পদার্থবিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন

0
165

অনিক শুভ :

আইজ্যাক নিউটন ১৬৪৩ সালের ৪ জানুয়ারি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। অনেকের মতে, নিউটন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী।

তার বিশ্বনন্দিত গ্রন্থ ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশিত হয় যাতে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিধৃত করেছিলেন। তিনিই প্রথম দেখিয়েছিলেন, পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সকল বস্তু একই প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেপলারের গ্রহীয় গতির সূরে সাথে নিজের মহাকর্ষ তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। তার গবেষণার ফলেই সৌরকেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণার পেছনে সামান্যতম সন্দেহও দূরীভূত হয় এবং বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।

বলবিজ্ঞানের ভিত্তিভূমি রচনা করেছেন নিউটন। রৈখিক এবং কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রের মাধ্যমে তিনি এই ভিত্তি রচনা করেন। আলোকবিজ্ঞানের কথায় আসলে তার হাতে তৈরি প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্রের কথা এসে যায়।

একদিন একজন লোক তাঁর বাড়িতে এসে একটা প্রিজম (তিনকোণা কাচ) দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করল, এর কত দাম হতে পারে? প্রিজমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বিবেচনা করে নিউটন বললেন, এর মূল্য নির্ণয় করা আমার সাধ্যের বাইরে। লোকটি নিউটনের কথা শুনে অস্বাভাবিক বেশি দামে প্রিজমটি বিক্রি করতে চাইল। কোনো দরদাম না করে সেই দামেই প্রিজমটি কিনে নিলেন নিউটন। নিউটনের বাডি়ওলা সব কথা শুনে বললেন, তুমি নেহাতই বোকা। এটা সাধারণ একটা কাচ, এই কাচের যা ওজন হবে সেই দামেই এটা কেনা উচিত ছিল। নিউটন কোনো কথা না বলে শুধু হাসলেন। পরবর্তীকালে এই প্রিজম থেকেই তিনি উদ্ভাবন করেন বর্ণতত্ত্ব ।

গণিতের জগতেও নিউটনের জুডি় মেলা ভার। নিউটন এবং লাইবনিজ যৌথভাবে ক্যালকুলাস নামে গণিতের একটি নতুন শাখার পত্তন ঘটান। এই নতুন শাখাটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে বিপ¬ব সাধনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

১৬৬৫ সালে যখন বুবোনিক পে¬গের মহামারি শুরু হয়, নিউটন তখন ট্রিনিটি কলেজে তাঁর অনার্স ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করছেন। মহামারি থেকে বাঁচতে সবাই তখন লকডাউনে ঘরবন্দি। এই লকডাউনে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তরুণ বিজ্ঞানী নিউটন তখন অপটিকস, ক্যালকুলাস ও মহাকর্ষ নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। আর এই সময়েই তিনি আবিষ্কার করেন মহাকর্ষের বিশ্ববিখ্যাত সূত্রটি।

একদিন আইসোলেশনে থাকা নিউটনের সঙ্গে দেখা করতে যান তার এক বন্ধু। বইটিতে সেদিনের বর্ণনায় নিউটনের বন্ধু বলছেন, ‘আমি আর নিউটন বাড়ির পেছনে বাগানে গেলাম। আপেল গাছের তলায় বসে চা খেতে খেতে আলোচনা করছিলাম আমরা। নিউটন আমাকে বলছিল, গাছ থেকে আপেল মাটিতে পড়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে ও। সেই পুরানো প্রশ্ন বারবার ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, ‘আপেলটি বারবার সমকোণে মাটিতে এসেই পড়ে কেন? ডানে-বামে বা উপরে কেন চলে যায় না? নিশ্চয়ই পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে কিছু একটা টানে আপেলটিকে। তার মানে পদার্থের নিশ্চয়ই আকর্ষণ ক্ষমতা আছে। আর সেটা কত শক্তিশালী হবে তা নির্ভর করে তার ভরের উপর।’ অর্থাৎ সামান্য একটা আপেলের পতন থেকে দুনিয়া কাঁপানো সূত্র বা তত্ত্ব ভাবিয়েছিল নিউটনকে।

প্লেগের মহামারি যখন শেষ হয়, তখন তার আবিষ্কারের কাগজপত্র জমা দেন নিউটন। আর এর ফলেই ট্রিনিটি কলেজের ফেলোশিপের মর্যাদা পান তিনি।

১৭২৭ সাল, নিউটন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চিকিৎসাতে কোনো সূফল পাওয়া গেল না। অবশেষে ২০ মার্চ মহাবিজ্ঞানী নিউটন তাঁর প্রিয় অনন্ত বিশ্বপ্রকৃতির বুকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন। সাতদিন পর তাঁকে ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবিতে সমাধিস্থ করা হয়।