বঙ্গবন্ধু ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি

0
120

জমিয়তুল ফালাহ’য় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, একটি নতুন মানচিত্রের অমর রূপকার। বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলমান। তিনি কখনও ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশকে সকল ধর্মের সকল মানুষের জন্য শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট। বঙ্গবন্ধুর স্বল্পকালীন শাসনামলে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণার্থে গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত পদক্ষেপ যেমন ছিল, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের বিষয়াদি বিবেচনায় রেখে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে গ্রহণ করেছিলেন বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী নানা ব্যবস্থা। তিনি যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, তেমনি বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনি। তিনি গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দামপাড়াস্থ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ও কমপ্লেক্সে ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন করেছেন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইসলামের প্রচার-প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান অনেক। এ সরকার মসজিদ মন্দিরের যে উন্নয়ন করেছেন তা কল্পনাতীত। ১০ হাজার কেটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান। আগামী রমজানের আগে ৫০টি মডেল মসজিদ একযোগে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য সরকার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য করোনাকালীন ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান এক অধ্যাদেশ জারি করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত অন্যতম বৃহৎ সংস্থা হিসেবে বিশ্বে নন্দিত। এ প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশে ৬৪টি জেলা কার্যালয়, আর্তমানবতার সেবায় ২৮টি ইসলামিক মিশন ও ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ইসলামের প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে এবং তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলামের খেদমতে যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলছেন, পৃথিবীতে তার দৃষ্টান্ত বিরল।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আইসিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আবদুল হামিদ জমাদ্দার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ফারুক আহমেদ (যুগ্ম সচিব), চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব মাওলানা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, জমিয়তুল ফালাহ্ কমপ্লেক্সের প্রকল্প পরিচালক মো. ইদ্রিছ, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক বোরহান উদ্দিন মো. আবু আহসান। বিজ্ঞপ্তি