দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে করুণ হাল তা আর বিশদ বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে। প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক, শিক্ষকের অবহেলা ও নানাবিধ কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক সল্পতা।
একটি পত্রিকা লিখেছে, জেলার ২১ থানায় বিদ্যমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৯৬ টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে এর মধ্যে নিয়োগযোগ্য পদ আছে মাত্র ৬২৯টি। চট্টগ্রামে ২ হাজার ২৬৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম জেলার ৪৫৮টি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বর্তমানে পালন করছেন প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব। তাদের পাঠদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে হয়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে তাদের ছুটতে হয় থানা বা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। তখন তাদের পক্ষে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা সম্ভব হয় না। আবার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলে তাদের পুনরায় সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা আছে। ফলে তাদের পদগুলো সংরক্ষিত থাকায় ৪৫৮ টি সহকারী শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য হলেও নিয়োগযোগ্য নয়।
শিক্ষক সংকট থাকায় ক্লাস ম্যানেজমেন্টে নানা সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত এবং টানা ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়ছে। আবার যেসব স্কুলে শিক্ষার্থী বেশি সেখানে শিক্ষক সংকট থাকায় সেকশন করে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। দুই সেকশনের ছাত্র–ছাত্রীর একই সঙ্গে ক্লাস নেয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় শ্রেণিকক্ষে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পরষ্পরের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বজায় থাকছে না শিক্ষার গুণগত মান।
শিক্ষা নিয়ে সরকারি থেকে বেসরকারি সকল পর্যায়ে আমরা অনেক বড় বড় কথা বলি কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তেমন কিছু করি না। অথচ শিক্ষাকে বলি জাতির মেরুদণ্ড। এখন এমন দুর্বল, ভঙ্গুর মেরুদণ্ড নিয়ে জাতি কীভাবে দাঁড়াবে তা বুঝতে পারি না। সরকার বোঝে কি না তা-ও জানি না।

















































