বাবুল কান্তি দাশ »
আজকের তথাকথিত সভ্য সমাজে “স্বাধীনতা” শব্দটি যেন প্রবৃত্তির লাইসেন্সে পরিণত হয়েছে। অথচ ধর্মের নামে ধার্মিকতার ঝান্ডা, রাজনীতি থেকে ব্যক্তি-জীবন-সবখানেই স্বাধীনতা মানে ‘যা খুশি তাই করা।’ অথচ এই সংজ্ঞা মানুষের অস্তিত্ব, চরিত্র ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাধীনতার মূলে “স্ব”- প্রবৃত্তি নয়, সত্তা। “স্বাধীন হওয়া মানে স্ব-এর অধীন হওয়া- অর্থাৎ সত্তার অধীন হওয়া। “স্ব” মানে অহংকার নয়, “স্ব” মানে সত্তা- অস্তিত্ব (ঊীরংঃবহপব)। অস্তিত্ব রক্ষা না হলে স্বাধীনতা ভোগ করবে কে? সত্তা ধ্বংস হলে স্বাধীনতার সমস্ত দাবি অর্থহীন হয়ে যায়। মানুষ বহু থাকলেও মনুষ্যত্বের বড় অভাব। অভাব ঘুচবে তখনই যখন প্রতিপ্রত্যেকে মঙ্গলের মূর্তকে কায়মনোবাক্যে ধরা। সত্তার অধীন হওয়া মানেই আদর্শের অধীন হওয়া। আর আদর্শনিষ্ঠ হলেই মানুষ প্রবৃত্তির শিকল ছিন্ন করে অনন্ত আনন্দের পথে প্রবেশ করে, সকলকে আপন করতে পারে এবং সমাজকে কল্যাণের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। এটাই স্বাধীনতার যথার্থ সুখ।- “স্বাধীন” মানে স্বেচ্ছাচার নয়, সত্তানিষ্ঠ অধীনতা। স্বাধীনতার নামে যা ইচ্ছে, তা করা নয়। যে সত্তার অধীন নয়, সে প্রকৃতপক্ষে একটি বদ্ধ জীব। কারণ, সত্তার অধীন না হলে মানুষ বাধ্য হয় প্রবৃত্তির অধীন হতে। আর প্রবৃত্তির অধীন মানুষ নিজের কামনা বাসনার বৃত্তেই ঘুরপাক খেতে থাকে। সে নিজেরও মঙ্গল বোঝে না, অপরেরও মঙ্গল করতে পারে না। অতএব আধুনিক স্বাধীনতার নামে যে উলংগ উচ্ছৃঙ্খলতা চলছে, তা স্বাধীনতা নয়- তা হলো চরিত্রহীন দাসত্ব। পরস্পর পরস্পরের বাঁচাবাড়র সহায় যখন হয়—আদর্শ-স্বার্থে স্বার্থান্বিত হ’য়ে,— তখনই আসে সত্যিকার স্বাধীনতা। যেমন আমরা দেখতে পাই আমাদের শরীরবিধানে। কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই বেঁচে থাকতে পারে না, যদি পরস্পর পরস্পরের বাঁচা-বাড়ার সহায়ক না হয়। স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের কাছে অতিপরিচিত একটি শব্দ। হরহামেশা বিভিন্ন মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের মুখে আমরা এ শব্দটি শুনতে পাই। সবাই স্বাধীনতা নামক মহান ধ্বনি উচ্চারণ করে তাদের কার্যসিদ্ধি করতে চায়। আবার কেউ কেউ স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার কথাও সতর্কবাণী হিসেবে উচ্চারণ করেন। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষেরা কি এখনও স্বাধীনতা শব্দটির অর্থ বুঝেছি।
এইতো গেল রাজনৈতিক নেতাদের স্ট্যাণ্ডবাজির কথা। অন্যদিকে শ্রমিকেরা চায় স্বাধীনতা, নারীরা চায় স্বাধীনতা, শিল্পীরা চায় স্বাধীনতা, শিক্ষকেরা চায় স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীরা চায় স্বাধীনতা। আমারতো মনে হয় প্রতিটি ক্ষেত্রের মানুষেরা আজ স্বাধীনতার দাবীতে অনড়। আসলে কি আমরা স্বাধীনতা চাই ? তার চেয়েও যে বেশী গুরুত্বপূর্ণ তা হলো আমরা কি জানি স্বাধীনতা মানে কী ? রাজনৈতিক নেতারা স্বাধীনতা মানে দেশের সার্বভৌমত্বকে বোঝান। সেই স্বাধীনতারও আবার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও ধরন রয়েছে। স্বাধীনতাও আবার অনেক ধরনের যেমন – বাক্ স্বাধীনতা। স্বাধীনতার জন্য আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে মনে হয় সবচেয়ে বেশী রক্তপাত হয়েছে। প্রত্যেকে তার নিজস্ব মতের প্রতিষ্ঠাকেই ভাবেন স্বাধীনতা। আফ্রিকা অঞ্চলের দিকে তাকালেই তথাকথিত স্বাধীনতার একটি নগ্নরূপ দেখতে পাই। কিন্তু স্বাধীনতা মানে কি এটাই ? ব্রুস বার্টন একজন বিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী। তিনি বলেছেন, এটা একটি অদ্ভুত বিষয় যে, আপনি এমন অনেক মানুষ পাবেন যারা বিশ্বের স্বাধীনতার জন্য জীবনদান পর্যন্ত করতে পারে। কিন্তু তারা অতিসামান্য আত্মত্যাগ করতে পারে না যাতে তারা নিজেরা নিজেদের যে সংকীর্ণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ তা হতে মুক্ত হতে। আমারতো মনে হয় নিজেদেরও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হয়ে আসতে পারাটাই এক ধরনের স্বাধীনতা। যে ভূমিতে আপনি আমাকে জন্ম দিয়েছেন, যে ভাষায় কথা শিখিয়েছেন, সেই ভাষাকে, সেই জন্মভূমিকে রক্ষা করতে হলে আমার মতো অনেকের প্রাণ দিতে হবে… সে রক্ত ইতিহাসের পাতায় সাক্ষ্য দেবে যে বাঙালি এখনো মাতৃভূমি রক্ষা করতে নিজের জীবন পর্যন্ত বুলেটের সামনে পেতে দিতে দ্বিধা বোধ করে না।”
১৯৭১-এর ৪ এপ্রিল, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র দশ দিন পর মাকে চিঠি লিখছেন এক মুক্তিযোদ্ধা। সেই আবেগ মনে করিয়ে দেয়, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল বাংলা ভাষা বলা, বাঙালি সংস্কৃতিতে শ্বাস নেওয়া মানুষের সম্মিলিত ও সুনির্দিষ্ট এক লক্ষ্যকে সামনে রেখে। তার বহিরাঙ্গটি যদি হয় রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন, অন্তরঙ্গে ছিল বাঙালির ভাষিক-সাংস্কৃতিক অধিকার পুনঃ অর্জন। দেশভাগের পরেও তাই কাঁটাতারের দু’পাশে বাঙালির ধ্যানজ্ঞান ছিল পূর্ব ‘পাকিস্তান’ নয়, পূর্ব ‘বঙ্গ’; বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিই ছিল জাতীয়তাবোধের চালিকাশক্তি। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলেও, ১৯৪৮-এ রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাঙালির একত্র হওয়া আর ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন প্রমাণ করে দিয়েছিল, ধর্ম নয়, ভাষা-সংস্কৃতিই তার অস্তিত্বের আশ্রয়। অসাম্প্রদায়িক এই ভাষিক-সাংস্কৃতিক জাতিচরিত্রকেই বাংলার সূর্য সন্তানেরা আহ্বান জানিয়েছিলেন মুক্তির সংগ্রামে, সেখানে উচ্চ-নীচ, হিন্দু-মুসলমান, শিক্ষিত-অসাক্ষর, গ্রাম-শহরে প্রভেদ ছিল না, ছিল শুধু সকলে এক হয়ে, প্রয়োজনে জীবনপাত করে ‘বাঙালির মাতৃভূমি’র মর্যাদা রক্ষার ব্রত। ১৬ ডিসেম্বর তাই স্রেফ এক যুদ্ধজয়ের আনন্দ উদ্যাপনের দিন নয়। তার দর্শনটি গভীরতর: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র-সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সার্থক হয়েছিল এ দিনে। সেটিই প্রকৃত ‘বিজয়’। স্বাধীনতা এসেছে, এসেছে বিজয়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তার বোধ এবং চেতনা কতটুকু? কেন এখনো মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাঁকা কথা শুনতে হয়! কেনো মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবে? মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাজাকার প্রীতি এখনো কেনো প্রজন্মে সঞ্চারিত হচ্ছে। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি পাইনি। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয়, স্বাধীনতা শব্দটার থেকে মুক্তি শব্দটা বেশী করে আমাদের প্রভাবিত ও উজ্জীবিত করেছে। আমাদের মনোজগৎ থেকে এখনো পরিপূর্ণভাবে বিদূরিত হয়নি কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য বিভাজন। আমাদের মগজে অঙ্কুরিত হয়নি শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত চেতনার বীজ। মননে করতে পারিনি পরিশীলিত পরিশুদ্ধ ভাবনার চাষাবাদ। এই স্বাধীনতা কি চেয়েছিলেন আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা! কার স্বাধীনতা? কিসের স্বাধীনতা? প্লিজ একটু বলবেন। আরে আপনি পাগল নাকি? স্বাধীনতা মানে বোঝেন না, আমাদের দেশ স্বাধীন, আমরা যা কিছু করতে পারি। তাই নাকি? কিন্তু দেশপ্রেমিকরা স্বাধীনতা মানে অন্য কিছু বলতেন। স্বাধীনতা মানে অরাজকতা নয়। স্বাধীনতা মানে শুধু ২৬ মার্চ নয়। স্বাধীনতা মানে দেশ প্রেম, দেশকে মা রূপে পরিগণিত করা- ুআমার জননী আমার মা, আমার জননী আমার দেশ”। স্বাধীনতা মানে এক দিনের ছুটি নয়, নয় পতাকা উত্তোলন, নয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চস্বরে মাইক বাজানো। এই মুহূর্তে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে আমরা কি স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছি! আত্মমর্যাদার জন্য যদি কাউকে আত্মহত্যা করতে হয়, ন্যূনতম বেঁচে থাকার অধিকারটা যদি পাওয়া না যায়, অথবা প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটা যদি কারও দয়া দাক্ষিণ্যের ওপরে নির্ভর করতে থাকে, তবে কি আমরা স্বাধীন? আমার দেশ কি স্বাধীন? অনেক দেশপ্রেমিক মনে করতেন- স্বাধীনতার পরেও কম পক্ষে পাঁচ বছর মিলিটারি শাসন দরকার। দেশের যুব সম্প্রদায়ের চরিত্র গঠন ও নিয়মানুবর্তিতা শেখার জন্যে। স্বাধীনতার অর্থ- দেশকে একটি সুদৃঢ় ভিতের উপরে দাঁড় করানো; দেশের মানুষের নূন্যতম প্রয়োজন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র ও বসবাস যোগ্য স্থানের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে তোলার সাথে কর্মসংস্থান ও বিজ্ঞান বিষয়ক দিকে দেশকে স্বনির্ভর করে তোলা। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করা, স্বাধীনতার অর্থ দেশের প্রতি আরও কর্তব্যপরায়ণ হওয়া। স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে পদ্মা দিয়ে জল কম গড়ায়নি। এর মধ্যে নানা রাজনৈতিক পালাবদল প্রত্যক্ষ করেছি। বাঙালি সংস্কৃতির উপর আঘাতের সাক্ষী হয়ে রয়েছি। ধর্ম ঘিরে রাজনীতি, উগ্রতা, সন্ত্রাস এখনও সুযোগসন্ধানী; ঢাকায় রমনা বটমূলে বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা ঢাকার বাইরে বাউল গানের উৎসবে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা জনমন বিস্মৃত হয়নি। সংস্কৃতির সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে মুক্ত চিন্তার প্রচার-প্রসারের উপরে, সেই চিন্তার চর্চাকারীদেরও অনেকের প্রাণ গিয়েছে ধর্মান্ধ অশুভ শক্তির হাতে, অনেকে প্রাণভয়ে পলাতক বা স্বেচ্ছানির্বাসিত। আধুনিক বাংলাদেশ এক দিকে অর্থনীতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ক্রিকেটে নজির গড়ছে, পদ্মা সেতু বানিয়ে কীর্তি স্থাপন করেছে, অন্য দিকে তার সমাজজীবনে এখনও প্রগতিমুখিতা ও পশ্চাৎপদতা এই দুইয়েরই টানাপড়েন। কিছু রাজনৈতিক দলের ধর্মীয় রাজনীতি ও বাঙালি সংস্কৃতিবিমুখতা রূপ পাচ্ছে রাস্তার সন্ত্রাসে। এই সবই যে নতুন বা অপরিচিত তা নয়, রাজনীতি ও ধর্মের আঁতাত বরাবরই সংস্কৃতিকে হতবল ও কুক্ষিগত করতে চেয়েছে, তা সে অতীতের অখণ্ড বঙ্গেই হোক বা আজকের বাংলাদেশে। আশার কথা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি বাঙ্গালিদের টান আজও অটুট: তার শিক্ষক কবি গায়ক শিল্পী চলচ্চিত্রকার থেকে শুরু করে একুশ শতকের নবীন প্রজন্মও ১৯৫২ বা ১৯৭১-এর ইতিহাসের উত্তরাধিকার বয়ে চলেছেন সানন্দে, সগর্বে। এই ঐতিহ্য বহনে ভার নেই, দায়বদ্ধতা আছে; অতীতকে ভুলে যাওয়া নেই, বুঝতে চাওয়া আছে, গ্লানিহীন আত্মসমালোচনা আছে। যত দিন বাঙালি এই অসাম্প্রদায়িক ভাষিক-সাংস্কৃতিক জাতীয়তার বোধে স্থিত থাকবে, তার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেগে থাকবে পূর্ণ গৌরবে। স্বাধীনতা শব্দটির ব্যাপ্তি অনেক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কতটা স্বাধীন হতে পেরেছি মনে প্রাণে। স্বাধীনতা বলতে আমি শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা ভাবি না। আমি স্বাধীন দেশেই জন্মেছি। ব্রিটিশদের দ্বারা পরাধীনতার গ্লানি আমি ইতিহাসে পড়েছি কিন্তু তার পরেও একটা প্রশ্ন থেকেই যায় যে প্রকৃত অর্থেই কি আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক ? আমার কাছে স্বাধীনতা মানে নারী পুরুষ নির্বিশেষে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ করতে পারা। চোখের সামনে একজন অসহায় মানুষ দেখলে তার দিকে সাহায্যের হাত কারও অনুমতি ছাড়াই বাড়িয়ে দিতে পারার মধ্যেও আমি স্বাধীনতা খুঁজে পাই। যেখানে বিকৃত মনস্ক মানুষ শিশু কিংবা নারীর ওপরে নির্যাতন চালায়, সেখানে স্বাধীনতা আমাকে প্রতিবাদ করতে শেখায়। সেই প্রতিবাদ কোনও রাজনৈতিক নেতা বা পাড়ার প্রভাবশালী দাদার ভয়ে ভীত না। আমার স্বাধীনতার অভিধান জাত-পাতের ভেদাভেদ থেকে মুক্ত। চিকিৎসার নামে কোন দুঃস্থ জনকে প্রবঞ্চনার শিকারও হতে হয় না। ৫৪ তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবা উচিত- দেশের উন্নতি তখনই সম্ভব যদি সকলের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা হয় ত্যাগ আর সেবার মহিমায় ভাস্বর। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়া উজ্জীবিত করা। নিজত্ব হারিয়ে যেন কোনো কিছু না করি বা কাউকে খুশি করতে না যায়। আমাদের সবার উচিত দেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা। সবাই যদি চিন্তা করি রাজনীতি খারাপ, তার ফল স্বরূপ দেশের সমস্ত নাগরিকও খারাপ থাকতে বাধ্য। দেশের নাগরিকরা ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। নিজেদের স্বার্থে দেশের স্বার্থে ভাল নেতার দরকার। ব্যক্তিত্ব বিনা ভাল নেতৃত্বের জন্ম হয় না। পচা পাঁকে বাস করে পঙ্কজ সর্বদা হওয়া যায় না। তাই প্রথমে উচিত পচা পাঁক সরিয়ে ভাল সরোবর তৈরি করা তাতে নিশ্চিত পদ্ম ফুটবে। তেমনি দেশের শিক্ষিত নাগরিক সমাজের উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিশুদ্ধকরণ করা। নচেৎ দেশের ও দশের উন্নতি সম্ভব নয়। রাজনীতির বাইরে কিছু হয় না, মহাভারত হতে বাইবেল, কোরান, সর্বত্রই শুদ্ধ রাজনীতির ছাপ পরিষ্কার দেখা যায়। কোনও মানুষই রাজনীতির ঊর্ধে নয়, রাজনীতি দেশের ঊর্ধে নয়। দেশ রাজনীতি বিনা নয়। অতএব সব উন্নতির, সব স্বাধীনতার, সব রাজনীতির সঠিক নেতৃত্বের দরকার, সঠিক প্রজার দরকার, শিক্ষার দরকার, ভক্তির দরকার, ত্যাগের দরকার, আদর্শের দরকার, দায়িত্ববোধের দরকার, মানুষের দরকার। মানুষ চাই, মান আর হুঁশ দুটি যার আছে ুমানুষ” যে জানে ুআমি আত্মা! আমি ভগবান! আমি অশেষ! আমি অজয়! আমি সে! আমি সে! আমি সে! দেশ উন্নত হচ্ছে- ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’- দামি দামি ভবন, মেট্রোরেল, ট্যানেল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ আরো কতো কি! প্রযুক্তি সমৃদ্ধ আমার দেশ। রয়েছে স্যাটেলাইট। কিন্তু আসল অস্ত্রটি সঠিক ভাবে বানানো গেল না। সমস্ত জনগণকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া গেল না। দেশ যান্ত্রিক অস্ত্রে পরিপূর্ণ কিন্তু জনগণের অভ্যন্তরীন ‘অস্ত্র’ নেই। শিক্ষা নামক সেই অস্ত্র যথাযথ তৈরী ও প্রয়োগে ৫৪ বছরে এসেও তা সঠিকভাবে করতে পারিনি। বিদেশি শক্তিকে আমাদের সাথে লড়াই করে জয় লাভ করতে হবে না। শুধু অশিক্ষার আগুনে বাতাস দিলেই দেশ জ্বলে ছারখার হয়ে যাবে। কোনও অস্ত্রই কাজে আসবে না। অশিক্ষার কারণে আরও বেশি করে জন্ম নেবে দেশের মধ্যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, জঙ্গিবাদ, দুর্বৃত্তায়ন এবং সংঘবদ্ধ দুষ্ট চক্র। স্বাধীনতার সঠিক অর্থ একমাত্র হতে পারে দেশের জনগণের ন্যূনতম সঠিক শিক্ষাদানের অঙ্গীকারে ব্রত হাওয়া। শিক্ষাই পারে সব পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে। অন্ধকারে আলো জ্বালাতে। দেশের জনগণের শিক্ষা বিনা, সমস্ত স্বাধীনতাই পরাধীনতার শিখলে বাঁধা। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে আমরা মুক্ত (স্বাধীন) হয়েছি কিন্তু অশিক্ষা, কুশিক্ষা, দূর্নীতি, ধর্মান্ধতা কুসংস্কার, কুপ্রবৃত্তি, বিভাজন, বৈষম্য থেকে আমাদের মুক্তি ঘটেনি। মুক্তি ঘটেনি শুদ্ধ প্রগতিশীল চেতনার। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার প্রত্যয়ে সকল কুপ্রবৃত্তির অবসান ঘটুক চেতনা থেকে।





















































