বে না।
 
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের কাছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট বকেয়া দেনা রয়েছে ৭ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এরমধ্যে সারচার্জের অর্থই প্রায় ৭৮ শতাংশ।