বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা

0
451
নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া খালপাড় এলাকার বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা-সুপ্রভাত

রুমন ভট্টাচার্য :
করোনা ভাইরাসের সুযোগে নগরীর মাছের বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা। দাম কম বলে সাধারণত নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষ এই মাছের ক্রেতা। তবে বিক্রেতারা ভয়ানক ও রাক্ষুসে এই মাছটিকে সামুদ্রিক রূপচাঁদা বলে দেদারছে বিক্রি করছে।
সোমবার (১৫ জুন) নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের বাকলিয়া খালপাড় এলাকার মাছের বাজার ও রাস্তায় বসা ভ্যানগাড়িতে এই মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। শুধু পিরানহা নয়, বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুরও।
বাজারে দিনমজুর মো. হামিদ এসেছিলেন মাছ কিনতে। মাছের কেজি কত জানতে চাইলে বিক্রেতা তাকে বলেন, একদম তাজা ‘সামুদ্রিক চান্দা’, ১৬০ টাকা কেজি। দরদাম করে হামিদ কিনলেন ১৩০ টাকা কেজিতে।
কী মাছ কিনলেন, জানতে চাইলে হামিদ উত্তর দিলেন সমুদ্রের চান্দা। তাকে যখন বলা হলো এটা চান্দা নয়, রাক্ষুসে পিরানহা, তিনি সে কথায় কান না দিয়ে ঘরের পথে দ্রুত হাঁটা দিলেন।
কয়েকজন মাছ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই এলাকায় প্রায় কয়েক মাস ধরে আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ বিক্রি হচ্ছে। দাম কম বলে নিম্ন আয়ের মানুষ এসব মাছ কিনে নিয়ে যান।
অনেকেই জানেন না, অনেকটা রূপচাঁদা মাছের মতো দেখতে এই মাছের নাম পিরানহা। সরকার পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুরের উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। নগরীর বিভিন্ন বাজারে এই নিষিদ্ধ মাছ এখন প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা দীলিপ দাশ জানালেন, এই মাছ বিক্রয় যে নিষিদ্ধ, তা তিনি জানেন না।
গার্মেন্টকর্মী তাসলিমা দাম কম বলে তিনিও এই মাছ কিনছিলেন। এখানেও বিক্রেতা রূপচাঁদা বলে পিরানহা বিক্রি করছিলেন। ক্রেতাদের কাছে মিথ্যা কথা বলছেন কেন, জানতে চাইলে বিক্রেতা হাঁসলেও কোনো সদুত্তর দেননি।
এলাকার বাসিন্দা টিটু চৌধুরী জানালেন, প্রায়ই এখানে কিছু বিক্রেতা পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর এনে বিক্রি করেন।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, ‘পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর মাছ রাক্ষুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধিকরণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।’
তিনি জানান, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পিরানহা এবং ২০১৪ সালের জুন থেকে আফ্রিকান মাগুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী জানান, ‘লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর যাতে বাজারে বা কোনো এলাকায় বিক্রি করতে না পারে তারা সেই চেষ্টা করছেন। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে তারা অভিযান পরিচালনা করেন।’