ফুটপাতে দোকান নিয়ম সবাইকে মেনে চলতে হবে

0
246

নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক সিডিএ অ্যভেনিউ। আর এই সড়কের ব্যস্ততম এলাকা লালখান বাজার মোড় থেকে বহদ্দারহাট।  লালখান বাজার থেকে জিইসি পর্যন্ত সড়কে সবসময় ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকে । অনেক উদ্যোগ নিয়েও তা দূর করা যায়নি। এই সড়কের ফুটপাতে পুলিশ লাইনের সামনে কয়েকবছর আগে সবাইকে অবাক করে গড়ে তোলা হয় একটি মাংসের দোকান। বাওয়া স্কুলের বিপরীতে ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাতে এমন একটি স্থাপনা তৈরি হওয়ায় প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল সেসময়। করোনাকালে কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর এবার সেখানেই নির্মিত হচ্ছে দ্বিতল রেস্টুরেন্ট। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মালিকানাধীন জায়গাটি সম্প্রতি ‘দ্য এক্সসেপশন লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেয়া হয়েছে।

নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন সীমানার মূল ফটকের পাশের এ জায়গা কয়েক বছর আগে উল্লিখিত ‘দ্য এক্সসেপশন লিমিটেড’ নামে প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয় সিএমপি। ২০১৬ সালে ওই জায়গার ওপর ‘বেঙ্গল মিট’ নামে মাংস বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। মূল সড়কের সাথে লাগোয়া ফুটপাত ঘেঁষেই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হওয়ায় তখন বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা ওঠে। পাশাপাশি জায়গার মালিকানা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয় সিএমপি ও চসিকের মধ্যে। ওই বছরের নভেম্বরে সিএমপি’র তৎকালীন কমিশনার ওই জায়গায় বেঙ্গল মিট নামে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে একই জায়গার ওপরই দ্বিতল রেস্টুরেন্ট নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে এক্সসেপশন লিমিটেডের দায়িত্বশীল একজন জানিয়েছেন তাদের সাথে নতুন করে চুক্তি সম্পাদন করেছে সিএমপি। ওই জায়গায় থাকা বেঙ্গল মিট নামের প্রতিষ্ঠানটি গত এপ্রিলে সেখান থেকে সরিয়ে জিইসিতে আনা হয়েছে। মাসখানেক আগে শুরু হওয়া রেস্টুরেন্ট নির্মাণ কাজের প্রথম তলা সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই দ্বিতীয় তলার কাজ শেষে রেস্টুরেন্টটি চালু করা হবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পুলিশের জায়গার ওপর রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ হচ্ছে। তাদের উদ্যোগেই এটি করা হচ্ছে। আমরা আগেও এ বিষয়ে পুলিশের সাথে কথা বলেছিলাম। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’ তবে তিনি বলেন, আমরা শীঘ্রই এই ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে যাব। সাধারণ জনগণের স্বার্থে পুলিশের সাথে কথা বলে সমস্যাটি নিরসনের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

জায়গাটি সরকারি। বর্তমানে তা পুশিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। তারা জায়গাটি শুধু বাণিজ্যিক লক্ষ্যে ইজারা দিয়েছেন। এটা করতে গিয়ে তারা নিজেদের আইন নিজেরাই ভঙ্গ করেছেন। একেতো ফুটপত ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানটি তার ওপর এখন তা দোতলাও করা হচ্ছে কিন্তু পার্কিংয়ের জন্য কোনো জায়গাও নেই সেখানে। এরফলে ব্যস্ততম স্থানটিতে ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকবে সবসময়। কাজেই আমরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি করব। আশা করব আইন যে সবার জন্য সমান তা সরকারি প্রতিষ্ঠানটি মনে রাখবে।