বন্দরে অগ্নিকাণ্ড : আধুনিকীকরণে বড় ভূমিকা নিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকেই

0
300

মঙ্গলবার বন্দরের একটি শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অনেক বছরের পুরনো দ্রব্যের মধ্যে আগুন লাগে। এবিষয়ে বন্দরের পক্ষ থেকে সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শেডে অগ্নিকাণ্ডের পর বন্দর ব্যবহারকারী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইয়ার্ডের ভেতরে খোলা পণ্য রাখার শেড ও কনটেইনার খেকে পণ্য বের করে খালাস করা আধুনিক বন্দরের পরিচয় বহন করে না। এসব পণ্য রাখার জন্য বন্দরের বাইরে শেড নির্মাণের সময় এসেছে। আর বন্দরের ভেতর থেকে যতো দ্রুত এসব কাজ বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে ততোই গতিশীল হবে চট্টগ্রাম বন্দর।

একসময় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সব ধরনের পণ্য ডেলিভারি হতো। জাহাজ থেকে নামার পর বন্দরের ইয়ার্ডে জমা হতো। কিন্তু এই বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বাড়তে থাকায় প্রায় ২০ বছর আগে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠে অফডক। এখন প্রায় ১৯টি অফডকে শতভাগ রপ্তানিপণ্যের কনটেইনার এবং আমদানিকৃত কনটেইনার অফডকে যাচ্ছে। এতে বন্দরে গতি এসেছে এবং কমে এসেছে কনটেইনার জট। কিন্তু এলসিএল (যে কনটেইনারে একাধিক আমদানিকারকের পণ্য থাকে) কনটেইনারে আসা পণ্য বন্দরের ইয়ার্ড থেকে ডেলিভারি হয় এবং জাহাজ থেকে নামানোর পর পণ্যগুলো বিভিন্ন শেডে রাখা হয়। বন্দরের ভেতরে এমন ১৪টি শেড রয়েছে। তবে এলসিএল কনটেইনারের পণ্য ছাড়াও বাল্ক পণ্য (খোলা অবস্থায় যেসব পণ্য আসে। যেমন- স্ক্র্যাপ, কাপড়ের রোল, মেশিনারিজ প্রভৃতি) রাখার জন্য কিছু শেড রাখার প্রয়োজন।

এবিষয়ে বন্দরের সদস্য  জাফর আলম সুপ্রভাত প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বন্দরের বাইরে এসব পণ্য ডেলিভারি দেয়ার সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এখনো তা বন্দরের ভেতরে রয়েছে। তবে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা এক্ষেত্রে এগিয়ে এসে অফডকের মতো ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সবগুলো শেডের প্রয়োজন রয়েছে কি না তা যাচাই করে দেখা হবে এবং তা বাইরে নেওয়া যায় কি না তা বিবেচনায় আনা হবে। একইসাথে বে টার্মিনালে একটি শেড নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। যেখান থেকে এসব পণ্য ডেলিভারি দেয়া হবে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এসোসিয়েশনের (বাফা) পরিচালক খায়রুল আলম সুজন এ বিষয়ে বলেন, ‘আধুনিক বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাস হতে পারে না। এজন্য নির্ধারিত ওয়্যারহাউজ থেকে পণ্য খালাস হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদেরকে এমন সুযোগ দেয়া হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য বন্দরের বাহিরে যেভাবে শেড নির্মাণ করা হয়েছে গাড়ির রাখার জন্য। ঠিক তেমনভিাবে এলসিএল কনটেইনারের পণ্য রাখার জন্য যদি এমন শেড নির্মাণ বা জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয় তাহলে আমদানিকারকরা যেমন দ্রুত সেবা পাবে তেমনিভাবে বন্দরের কাজেও গতি আসবে।’
বাফার এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ‘ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা নিজ উদ্যোগে সরকার থেকে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে বা জায়গা কিনে এমন শেড নির্মাণ করবে। বন্দর তো তা করে দিতে পারে না।’

বিষয়টি পরস্পরের দিকে বল ছুঁড়ে দেওয়ার মতো নয়। এখানে যেমন বন্দর ব্যবহাকারীদের স্বার্থ জড়িত তেমনি বন্দরের নিরাপত্তাও জড়িত।  কাজেই উভয়পক্ষকেই একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। বন্দরকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার স্বার্থে বরং বন্দর কর্তৃপক্ষকেই অগ্রগামী ভূমিকা নিতে হবে।