ছাত্রদল নেতা মারুফের মৃত্যুর প্ররোচণাকারীদের শাস্তির দাবি নগর বিএনপির

0
219

 

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ডবলমুরিং থানা পুলিশের অভিযান চলাকালীন সময়ে মারধরের ঘটনায় সালমান ইসলাম মারুফ নামের এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

আজ ১৮ জুলাই (শনিবার) এক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এসএম সাইফুল আলম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পুলিশকে এতো বেশি সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দিয়েছে যে,পুলিশ যখন যা ইচ্ছা তাই করছে। যাকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করছে। তারা এখন পুলিশের নিয়ম-নীতি ও আইনের তোয়াক্কা করছে না। তারই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ আগ্রাবাদের ঘটনা। যার কারণে একটি সম্ভাবনাময় ছেলেকে অসময়ে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মারুফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য ক্লোজড করাতো চূড়ান্ত বিষয় নয়। আসলে বর্তমান অনির্বাচিত সরকার পুলিশনির্ভর। ভোট ডাকাতির সরকার হওয়ায় জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জনগণের তোয়াক্কা করে না। আওয়ামী লীগ সরকার বিগত বারো বছরে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশে নিয়োগ দিয়েছে। যারা এক সময় অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত ছিলো তারা এখন পুলিশে এসেও দেশের আইন-কানুন ও পুলিশের নিয়ম-নীতি মানছে না। আগ্রাবাদের ঘটনা এর একটি নমুনা মাত্র। তবে সব পুলিশ সদস্যই যে অনৈতিক তা নয়। পুলিশকে হতে হয় জনগণের বন্ধু। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে পুলিশের যে আচরণ, যে মানবিক ভূমিকা সেটাকে আমরা সাধুবাদ জানায়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেসব পুলিশ সদস্য মারা গেছেন, যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আমরা সমবেদনা জানায়। আগ্রাবাদের ছাত্রদল নেতা মীর সাদেক অভির হত্যাকারীদের ডবলমুরিং থানা পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করায়ও আমরা স্বাগত জানায়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অসাধু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তাদের অনৈতিক সুবিধার জন্য সোর্স নিয়োগ করে। এই সোর্সদের কারণে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়। তাই থানা পুলিশের সোর্স প্রথা বাতিল করতে হবে।  ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

নেতৃবৃন্দ মারুফের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্ররোচণাকারী দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।