বরই গাছে চড়ুই নাচে
মাসুম হাসান
গণেশ কাকুর বাগান বাড়ির
একটি বরই গাছে,
পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায়
বরই পেকে আছে।
দুটো চড়ুই আকাশ দিয়ে
যাচ্ছিল ভাই উড়ে,
ভরদুপুরে ক্ষুধার জ্বালায়
এদিক-ওদিক ঘোরে।
হঠাৎ করে পড়ল চোখে
পাকা ফলের গাছটা,
ডালে এসে বসল পাখি
নাচলো খুশির নাচটা।
খেতে খেতে বলল চড়ুই
লাগছে কী যে টেস্ট,
উদর ভরে খাওয়ার শেষে
করলো শুয়ে রেস্ট।
বিদ্যা
কাজল নিশি
খেলার জন্য যখন তখন
খুব যে করিস জোর,
পড়াশোনায় অলসতা
কী হয়েছে তোর?
যখন খুশি ডোবার জলে
নেয়ে এসে ঘরে,
রাতের বেলায় গোঙানি দিস
কাশি এবং জ্বরে!
পড়াশোনা করেই তবে
ভালো মানুষ হয়,
ডাক্তার উকিল যেই হয়েছে
বিদ্যা ছাড়া নয়।
আর ফাঁকি নয় খোকন সোনা
খাতা কলম ধরো,
মনটা দিয়ে পড়াশোনায়
কর্মেতে হও বড়ো।
বসন্ত ফাগুন
বিজন বেপারী
কোকিল ডাকে ওই যে দূরে
ফাগুন এসেছে তাই
দোল এসেছে দোল এসেছে
বসন্তেরই গান গাই।
ঝরা পাতার মর্মর শুনি
সাঁঝের চলতি পথে
নব কিশলয় চোখ মেলে চায়
আকাশ থেকে রথে।
তপ্ত দুপুর তাপ ঝরে বেশ
কৃষক শ্রমিক ঘামে
ভূবন মাতা চিঠি লেখে
হলদে পাতার খামে।
ফাগুন আগুন শীতল আবার
শীতল ঊষার কাল
গাঁয়ের নদী একি হেরি
শুকনো ছোটো খাল
কলমি ফুলের হাসি
সোমা মুৎসুদ্দী
কলমি ফুলের হাসি ফোটে
গাঁয়ের পুকুর জলে
ছোট্ট খোকা ছন্দ ছড়ায়
দেশের কথা বলে।
ঝিলমিলিয়ে সূর্য হাসে
ছড়ায় বিকেল আলো
তারই সাথে গাঁয়ের পথে
চলতে লাগে ভালো।
বাউরি বাতাস বইছে দেখো
উত্তরের ঐ বিলে
বনভোজনে মেতেছে আজ
বন্ধু সবাই মিলে।
গাঁয়ের মায়ায় মায়ের মায়ায়
দিন কেটে যায় বেশ
ফুল ফসলে, উঠবে ভরে
আমার বাংলাদেশ।
একুশ মানে
সারমিন চৌধুরী
একুশ মানে হানাদারের
চোখে জাগা ভয়,
একুশ মানে লড়াই করে
কেড়ে আনা জয়।
একুশ মানে শত্রুসেনার
উপড়ে ফেলা ঘাঁটি,
একুশ মানে মায়ের ভাষা
সোনার চেয়ে খাঁটি।
একুশ মানে পাকবাহিনীর
পিছনে হঠার দিন,
একুশ মানে ভাষার তরেই
বীরশহিদের ঋণ।
একুশ মানে আলবদরের
পতনের জয়ধ্বনি,
একুশ মানে মুছে ফেলা
পরাধীনতার গ্লানি।
ভাষার পরিচয়
সাইদুল ইসলাম সাইদ
বাংলা ভাষার জন্মকথা
সবার তো বেশ জানা
পাক-বাহিনী উর্দু ভাষার
জন্য করেন হানা।
প্রতিবাদী বীর ছেলেরা
ভয় করে না মোটে,
রক্তাক্ত হয় সারা শরীর
তবু তারা ছোটে।
মায়ের ভাষার জন্য ওরা
শহিদ হলো হেসে,
তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে
অশ্রুতে যায় ভেসে।
উপহার দেয় জীবন দিয়ে
আমার মায়ের ভাষা
তারা ছিলো এই বাঙালির
দুঃসময়ের আশা।




















































