তথ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ, মেয়রের ক্ষোভ

0
437
জ¦র আর শ^াসকষ্ট নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপতাল ঘুরে চিকিৎসাবঞ্চিত এই করোনা রোগী শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন- স্টার মেইল

চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসাসেবা #
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম স্বাস্থ্যবিভাগের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং করোনা চিকিৎসাসেবার সার্বিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাইফ পাওয়ার টেকের অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এ অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখন কঠিন সময় পার করছি। চট্টগ্রাম করোনা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু আক্রান্তদের জন্য আমরা এখনও পর্যন্ত সুচিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারিনি। এটি আমাদের জন্য যেমন পীড়াদায়ক, তেমনি ব্যর্থতার। তবে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু চেষ্টা করলেও আমরা এখনো সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি।’
মেয়র তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো আমরা গ্রহণ করে থাকি এবং বাস্তবায়নে ঢাকার উপর নির্ভর করতে হয় সে সমস্ত ক্ষেত্রে দেখা যায় এক ধরনের অজানা ধীরগতি। এই ধীরগতির কারণেই মানুষের মাঝে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। যদি কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে বাস্তবতায় সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারি। প্রথমদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় যুক্ত করা হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হলো-হাসপাতালগুলো যাতে কোভিড ও নন কোভিড উভয় চিকিৎসা নিশ্চিত করেন। এটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা গেল হাসপাতালগুলোতে ব্যবস্থাপনার অভাব এবং তাদের মধ্যে একধরনের গড়িমসি ভাব থাকার কারণে চিকিৎসাসেবায় আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাস্তবতা হলো কোভিড ও নন কোভিড উভয় চিকিৎসাপ্রার্থীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছেন। এটা চট্টগ্রামের জন্য সর্বশেষ সমস্যা।’
মেয়র প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘চট্টগ্রামের বাস্তবতায় সার্ভেইল্যান্স টিমের পরামর্শ নিয়ে কয়েকটি হাসপাতালকে যদি কোভিড ও অন্যগুলোকে যদি নন কোভিডের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে সকলের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বর্তমানে কেউ ভালোভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে না। এজন্য গণমাধ্যমে প্রতিদিন হেডলাইন হচ্ছে। যেটা আমাদেরকে খুব বেশি কষ্ট দিচ্ছে। এ নিয়ে ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের ঘাড়ে আসছে। এটার কারণে অন্যরা সুযোগ নিচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’
মেয়র তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্য। আমরা জানি পর্যায়ক্রমে যেখান থেকে শুরু হয় সেখানে সফলতার হার বাড়তে থাকে। কিন্তু চট্টগ্রামে তার উল্টো। একসময় দেখেছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব পরীক্ষার সাথে যুক্ত ছিল না। তখন দেখেছিলাম প্রায় ৭০০-৭৫০ প্রতিদিন পরীক্ষা করা হতো। রিপোর্ট পেতে ৪-৫ দিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন বাড়তে বাড়তে দেখা গেল ১০-১২ দিন সময় লাগছে। একটু আগে একজন জানালেন ২ জুন নমুনা পরীক্ষা দিয়েছেন সে রেজাল্ট কিন্তু আজকেও আসেনি। নমুনা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি তো আরেকজনকে সংক্রমতি করছেন। এতদিন সময়ের মধ্যে সে হয় নেগেটিভ হয়ে গেছে চিকিৎসা নিয়ে বা না নিয়ে। আর না হয় দেখা যাচ্ছে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। তারপর রিপোর্ট এসে তো কোনো লাভ নেই। প্রত্যেকটা জায়গায় সংগ্রহের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিতে হবে। সেই অনুযায়ী যদি সংগ্রহ করা যায় তাহলে প্রতিদিনের রিপোর্ট প্রতিদিন দেওয়া সম্ভব।’
তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ স্বাস্থ্যবিভাগকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘মেয়র বক্তব্যে যে প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। পরীক্ষা করে যদি ১১ দিন রিপোর্ট পেতে লাগে সেটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেটি দুর্যোগ মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে সহায়কও নয়। ১-২ দিন বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হতে পারে, ১০-১২ দিন বিলম্ব এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোথায় কি গলদ আছে সেটি বের করে সমস্যা সমাধানের জন্য আমি স্বাস্থ্যবিভাগকে অনুরোধ জানাব। আপনাদের যদি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা দরকার হয় জানালে সে বিষয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’