বাবুনগরীকে আসামি করে দুই মামলা

0
95

হাটহাজারীতে হেফাজতের তাণ্ডব

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাটহাজারী <<
২৬ মার্চ হাটহাজারীতে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় আরও ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে হাটহাজারী মডেল থানায়। এবারের মামলায় এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের আহবায়ক কমিটির আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে। একই সাথে আসামি তালিকায় যুক্ত হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল, হাটহাজারী উপজেলা জামায়েতের আমিরসহ ১৪৮ জন।
২৬ ও ২৭ মার্চ হাটহাজারী থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) হাটহাজারী থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। যদিও সোমবার ২৬ এপ্রিল তা বিষয়ে জানা যায়। এই দুইটিসহ ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া তিন মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ে ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২৬ ও ২৭ মার্চে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সব ডকুমেন্টস আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পৃথক তিন মামলার এজাহারে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে হাটহাজারী সদর, ইছাপুর বাজারে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও রাস্তায় দেয়াল দিয়ে আসামিরা অস্থিরতা সৃষ্টি করে। আসামিরা ২৬ থেকে ২৮ মার্চ রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ, থানা ও ভূমি অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ পুলিশের ওপর হামলা করেন।
একটি মামলার বাদি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল মো. সোলায়মান। এ মামলায় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজত নেতা মীর ইদ্রিস, নাছির উদ্দিন মুনীর, জাকারিয়া নোমান ফয়েজি, আহসান উল্লাহসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় দেড়শ থেকে ২শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। কনস্টেবল মো. সোলায়মানকে ২৬ মার্চ মাদ্রাসার ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখার পরের দিন সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরেক মামলার বাদি হাটহাজারী মডেল থানার পরিদর্শক আমির হোসেন। এ মামলায় জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজত নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি ও উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আসামি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার জন। এ মামলাটি করা হয় সড়কে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির দায়ে।
অন্যদিকে হাটহাজারী থানার এস আই হারুন অর রশিদ বাদি হয়ে তৃতীয় মামলাটি করেছেন। এ মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইকবাল, উপজেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান শিকদারসহ ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আসামি আড়াইশ থেকে তিনশ জন। তাদের বিরুদ্ধেও ইছাপুর বাজারে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, থানা ও ভূমি অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়।
প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ হেফাজতের তাণ্ডবের পাঁচ দিন পর ৩১ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা ভবনে হামলা, ভূমি অফিসে ভাঙচুর, ডাকবাংলোয় আগুন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়টি ও পটিয়াতে একটি মামলা করে পুলিশ। হাটহাজারী থানায় চারটি ও পটিয়ায় একটি মামলার বাদি পুলিশ। আর ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দায়ের করেন দুটি মামলা। তবে প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হলেও কারো নাম নেই এসব মামলায়। সাত মামলার সব আসামিই অজ্ঞাত। ওই সময় থেকে মামলাগুলো তদন্ত করছিল পুলিশ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।