সুপ্রভাত ডেস্ক »
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ বিদায় নিলেও এর কালো ছায়া এখনো রয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও সংকট এখনো কাটেনি। সমাজে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা বিদ্যমান।
রোববার (২২ মার্চ) সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যা দুঃখজনক। রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমে গেছে। একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
মতবিনিময় সভায় সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক অংশ নেন। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় মানুষের মধ্যে আবারও অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবো। তবে জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করবো না।
নতুন ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি তৈরি করতে গত নির্বাচন বর্জন করেননি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের ধারায় আমরা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রত্যাখ্যান করিনি। আমরা বলেছি, বুকে চাপ নিয়ে নির্বাচন মেনে নিয়েছি। তারপরও টিআইবি, সুজনের মতো সংগঠন নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে। আমরা মনে করি গত নির্বাচন কেমন হয়েছে তা বুঝার জন্য এসব প্রতিবেদন সহায়ক হবে।
পৃথিবীর অনেক দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির দাবি। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার এই দাবি দ্রুত পূরণ করবে।


















































