ফলের বাজার চড়া

0
385

রুমন ভট্টাচার্য :
রমজানে চাহিদা বাড়ে কলা, মাল্টা, আপেল ও আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফলের। সেই সাথে করোনাতে বেড়েছে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলের চাহিদা। রোজা ও করোনার বাড়তি চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় সবরকম ফলের দাম। দেশীয় কোনো কোনো ফলের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে বাজারে ফলের যোগানে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার নগরীর চকবাজার এলাকার কয়েকটি ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাংলা কলা প্রতিডজন আকারভেদে ১২০-১৫০ টাকা, সাগর কলার ডজন ৫০-৭০ টাকা, চাপা কলা ৪০-৫০ টাকা, আঙ্গুর (লাল) প্রতিকেজি ৫০০ টাকা, আনার কেজি ৪৫০ টাকা, কমলা প্রতিডজন ৪০০ টাকা, সাদা আঙ্গুর প্রতিকেজি ৩০০ টাকা, সাদা তরমুজ আকারভেদে প্রতিপিস ১৬০-৫০০ টাকা, কালো তরমুজ প্রতিকেজি ৭০ টাকা, বেল ১ জোড়া ৮০-১০০ টাকা, মাল্টা কেজি ১৮০ টাকা, রেড গোল্ডেন আপেল কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সবুজ আপেল কেজি ১৬০ টাকা, নাশপাতি কেজি ১৮০ টাকা, মাল্টা কেজি ১৮০ টাকা, আম কেজি ১৮০-২৫০ টাকা, কাঁঠাল ১৫০-২০০ প্রতিপিস, পেঁপে কেজি ১০০ টাকা, পেয়ারা কেজি ১২০ টাকা, আনারস জোড়া ৬০-৮০ টাকা ও খেজুর মানভেদে ২০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি।
ফলের খুচরা বিক্রেতারা জানান, কেজিপ্রতি আপেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। কেজিতে মাল্টার দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। নাশপাতি ৭০ টাকা ও আঙ্গুর ১০০ টাকা। আগে লাল আঙ্গুর ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৫০০ টাকা ও সবুজ আঙ্গুর ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চকবাজারে বাজারে ফল কিনতে আসা আবু বক্কর বলেন, ‘বাংলা কলার যে দাম তা আমার কেনার সামর্থ্যরে বাইরে। সবকিছুর দাম যদি এভাবে বাড়ে তাহলে আমরা কীভাবে চলব।’
চকবাজারের খুচরা ফল ব্যবসায়ী বিধান হোড় সুপ্রভাতকে বলেন, পাইকারি বাজার ফলমন্ডি থেকে দেশি-বিদেশি ফলগুলো আমরা নিয়ে আসি। দেশি-বিদেশি সব ফলের দাম প্রায় কেজিপ্রতি সর্বনি¤œ ৩০ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রমজান উপলক্ষে দাম বেড়েছে কিনা জানি না। তবে বাজারে মালের কমতি নেই। আশা করছি ধীরে ধীরে কমে আসবে।
ইফতারের জন্য ফল কিনতে আসা জাবেদ ইকবাল বলেন, এই গরমে রোজা রেখে ফলের তৈরি জুস একটু ভালো লাগে। ফলনমশং ৫০০ টাকা দিয়ে যদি একটা তরমুজ কিনতে হয় তাহলে বাকি ফল কিনব কীভাবে? সব ফলের দাম বেড়েছে অনেক।
এদিকে রোজার শুরুতেই নগরীর বৃহত্তর পাইকারি বাজার ফলমন্ডিতে দ্বিগুণ দামে বিক্রয় করা হয় মাল্টাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। যা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়ে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প্রতিকেজি মাল্টা পাইকারি ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও কোনো কারণ ছাড়াই রোজা শুরুর আগে তা ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। বেশি দামে মাল্টা বিক্রির অপরাধে ফলমন্ডির ৫ আড়তদারকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম।