চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে চার বছরের মধ্যে ভালো ফলাফল

0
360

বেড়েছে পাশের হার ও জিপিএ-৫ #
পাশের হার ৮৪.৭৫, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০০৮ #
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রথমবারের মতো প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড বিগত চার বছরের মধ্যে ভালো ফলাফল করেছে। এবার বোর্ডে পাশের হার ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বোর্ডের আওতাধীন এক হাজার ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৩ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে পাশ করেছে ১ লাখ ২১ হাজার ৮৮৮ জন। এর আগে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে সর্বোচ্চ পাশের হার ছিল ২০১৬ সালে ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১৮ সালে ছিল ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ছিল ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
এদিকে এবছর পাশের হার বাড়ায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল চতুর্থ। সবচেয়ে বেশি পাশের হার রাজশাহীতে ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম সিলেটে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার বৃদ্ধির সাথে সাথে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও বেড়েছে। গত বছর ৭ হাজার ৩৯৩ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৮ জন। এর আগে ২০১৮ সালে পেয়েছিল ৮ হাজার ৯৪ জন এবং ২০১৭ সালে পেয়েছিল ৮ হাজার ৩৪৪ জন।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাশের হার গত বছর যেখানে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ ছিল এবার তা বেড়ে হয়েছে ৯০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মহানগর বাদে জেলার পাশের হার ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থাকলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৮৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।
কক্সবাজারে গত বছর ৭৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাশ করলেও এবার পাশ করেছে ৮৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, রাঙামাটিতে গত বছর ৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ পাশ করলেও এবার বেড়ে হয়েছে ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে গত বছর ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ পাশ করলেও এবার পাশ করেছে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে গত বছর ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ পাশ করলেও এবার বেড়ে হয়েছে ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোর্ডের গড় পাশের হার ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ হলেও ছাত্রদের পাশের হার ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
অপরদিকে ছাত্রীদের পাশের হার গত বছর ৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এবার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পাশের হার ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ (গত বছর ছিল ৮১ দশমিক ৪৬ শতাংশ), মানবিকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার পাশ করেছে ৭৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ (গত বছর ছিল ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার পাশ করেছে ৮৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ (গত বছর এই হার ছিল ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ)।
পাশের হার ও জিপিএ-৫ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, এবার পার্বত্য জেলায় পাশের হার বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে। একইসাথে জিপিএ-৫ এর পরিমাণও বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, গত বছর পাশের হার কিছুটা কমে যাওয়ার পর শিক্ষা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার ফলে এবারের ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
অনলাইনে ফলাফল প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার কারণে আমরা এবার স্কুলগুলোতে ফলাফল পাঠাইনি। একইসাথে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করেছে। স্কুলগুলো সোমবার নিজ নিজ ইআইএন নম্বর দিয়ে ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে।
৫০ শতাংশের নিচে পাশের চার প্রতিষ্ঠানে
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ১০৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো- গান্ধা উচ্চ বিদ্যালয় (৪১.৬৭%), অনাথ আশ্রম রেসিডেন্সিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় (৪৪.৫৫%), বালিপাড়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয় (৪৮.০৩%), পেড়াছড়া উচ্চ বিদ্যালয় (৪৮.৩৯%)।
বহিষ্কার হয়েছে তিনজন
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বনের দায়ে তিনজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল পাঁচ জন।
স্থগিত রয়েছে তিন শিক্ষার্থীর ফলাফল
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে তিনজন পরীক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এই তিনজনের ফলাফল স্থগিত প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, ‘পরীক্ষার উত্তরপত্র বা অন্যকিছুতে অসঙ্গতি থাকায় এসব পরীক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তা যাচাই করে তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।’
অন্যান্য বোর্ডে পাশের হার
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে পাশের ৮৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থাকলেও পাশের হারে শীর্ষে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড (৯০.৩৭%), যশোরে ৮৭.৩১%, কুমিল্লায় ৮৫.২২%, চট্টগ্রামে ৮৪.৭৫%, দিনাজপুরে ৮২.৭৩%, ঢাকায় ৮২.৩৪%, বরিশালে ৭৯.৭০% ও সিলেটে ৭৮.৭৯%