জঞ্জালমুক্ত হলো নগরী

210

চসিকের দ্রুত পদক্ষেপে খুশি এলাকাবাসী

রুমন ভট্টাচার্য :
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যানার-পোস্টারের জঞ্জালে পরিণত হয়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। যে দিকেই চোখ যেত শুধু প্রার্থী, পোস্টার আর ব্যানারের ছড়াছড়ি। নগরীর সব এলাকাতেই রাস্তা থেকে শুরু করে অলি-গলি ভরে উঠেছিল ব্যানার আর পোস্টারে। হারিয়েছিল নগরীর সৌন্দর্য। নগরবাসী বঞ্চিত হয়েছেন নগরীর সৌন্দর্য অবলোকনে। অবশেষে সেই সৌন্দর্য ফিরে এসেছে পোস্টার-ব্যানার অপসারণের মাধ্যমে।
জানা গেছে, ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের অনুষ্ঠানের পরদিন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয় এসব পোস্টার আর ব্যানার অপসারণের কাজ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণে নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। রাতের মধ্যেই মূল সড়কের অনেক ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়। শুক্রবার রাতের মধ্যেই ব্যানার-পোস্টারের জঞ্জালমুক্ত করার আশা সংশ্লিষ্টদের।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন নির্বাচনে প্রার্থীদের পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরপরই কাজ শুরু করে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।
এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যানার-পোস্টার অপসারণের কারণে নগরীর সৌন্দর্য ফিরে আসায় খুশি নগরবাসীও। চসিকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাধুবাদ দিয়েছে নগরবাসী।
বাকলিয়ার বাসিন্দা মো. মোরশেদ বলেন, ‘বন্দরনগরী পোস্টার আর ব্যানারের নগরী হয়ে উঠেছিল। এতে সৌন্দর্য হারিয়েছিল নগরীর রাস্তাঘাট ও অলিগলি। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত অপসারণে এখন আগের চিত্রই ফিরে এসেছে দেখে খুব ভালো লাগছে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ বলেন, ‘প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে পোস্টার-ব্যানার শুরু করেছি। আশাকরছি শুক্রবার রাতের মধ্যে নগরীর সবগুলো ব্যানার পোস্টার অপসারণ করতে পারব।’
জামালখানের বাসিন্দা সুচন্দা সরকার বলেন, ‘পোস্টারবিহীন খোলা আকাশ দেখে খুবই ভালো লাগল। এতদিন পোস্টারের কারণে সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
শুক্রবার সকালে সরেজমিন নগরীর আন্দরকিল্লা, টেরীবাজার, চেরাগীপাহাড়, জামালখান, গণি বেকারি, চন্দনপুরা, দিদার মার্কেট, নবাব সিরাউদ্দৌল্লা রোড, কলেজ রোড, গুলজার মোড়, কাপাসগোলা, চকবাজার, পশ্চিম বাকলিয়া ইত্যাদি এলাকার রাস্তা ও বিভিন্ন অলি-গলিতে লাগানো নির্বাচনী ব্যানার-পোস্টারমুক্ত দেখা যায়।
শুক্রবার সকাল ১১টায় পশ্চিম বাকলিয়া কে বি আমান আলী রোডে অপসারণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দলপতি মো. শফি উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসকের নির্দেশনার পরপরই পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সকল কর্মচারীরা নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার অপসারণের কাজে নিয়োজিত আছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই কাজ শুরু হয়েছে।’
এদিকে, বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরাও পোস্টার সংগ্রহ করে গরিব, অসহায় শিশুদের লেখার তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে তারা এই পোস্টারগুলো সংগ্রহ শুরু করেন।
এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর যে পোস্টার সংগ্রহ করে তা দিয়ে ২০ হাজার লেখার খাতা বানানো হয়েছিল বলে জানান স্বেচ্ছাসেবকরা।