বন্দরের ধর্মঘট : বাড়তি খরচের শঙ্কা রফতানিকারকদের

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে রফতানিকারকদের। সময়মতো জাহাজে পণ্য পাঠাতে না পারলে আকাশপথে রফতানি করতে হবে; যা পরিবহন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থায় পোর্ট ইউজার্স ফোরামের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বন্দরকে গতিশীল করতে চায় না বলেই আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থায় পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। অথচ দেশের মোট আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশই এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টিইইউস কনটেইনার খালাস হয়। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন প্রতি কনটেইনারে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ড্যামারেজ ও স্টোরেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে।
 
শুধু বন্দর ও স্টোরেজ চার্জই নয়; কনটেইনার ও জাহাজজটে পড়ে নির্ধারিত সময়ে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে না পারলে তা আকাশপথে পাঠাতে হতে পারে। এতে রফতানিকারকদের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।
 
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একের পর এক আন্দোলন ও রাস্তা বন্ধের পর এখন দেখছি বন্দরও অচল হয়ে পড়েছে। জাহাজ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো; এই জাহাজগুলোর ড্যামারেজ কে দেবে? এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপরই পড়বে। রোজার মাসে যে গমের দাম ৭০০ টাকা মণ হওয়ার কথা, সেটা হয়তো ১৪০০ টাকা হয়ে যেতে পারে। সরকার খারাপ করছে-এটা বলছি না, কিন্তু যারা দায়িত্বে আছেন তারা সঠিকভাবে কাজ না করলে যেই নির্বাচনের পর সরকারই আসুক, শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা থেকে যাবে।
 
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, যে শিপমেন্ট পরের সপ্তাহে মাদারভেসেল ধরে কলম্বো যাওয়ার কথা ছিল, সেটি ফিডারভেসেল না পেলে মিস হয়ে যাবে। তখন ক্রেতা যদি এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দেয়, ভালো; কিন্তু যদি দ্রুত চায়, তাহলে বাধ্য হয়ে এয়ারলিফট করতে হবে-যার অর্থ ব্যবসার জন্য বড় ক্ষতি।
 
শ্রমিকদের কর্মবিরতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পোর্ট ইউজার্স ফোরামও। সংগঠনটির আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশি অপারেটররা এলে স্থানীয়দের আয় কমে যাবে-এই ভয়ে একটি পক্ষ বন্দরকে আধুনিকায়নের পথে বাধা দিচ্ছে। অথচ বিদেশি কনটেইনার অপারেটরদের দক্ষতা, যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতা বেশি।
 
তিনি আরও বলেন, নিউমুরিং টার্মিনাল বা নতুন টার্মিনাল যদি বিদেশিরা চালায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তখন বিদেশি ব্যবসায়ীরা এখান দিয়ে পণ্য এনে অন্য দেশে পাঠাবে; যা দেশের জন্যই লাভজনক।
 
এর আগে আন্দোলনকারীরা শর্তসাপেক্ষে শনিবার পর্যন্ত দুই দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত করেছিল। তবে চার দফা দাবি না মানায় রোববার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ।