নতুন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হোক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের চার দেয়ালের বাইরে উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা ছিল দেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। তিন দশক পর দেশের মানুষ একজন নতুন রাজনীতিবিদকে সরকারপ্রধান হিসেবে পেল, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সুবাতাস বয়ে আনবে বলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।
বিএনপির এই ক্ষমতা গ্রহণ নিছক কোনো রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং এটি একটি বিশাল জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ২০২৪-এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে একটি স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা এখন বাস্তবায়নের সময়। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেমন রয়েছে সাফল্যের হাতছানি, তেমনি রয়েছে এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রথম ও প্রধান অগ্নিপরীক্ষা।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এই মুহূর্তে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস ওঠা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের পরিচয়। ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্লোগান নিয়ে তারেক রহমান যাত্রা শুরু করলেন, তার মূল স্তম্ভ হতে হবে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন। প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে তিনি যদি ঐক্যের রাজনীতির ডাক দেন, তবেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদে যে নতুন মুখ এবং অভিজ্ঞদের সমন্বয় দেখা গেছে, তা একটি গতিশীল প্রশাসনের ইঙ্গিত দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
তিন দশক পর নতুন একজন নেতার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো সবসময়ই রোমাঞ্চকর হয়, কিন্তু স্থিতিশীলতা আসে দায়বদ্ধতা থেকে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে পাথেয় করে পথ চলে, তবেই ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্থক হবে।
আমরা এক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রয়েছি—যেখানে উন্নয়ন হবে সুষম, রাজনীতি হবে পরমতসহিষ্ণু এবং প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা হবে সুরক্ষিত। অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অভিনন্দন নতুন মন্ত্রিসভাকে। দেশবাসীর সাথে আমরাও আশাবাদী, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার এক মাথা উঁচু করা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র।