জমজমাট ‘বালি আর্কেড’

185

নিজস্ব প্রতিবেদক <
রমজানের শেষ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘বালি আর্কেডে’ জমে উঠেছে ঈদ বাজার। বিশ্বমানের এ মার্কেট সম্পূর্ণ চালু না হলেও বিকিকিনির ধুম লেগেছে। কেনাকাটা করে সারি সারি ক্রেতা বেরিয়ে আসছেন শপিংমল থেকে। এছাড়া নতুন দোকানগুলোতে চলছে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট। ক্রেতারাও কেনাকাটা করছেন স্বাচ্ছন্দ্যে।
গত ২ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয় চট্টগ্রামে শেঠ প্রপার্টিজের সবচেয়ে বড় সুপারমল ‘বালি আর্কেড’। উদ্বোধনের দু’দিন পর বৈশ্বিক মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত লকডাউনে ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায় এ শপিংমল। টানা ৪ দিন বন্ধের পরে সরকারি নির্দেশনা মেনে ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। পরবর্তীতে আবারও ১৪ এপ্রিলের লকডাউনে বন্ধ হয়ে ২৫ এপ্রিল খুলে দেওয়া হয়েছে এ মলটি। খোলার পর থেকে এ পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, মার্কেটের সামনে নিজস্ব সিকিউরিটিরা যানজট নিরসনে কাজ করছে। শপিংমলের সামনে সুবিশাল স্পেস নিয়ে তৈরি হয়েছে ১৪ তলা বিশিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটি। সুপারমলের মূল ফটকে প্রবেশ করতেই দেখা মিলে সুবিশাল দেয়াল ফোয়ারা। তাছাড়া বিজ্ঞাপন ও ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দু’টি সুবিশাল জায়ান্ট সিনেস্ক্রিন। বিশ্বমানের সুবিধা সম্বলিত সুপারমলটি নির্মিত হয়েছে শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেডের সিগনেচার প্রকল্পে।
শপিং মলে প্রবেশের মুখে রয়েছে বডি স্কেনার। হ্যান্ড সেনিটাইজার হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে সিকিউরিটি গার্ড। ভেতরে মাথার উপরে ছাদজুড়ে সুবিশাল স্ক্রিন। যেখানে প্রতিনিয়ত চলছে বিভিন্ন ভিডিও চিত্র। সম্পূর্ণ শপিংমলটি ফ্রি ওয়াইফাইয়ের আওতাভুক্ত রয়েছে। প্রতিদিন সুপারমলটি দেখতে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর সেন্ট্রাল স্পিকারে ক্রেতা ও দোকানিদের উদ্দেশ্যে বেজে উঠে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা। কেনাকাটার প্রতিটি ক্ষণে মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে মাস্ক পড়ার কথা। সেই সাথে মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করার কথা।
সুপারমলের নিচ তলায় রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডশপ। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে কসমেটিক বিশেষায়িত দোকান। নারী ক্রেতাদের জন্য তৃতীয় তলার বিশেষ ফ্লোর। যেখানে শুধু মাত্র নারী বিশেষায়িত দোকান রয়েছে। চতুর্থ তলায় পুরুষ বিশেষায়িত দোকান। ৫ম তলাকে গেজেট ফ্লোর বলা যায়। যেখানে রয়েছে সব ধরনের মোবাইল এক্সেসরিজ ও গেজেটের দোকান। ৬ষ্ঠ তলায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ফুডকোর্ট। এখানে রয়েছে হরেক রকমের খাবারের দোকান। যদিও এসবের বেশিরভাগ চালু হয়নি।
বিভিন্ন ফ্লোরে এখনও অনেক দোকান তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। সুবিশাল ও বিশেষায়িত ফ্লোর থাকায় শপিংমলে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন মল হিসেবে ভালই জমে উঠেছে।
জানা যায়, সুপারমলে নিমর্ণাধীন রয়েছে ৩০ হাজার স্কয়ার ফিটের দেশের অন্যতম বৃহৎ এমিউজমেন্ট পার্ক। ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্টিনেশন ‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’। ৩টি সিনেপ্লেক্স, ১টি ফুডকোর্ট, কনভেনশন হল।
বালি আর্কেডে বাজার করতে আসা সাবরিনা আলী বলেন, ‘মার্কেটটি খুব সুন্দর ও গোছালো হয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে ক্রয়ের উপর ডিসকাউন্ট দেওয়ায় আরও বেশি ভাল লাগছে। বড় মার্কেট হওয়াতে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে না। মহামারীর এমন সময়ের জন্য খোলামেলা মার্কেট প্রয়োজন।’
অন্য একজন ক্রেতা মোহায়মিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বমানের মার্কেট তৈরির খবর পেয়ে বোয়ালখালী থেকে পরিবার নিয়ে দেখতে এসেছি। নতুন নতুন ব্র্যান্ডশপ দেখে কিছু কেনাকাটার সুযোগও হয়েছে।’
নারী বিশেষায়িত দোকান ‘দি গ্লোসি’র স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বমানের নতুন সুপারমল দেখতে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী। তারা মার্কেটে ভাল ভাল ব্র্যান্ডশপ দেখে না কিনেও পারছেন না। তবে মার্কেট চালু হওয়ার পর থেকে ভালই ক্রেতা আসছেন। প্রতিদিন আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছে। তবে ঈদের পরে বোঝা যাবে মার্কেট কেমন চলবে।’
‘ভোলিউম’ নামে কসমেটিকস শপের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ বলেন, ‘ইফতারের পরে বেচাকেনা ভাল হলেও প্রশাসনের জন্য রাত ৯টায় মার্কেট বন্ধ করে দিতে হয়। তবে নতুন মার্কেট হিসেবে বেচাকেনা ভালই হচ্ছে।’
বালি আর্কেডের পরিচালক (অপারেশন) তুলু-উশ-শামস সুপ্রভাতকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা আছে। আমরা নিজস্ব সিকিউরিটি ব্যবস্থায় যানজট নিরসন করছি। সিকিউরিটির জন্য চকবাজারের বেশিরভাগ অংশ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আছে। তবে অক্টোবর মাসে মার্কেটের কাজ সম্পূর্ণ হবে।’