নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক : সময়মতো সঠিক চিকিৎসাসেবা পেতে হবে

0
126

দেশে প্রতি ঘণ্টায় ৫ বছরের কম বয়সী ৩ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। সেই হিসেবে বছরে গড়ে ২৪ হাজার ৩০০ শিশু মারা যাচ্ছে। আবার আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশের মৃত্যু ঘটছে বাড়িতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা ঘাটতি রয়েছে।
গতকাল ছিল বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি বছর ৮ লাখ শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। এর ৯০ শতাংশই আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, নিউমোনিয়া প্রতিরোধ কার্যক্রম দ্বিগুণ বাড়ানো প্রয়োজন হলেও এ ব্যাপারে নেওয়া উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর বুক দেবে যাওয়া, জ্বরÑকাশি এবং ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া নিউমোনিয়ার লক্ষণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে ১০টি সুবিধা থাকার কথা বলা হয়েছে, আমাদের দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে তা নেই মর্মে উল্লেখ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে ৩টি সংস্থা আয়োজিত এক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা দেশের উপজেলা পর্যন্ত হাসপাতালগুলিতে পালস অক্সিমিটার এবং অক্সিজেন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে শিশুমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ এখন নিউমোনিয়া, দেশের ৯৭ শতাংশ শিশু এই রোগের টিকা পেলেও নিউমোনিয়া পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে প্রতিরোধ প্রস্তুতি, সঠিক ব্যবস্থাপনা, সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া আবশ্যক, সর্বোপরি অভিভাবকের সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। পরিবেশ দূষণ ও নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে খাবারে পুষ্টিমান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান করোনাকালে এ ক্ষেত্রে ঘাটতিও ব্যাপক। শীতকালে শিশুদের এই রোগ বেড়ে যায়। বায়ুদূষণ, আবদ্ধ স্থানে বসবাস, শিশুদের জন্য এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শুধু শিশু কেন, বয়স্করাও এই রোগে আক্রান্ত হন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
আমাদের স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এই করোনাকালে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামে বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণে কয়েকবছর আগে বরাদ্দ পাওয়া গেলেও সম্প্রতি স্থান নির্বাচন হয়েছে মাত্র। চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য পৃথক ক্যান্সার, কিডনি, হার্ট হাসপাতাল নেই।
পরিবেশের ভয়াবহ দূষণ, পুষ্টিহীনতা, দুর্ঘটনা ও নানা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবং স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত না থাকায় দেশে শিশুমৃত্যুর হার এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিটি শিশু অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাদের নিরোগ জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের।