পরিবেশ ও বিজ্ঞান

95

সাধন সরকার :

 

দক্ষিণ গোলার্ধ

বন্ধুরা, পৃথিবী কিন্তু একটি গ্রহ। সৌরজগতের বাসযোগ্য ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ হলো পৃথিবী। পুরো পৃথিবীকে অনুরূপ অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশরূপে সমতল কাগজের ওপর গোলাকার আকারে কল্পনা করা হয়েছে। মানচিত্রে অঙ্কিত পৃথিবীর মাঝ বরাবর (পৃথিবীকে দু’ভাগ করে) পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টিত নিরক্ষরেখা কল্পনা করা হয়েছে। নিরক্ষরেখার দক্ষিণ অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে। দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি।

দ্রাঘিমা

পুরো পৃথিবীকে অনুরূপ অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশরূপে সমতল কাগজের ওপর গোলাকার আকারে কল্পনা করা হয়েছে। কল্পিত পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণে দ-ায়মান মূল মধ্যরেখা কল্পনা করা হয়েছে। মূল মধ্যরেখা হতে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সে স্থানের দ্রাঘিমা বলে। রেখাগুলো দু’মেরুকে যুক্ত করে উত্তর-দক্ষিণে লম্বভাবে প্রসারিত। নিরক্ষরেখায় এ রেখাগুলো উত্তর-দক্ষিণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দ্রাঘিমারেখার মান বা ডিগ্রিকে দ্রাঘিমা বলে। দ্রাঘিমাকে ডিগ্রি, মিনিট এবং সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

দূষণ

ছোট্টবন্ধুরা, কোনো কিছুর স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট হওয়া বা ক্ষতিকর প্রভাব ফেললে তাকে সাধারণভাবে দূষণ বলা যেতে পারে। দূষণ বলতে সাধারণভাবে পরিবেশ দূষণকেই বোঝায়। পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট হলে বা পরিবেশর উপাদান নষ্ট হওয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর প্রভাবের দরুণ দূষণ হয়ে থাকে। মূলত মানবসৃষ্ট কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের দূষণ আমাদের চারপাশে ঘটে থাকে। পানিদুষণ, শব্দদুষণ, বায়ুদূষণ, মাটিদূষণ, আলোদূষণ, দৃশ্যদূষণ, বর্জ্যদূষণ, গ্যাসদূষণ, তেজস্ক্রিয় দূষণ ইত্যাদি দূষণের প্রভাবে পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট হয় এবং মানবজাতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

দ্বীপ

চারদিকে পানি বা জল দিয়ে ঘেরা ভূখ- বা জায়গাকে দ্বীপ বলা হয়। কাছাকাছি অনেকগুলো দ্বীপ মিলে হয় দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপ সাধারণত দুধরনের হয়। যথা : মহাদেশীয় দ্বীপ, কৃত্রিম দ্বীপ। নানাভাবে দ্বীপ তৈরি হতে পারে। যেমন : পলিসঞ্চিত হয়ে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়ে ইত্যাদি। বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ হলো ভোলা। এছাড়া মনপুরা, নিঝুম, হাতিয়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ অনেক দ্বীপ বাংলাদেশে রয়েছে।

দুর্যোগ

দুর্যোগ বলতে সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগকে বোঝায়। দুর্যোগ প্রাকৃতিক ঘটনা, যাতে মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। দুর্যোগ কম-বেশি প্রায় সময় সব দেশে হয়। দুর্যোগের দুটি রূপ রয়েছে। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পরিবেশের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী মারা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিধস, অগ্নিকা-, জলোচ্ছ্বাস, হারিকেন ইত্যাদি বোঝায়। তবে বাংলাদেশে বন্যা, নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

দিন-রাত্রি

পৃথিবীর নিজের বা নিজ অক্ষের চারদিকের ঘূর্ণায়মান গতিকে পৃথিবীর আহ্নিকগতি বলে। এই আহ্নিকগতির কারণে দিন ও রাত হয়। পৃথিবী প্রতি ২৪ ঘণ্টাায় নিজ অক্ষে একবার সম্পূর্ণভাবে ঘুরছে। ঠিক এ কারণেই প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে এবং সন্ধ্যায় অস্ত যায়। পৃথিবী একদিক সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে এবং অপর দিক সূর্যের বিপরীতে থাকে। যে-দিকটা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে সেই দিকটায় দিন এবং যে দিকটা বিপরীত দিকে থাকে সেইদিকটায় রাত হয়।