রঙিন বই
সনজিত দে
নতুন বছর নতুন জামা এবং রঙিন বই
এমন খুশির দোলা জাগে অন্তরে থইথই।
বইয়ের পাতার রঙের ঘ্রাণে মেলছে মনের ডানা
অনেক আঁকা ছবির মেলা নাম অচেনা জানা।
পড়ব পরে দেখছি আগে পড়ব প্রথম ছড়া
রঙতুলিতে ছবিগুলো খুব বেশি মনকড়া।
গল্পগুলোর বাঁকে বাঁকে খুঁজতে থাকি গাঁকে
এ কোন শিল্পী দেশ বাংলার এঁকে রাখেন মাকে?
অংক বইয়ে চিত্র আঁকা কত্তো সহজ করে
বই পেয়ে তাই রাজ্য আমার খুশিতে যায় ভরে
বইয়ের সাথে জোট বেঁধেছি মনের জানলা খুলে
ভালবেসে মা যেমনি রুমালে ফুল তুলে।।
উড়তে মানা
ফারহানা খান
থাকতো যদি আমার ডানা কেমন হতো বলো?
বলতে তুমি- উড়বে নাকি? এক্ষুনি যাই চলো!
তেপান্তরের মাঠ পেরোবো এদেশ থেকে ওদেশ
তুমি আমি পাখনা মেলে ঘুরবো মহাদেশ।
হটাৎ করেই ভীষণ ঝড়ে ভাঙলো আমার ডানা!
কাঁদছি দেখো একলা ঘরে উড়তে আমার মানা!
ঘরের সাথে আড়ি
এরশাদ জাহান
মাগো তুমি চাঁদের টিপ আর দুধের বাটি হাতে
আমার জন্য পথ চেয়ে রও যতই দিনে রাতে
তোমার খোকা ফিরছে না আর
ঘর ভীরুদের, ঘর নয় আমার
তিন সত্যি দিচ্ছি আড়ি আজকে ঘরের সাথে।
আমায় যে মা আকুল সুরে ডাকছে বনের পাখি
মধুর সে ডাক ভুলে আমি কেমন করে থাকি!
ঘরে মায়া দিয়ে দুভাজ
এই ছুটলাম মন নিয়ে আজ
পাখির সাথেই সারাটাদিন করতে মাখামাখি।
ওই দেখো মা চোখ জুড়ানো সবুজ ধানের খেতে
মৃদু হাওয়ায় ধানের শীষও আজ খুশিতে মেতে
দুলিয়ে মাথা ডাকছে কাছে
হয়তো গোপন কথা আছে
চৎলা বিলও মনের সুতোয় টান মেরে কয় যেতে।
রাত মানে তো জোনাকিদের খেলার সাথী আমি
ঘুমপাড়ানির গানকে লাগে খুব বাজে পাগলামি
তাই ঘর থাক ঘরের মাঝে
ঘরকে আমি ফিরছি না যে
আমার কাছে ঘরের থেকেও এইসব-ই মা দামি।
পিঠা মেলা
জনি সিদ্দিক
হিম কুয়াশার চাদর নিয়ে এলো আবার শীত,
পিঠা খাওয়ার আনন্দেতে গাইছে সবাই গীত।
চিতই পিঠা পুলি পিঠা কত্তো রকম নাম,
পিঠা খেতেই সবার গায়ে ঝরছে দেখি ঘাম।
নানুর বাড়ি পিঠার মেলা বছর বছর হয়,
পিঠার মেলায় পিঠা তুলে পদক করব জয়।
বাজিমাত
রফিকুল ইসলাম সুফিয়ান
তাক্ ধিনা ধিন্ তাক্
বাজলো খুশির ঢাক।
ঢাকের তালে নাচলো তা ধিন্
তিনটি পাতি কাক।
তাক্ ধিনা ধিন্ তা না
খেংরা ভূতের ছানা,
হাওয়া বদল করতে গেল
দুবাই হয়ে ঘানা।
তাক্ ধিনা ধিন্ ধিন্ না
এক দুই তিন্ তিন্ না
চার পাঁচ ছয় সাত,
খোকন সোনা ছড়া লিখে
করলো বাজিমাত।
শীতের জামা
আহসানুল হক
হিম কুয়াশায় আকাশ ঢাকা
সূর্য ওঠে নাকো
রঙ তুলিতে শীতের ছবি
দারুণ তুমি আঁকো !
তোমার আছে শীতের জামা
লেপে শরীর ঢাকো
ঠান্ডা ভীষণ ! ঘরের ভেতর
রুম হিটারে থাকো !
ওরা থাকে আকাশ নিচে
নেই সোয়েটার -কম্বল
হিম্ কুয়াশায়,শৈত্য হাওয়ায়
ওটা-ই যে সম্বল !
ঠান্ডা হাওয়ায় কাঁপতে থাকে
কাঁপে কঠিন শীতে
তোমার আছে এত্তো জামা
একটা যদি দিতে !
হয়তো পেতে একটু আরাম
কঠিন শীতের দিনে
ওদের কি আর সাধ্যি আছে
শীতের বস্ত্র কিনে ?
দুইটি শালিক পড়তে আসে
আলমগীর কবির
দুইটি শালিক বারান্দাতে
সকাল বিকাল আসে,
কখনো বা আমায় ঘিরে
ডানা মেলে ভাসে।
কখনো বা চুপটি করে
বসে পাশাপাশি,
তাদের দেখে মুখে আমার
ফোটে ফুলের হাসি।
মজার ব্যাপার বলছি শোনো
তাদের আমি পড়াই,
কী কী পড়াই বললে হাসবে
নিজের লেখা ছড়ায়!
ঘন্টা খানেক টিফিন তাদের
রোজ খেতে দিই খাবার,
খাবার খেয়ে খুব আনন্দে
পড়তে থাকে আবার!
কখনো বা গল্প বলি
আনন্দে তা শোনে,
যদি বলি আজকে ছুটি
যায় উড়ে দূর বনে!
অতিথি পাখি
শাকেরা বেগম শিমু
শীতের পাখি ডানামেলে
কোথায় উড়ে যাও?
সোনাফলা বাংলাদেশের
সবুজ-শ্যামল গাঁও।
এমন দিনেও আমরা যেথায়
থাকতে পারি সুখি,
সূর্য্যিমামার মুখটা দেখে
হাসে সূর্যমুখী।
সেই দেশটার স্নিগ্ধ সকাল
সোনা-রোদে মাখা,
সোনার রবির কিরণ পেয়ে
উষ্ণ হবে পাখা।
যেথায় তাজা মাছ-সবজি
সবই যাবে পাওয়া,
এমন শীতে তাইতো সোনার
বাংলাদেশে যাওয়া।





















































