‘বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলে রাগ হয়, মন ভেঙে যায়’

242

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক :
হাজার যশ-পরিচিতি-অর্থও ঘোচাতে পারেনি ‘বর্ণবিদ্বেষ’ তকমা। খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। শুধু বিশ্বখ্যাত ফুটবলার নন, কেরিয়ারের কোনও না কোনও সময় এমন পরিস্থিতির শিকার ক্রিটেকার, গল্ফার, টেনিসতারকা- সকলেই। নিজেদের মতো করে বহুবার এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। কিন্তু ছবিটা বদলায়নি। আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ খুনের পরে তাই একজোটে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন খেলার দুনিয়ার তারকারা।
কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে নয় মিনিট ধরে হাঁটুর নিচে চেপে রেখেছিল শেতাঙ্গ পুলিশ। শেষ মুহূর্তে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বলেছিলেন, ‘আহ্, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’ তারপরই সব শেষ। প্রাণ হারান ফ্লয়েড। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই উত্তাল মার্কিন মুলুক। চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেও ক্ষোভের আঁচ কমেনি। উলটে বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক টুইট। কখনও লিখেছেন, আন্দোলনের নামে লুঠপাট চলছে। আবার কখনও বলেছেন, লুটিং লিডস টু শুটিং। ক্রমাগত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিশিষ্টদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ট্রাম্পকে। এবার আমেরিকার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন ক্রিস গেইল, কিলিয়ান এমবাপে, টাইগার উডসরা। এই সমস্ত তারকারা এক একজন এক-একদেশের। কিন্তু প্রত্যেকেই এই প্রতিবাদে শামিল হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্ণ বিদ্বেষ নিয়ে গোটা বিশ্বের ছবিটা একইরকম।
Black Lives Matter অভিযানে শামিল হয়ে ক্যারিবিয়ান তারকা গেইল বলছেন, ‘অন্যদের মতোই কৃষ্ণাঙ্গদেরও মূল্য আছে। তাদের অপমান করাটা বন্ধ করুন। দুনিয়ার অনেক জায়গায় ঘুরেছি। বিশ্বাস করুন, সব জায়গাতেই বিষয়টা একইরকম। শুধু ফুটবলই নয়, ক্রিকেটেও রয়েছে। এমনকী দলের মধ্যেও এই মনোভাব দেখা যায়।’
ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন ফুটবল তারকা অ্যানেক্স মর্গ্যান। টুইট করে ঘটনার নিন্দা করেছেন তিনি। প্রতিবাদের সুর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের স্ট্রাইকার এমবাপে থেকে ফুটবলার পল পোগবা, বাস্কেটবল তারকা মাইকেল জর্ডন, ফর্মুলা ওয়ান কিংবদন্তি লুই হ্যামিলটন, চ্যাম্পিয়ন গল্ফার টাইগার উডস- প্রত্যেকেই।
উল্লেখ্য, হুঁশিয়ারি, পুলিশি নির্যাতন, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া সেনা নামিয়েও আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলন দমন করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট। বরং আন্দোলনকারীদের ভয়ে কার্যত হোয়াইট হাউসের গোপন বাঙ্কারে সাময়িক আশ্রয় নিতে হয় দোর্দ-প্রতাপ ট্রাম্পকে। যা এক কথায় নজিরবিহীন।
খবর : সংবাদপ্রতিদিন’র।