টিকা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই

0
234

বিবিসিকে সেরাম

টিকা নিয়ে বাংলাদেশের ‘সমস্যা হবে না’ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ভ্যাকসিনের চুক্তি সরকারের সঙ্গে নয়, বাণিজ্যিক: বেক্সিমকো
ভারত থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি

সুপ্রভাত ডেস্ক
ভারত থেকে টিকা রফতানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছে ভারতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভাইরাসের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অন্য দেশে টিকা রফতানির অনুমতিই পায়নি তারা। সেখানে নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রশ্নই নেই। সেরাম ইনস্টিটিউটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মায়াঙ্ক সেন দিল্লিতে বিবিসির ইয়োগিতা লিমায়িকে জানিয়েছেন, টিকা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ তাদের টিকা রফতানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
অন্যদিকে রফতানি শুরুর আগেই প্রতিষ্ঠানটি ভারত সরকারকে ১০ কোটি টিকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ফলে মুহূর্তে তারা টিকা রফতানি করতে পারবে না।
এদিকে তিন কোটি টিকার জন্য অগ্রিম ৬শ’ কোটি টাকা সেরামের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দিতে রাজি হওয়ার পর বাংলাদেশ এই টাকা দেয়।
আগামী মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশকে টিকা দিতে পারবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঢাকায় দিল্লির হাইকমিশন এবং দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সকাল থেকেই যোগাযোগ করা হয়। দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টিকার ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যেহেতু জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তি হয়েছে, সে কারণে যথাসময়ে টিকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটা তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে, আমাদের ব্যাপারে না। হাইকমিশন থেকে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও।
তিনিও বলেন, এটা কোনো সমস্যা হবে না, সমাধান হয়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে গতকাল থেকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।
অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি অন্যান্য করোনাভাইরাস টিকার চেয়ে সহজে সংরক্ষণ ও বহন করা যায়, আর দামেও সবচেয়ে সস্তা – তাই এটির ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এর মধ্যেই এ টিকার জন্য সব মিলিয়ে ৩০০ কোটিরও বেশি ডোজের অর্ডার পাওয়া গেছে। বাংলাদেশও এ টিকাটিই কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রথম পৃথিবীর কোন দেশে এ টিকাটি দেয়া শুরু হলো।
অক্সফোর্ড শহরের চার্চিল হাসপাতালে সোমবার সকালে ৮২ বছর বয়স্ক কিডনির রোগী ব্রায়ান প্লিংকারের বাহুতে টিকা দিয়ে এই টিকার উদ্বোধন করা হয়। ব্রিটেনে অবশ্য এর আগেই ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হয়ে গেছে।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা দেয়ার সূচনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে আখ্যায়িত করেন। বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে একযোগে এই টিকা দেয়া শুরু হলো এবং কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫ লক্ষেরও বেশি ভ্যাকসিন এখন দেবার জন্য তৈরি।
বাংলাদেশও এই টিকাটি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভারতে এই টিকাটি উৎপাদন করছে সেরাম ইনস্টিটিউট, যাদের কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ।
তবে অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার অনুমোদন দেয়ার ফলে টিকাদানের গতি বেশ খানিকটাই বেড়ে যাবে কারণ এই টিকাটি স্বল্পমূল্যের এবং সহজেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেয়া যায়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, এই টিকাটি সাধারণ ফ্রিজেই সংরক্ষণ করা যায়, যেখানে ফাইজার-বায়োঅ্যানটেকের টিকাটি সংরক্ষণ করতে হয় -৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।
কীভাবে এই টিকা কাজ করে?
শিম্পাঞ্জিদের সংক্রমিত করতে পারে এমন একটি সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের ভাইরাসের মধ্যে জিনগত পরির্তন এনে এই টিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
এটিকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে এটি মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে না পারে এবং এর মধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাসের মূল নকশার একটি অংশ, যা কিনা ‘স্পাইক প্রোটিন’ নামে পরিচিত।
যখনই এই মূল নকশাটিকে শরীরে প্রবেশ করানো হয় তখনই সেটি মানবদেহে স্পাইক প্রোটিন তৈরি করতে শুরু করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখন এটিকে একটি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে যখন ঐ ব্যক্তি আসল ভাইরাসে আক্রান্ত হবে, তখন তার শরীর আগে থেকে জানবে যে কীভাবে এই ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করা যায়।
টিকা নিয়ে বাংলাদেশের ‘সমস্যা হবে না’ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনাভাইরাসের টিকা রপ্তানির বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে করা চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আর স্বাস্থ্য সেবা সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি সাপেক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ দেশে টিকা চলে আসবে বলে তারা আশা করছেন। গতকাল সচিবালয়ে করোনাভাইরাস টিকা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী ও সচিব এ বিষয়ে কথা বলেন।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাঠাবে সেরাম ইনস্টিটিউট।
ভারতের ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোববার ওই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিলে বাংলাদেশেও দ্রুত টিকা পাওয়ার আশা জোরালো হয়ে ওঠে, কারণ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলে আসছিলেন, ভারত অনুমোদন দিলে জানুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম চালান পেয়ে যাবে।
কিন্তু সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পূনাওয়ালার বরাত দিয়ে রোববার রাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রপ্তানি শুরুর আগে আগামী দুই মাস তারা ভারতের স্থানীয় চাহিদা পূরণ করতেই জোর দেবে। তার ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের টিকা পাওয়া বিলম্বিত হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে বাংলাদেশের টিকা পাওয়া পিছিয়ে যাবে কিনা- স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে সকাল থেকে কাজ করছি। বেক্সিমকো, ফরেন মিনিস্ট্রি ও ভারতের মিশনের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, আমাদের সাথে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তি ব্যাহত হবে না। কোনো সমস্যা হবে না, আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ভারত থেকে টিকা এনে বাংলাদেশে সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত ভ্যাকসিনের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’ তারা।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজাও বলেছেন, টিকা পাওয়া নিয়ে কোনো সংশয় তাদের নেই।
‘সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, টিকা বাংলাদেশে অনুমোদন পাওয়ার পর এক মাসের মধ্যে আমরা প্রথম লটের টিকা পাব।’
তিনি জানান, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের অনুমোদনের জন্য গত বৃহস্পতিবারই তারা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি পাওয়ার একটি শর্তের কথাও বলছেন। ‘চুক্তি অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও অনুমতি দিলেই আমাদের টিকা দেবে। আলোচনা অনুযায়ী আমরা ভ্যাকসিন পাব। এ চুক্তিটি আন্তর্জাতিক তাই, এর উপর আমরা আস্থা রাখি। সব বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
টিকার জন্য চুক্তির অনুযায়ী খুব দ্রুত ১২ কোটি ডলার পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং মঙ্গলবারের মধ্যে সেই টাকা জমা হয়ে যাবে বলেও জানান মন্ত্রী। বাংলাদেশে কবে নাগাদ টিকার প্রথম চালান আসতে পারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে, কারণ এ সমস্যাটা গতকালও ছিল না। এখনই এ বিষয়টি বলা যাচ্ছে না, দুই চার দিনের মধ্যে জানাতে পারব।’
টিকার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের টিকার বিষয়ে আলোচনা চলমান আছে, তবে তাদের এখনো ট্রায়াল শেষ হয়নি। ট্রায়াল শেষ না হলে তো চুক্তি করা যাবে না। চীনের সাথে আলোচনা হয়েছে, তাদের কাছে বিস্তারিত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।’ খবর বিবিসি, বিডিনিউজ ও বাংলাট্রিবিউন।
মন্ত্রীর বক্তব্যর পর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমি এখনই (দুপুরে) ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনরাকে ফোনটি করলাম। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, আমরা যে চুক্তি করেছি… এটার ফাইনানশিয়াল ট্রানজেকশন, কীভাবে টাকাটা যাবে, কীভাবে ব্যাংক গ্যারান্টি দেবে- সেসব কাজ হয়েছে জিটুজি বা সরকার টু সরকার। যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কথা ভারত সরকার বলেছে শুধুমাত্র কর্মাশিয়াল অ্যাকটিভিটিজের ওপর, আমাদেরগুলোর ওপর না। কারণ আমাদেরটা সরকার টু সরকার।’
টিকা নিয়ে ‘আশঙ্কার কিছু নেই’ বলে আশ্বস্ত করে সচিব বলেন, ‘সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইনডিয়া ভারত সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। এ অনুমোদন পাওয়ার পর তারা ডব্লিউএইচওর কাছে অনুমোদনের জন্য যাবে, সেখানে তিন সপ্তারের মত সময় লাগবে। আমাদের সময় বলা ছিল ফেব্রুয়ারিতে পাব। এ তিন সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ডিলে হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। দুঃচিন্তা হওয়ার মত এখনো কিছু হয়নি। টাকা পাঠানোর বিষয়টি আজই চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং পাঠানো হচ্ছে।’
ভ্যাকসিনের চুক্তি সরকারের সঙ্গে নয়, বাণিজ্যিক: বেক্সিমকো
করোনাভাইরাসের টিকা আনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে করা চুক্তিটি বাণিজ্যিক, এটি সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি নয় বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান। সোমবার গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেন, ভারত থেকে টিকা পাওয়ার ব্যাপারে কোনও অনিশ্চয়তা নেই। প্রসঙ্গত, সোমবার বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ভারতের চাহিদা মেটানোর পর সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা বিদেশে রফতানি করতে পারবে। গত ৫ নভেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করে। চুক্তির আওতায় সেরাম ইনস্টিটিউট ৩ কোটি টিকা বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা।
দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান জানান, টিকা আমদানি নিয়ে সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে। এ কারণে ভারত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। তবে সন্ধ্যায় নাজমুল হাসান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হয়তো অন্য কোনও টিকা আমদানির চুক্তির কথা বলেছেন। এখানে জিটুজির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমার জানা নাই। স্বাস্থ্য সচিব কোন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন আমি জানি না। এটা হতে পারে অন্য ভ্যাকসিন, সরকারের অন্য কোম্পানির সঙ্গে থাকতেই পারেৃআমার জানা নাই। এখানে বেক্সিমকো ফার্মাও গভর্নমেন্ট না সেরাম ইনস্টিটিউটও গভর্নমেন্ট না। কাজেই এখানে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট কীভাবে হতে পারে? এটা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি।’
নাজমুল হাসান বলেন, ভারত টিকা দেবে না এমন একটা খবর এসেছে। কিন্তু বেক্সিমকো গতকালও সেরামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছে। চুক্তি অনুযায়ীই সেরাম বাংলাদেশকে টিকা দেবে। ওদের কাছ থেকে আমরা কোনও নেতিবাচক কথা শুনিনি। আমার ধারণা কেউ কোনও ভুল করছে। এখানে কোথাও বলা হয়নি এক্সপোর্ট করা যাবে না। নিউজটা আমিও শুনেছি। খবর বাংলাট্রিবিউন।
তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে আমি বা আমরা এটা নিয়ে অতটা চিন্তিত না। কারণ, আমার অ্যাগ্রিমেন্টটা হয়ে গেছে। ওই চুক্তিতে ক্লিয়ার বলা আছে, আমাদের দেশে অ্যাপ্রুভাল দেওয়ার এক মাসের মধ্যে তারা টিকা পাঠাবে। নাজমুল হাসান জানান, এখন সরকারের সামনে দুটো কাজ, যত দ্রুত সম্ভব এই টিকার অনুমোদন দেওয়া এবং দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেওয়া। অনুমোদনের জন্য বেক্সিমকো সোমবার ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে আবেদন করেছে। আমরা আমাদের ব্যাংক গ্যারান্টি সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। ব্যাংক গ্যারান্টি পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের এটা পৌঁছে দিতে হবে। আরেকটা হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন, যেটা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর দেবে। আমরা ডকুমেন্টস সব আগেই জমা দিয়েছি। আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছি। এখন তারা এটা (অনুমোদন) কখন দেবে সেটা তাদের ব্যাপার। পাপনের মতে, ভারত সরকার যা বলেছে তা যৌক্তিক, তাদের দেশের মানুষকে না দিয়ে রফতানি করা যাবে না। তারা তাদের দেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এটা সব দেশই করে। আমার ধারণা ইট কুড বি ওয়ান ইন্টারপ্রিটেশন, কেউ ভুল করছে বা অন্য কিছু করছে। ওখানে কোথাও লেখা নাই যে এক্সপোর্ট করতে পারবে কি পারবে না। তবে এক্সপোর্টের ওপর একটা বার (নিষেধাজ্ঞা) দিতেই পারে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অ্যাগ্রিমেন্ট যেহেতু আগেই হয়ে গেছে এইটাতে সমস্যা হওয়ার কোনও কারণ নেই মন্তব্য করে পাপন বলেন, এটা নিয়ে আমি আজও সেরামের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকেও আমরা এখন কোনও ইন্ডিকেশন বা কিছু পাইনি যে এটা দেরি হতে পারে।
ভারত থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি
সিরাম ইনস্টিটিউট কর্তৃক ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনোকার করোনা ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। সোমবার (৪ জানুয়ারি) ভ্যাকসিন আমদানিতে বেক্সিমকোকে এনওসি দেয় অধিদফতর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়েছি। তারা চাইলে এখন ভ্যাকসিন আনতে পারবে। জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় টিকা আমদানির অনুমোদন দেয় অধিদফতর। এর আগে দুপুরে এনওসি চেয়ে আবেদন করে বেক্সিমকো।