বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের সম্পর্ক আজীবন অটল থাকবে

0
162

‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ ভাস্কর্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার

নিজস্ব প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড :
‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালি মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর সাথে যে যুদ্ধ করেছে এবং এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যুদ্ধ পরবর্তীতে বাংলাদেশ ভারতের যে গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তা আজীবন অটল থাকবে।’
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদশে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ নামক ভাস্কর্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী এ কথা বলেন।
ভারতীয় সৈন্যদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শহীদ মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীদের স্মরণে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ নামে নির্মিত ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকের ভূঁইয়া, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযুদ্ধা বদিউল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়, জেলা পরিষদ সদস্য আ ম ম দিলসাদ, এএসপি (সীতাকুণ্ড সার্কেল) আশরাফুল করিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের মিত্র বাহিনীর অনেক সৈন্য শহীদ হন। সীতাকুণ্ডে মুক্তিবাহিনীর সাথে অনেক ভারতীয় বাহিনী শহীদ হয়েছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতি রক্ষার্থে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় আজকের এই ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আগের চাইতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এই প্রত্যাশা করি।
প্রধান অতিথি ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী অনেকক্ষণ ইংরেজি ভাষায় বক্তব্যের পর শুদ্ধ বাংলায় সর্বশেষে বলেন, বাংলাদেশ ভারত বন্ধুত্বের সম্পর্ক আজীবন অটল থাকবে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় ১২ থেকে ১৬ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ডে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সাথে পাক হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। বীরত্বপূর্ণ এই যুদ্ধে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অসংখ্য সদস্য শহীদ হন। এই যুদ্ধে ১৭ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড পাক হানাদার মুক্ত হয়। যুদ্ধে শহীদ মিত্রবাহিনীর পঞ্চাশের অধিক জওয়ানের মরদেহ সীতাকুণ্ড সদরে চন্দ্রনাথ মন্দিরগামী এলাকায় দাহ করা হয়।