‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমে ‘জিরো এরর’ ঘোষণা ডিসি জাহিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক »

চট্টগ্রাম জেলায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমে শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এরর’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের কঠোর বার্তা দেন—তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক নিজেই কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পতেঙ্গার বাটারফ্লাই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত নাবিক নুর বক্সের বাসায় গিয়ে তিনি তথ্য ফরম পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। পরে নুর বক্স বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য যাচাই করতে জেলা প্রশাসক নিজ বাসায় আসবেন—এমনটি তিনি কখনো ভাবেননি এবং তাঁর আচরণে তারা মুগ্ধ।

রমজান মাস হওয়ায় আপ্যায়ন করতে না পারার কথা জানালে জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, রাষ্ট্রের সেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রত্যেক পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে, পরে ধাপে ধাপে সবাই এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে।”

তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

এক পর্যায়ে রোকেয়া বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় জেলা প্রশাসক প্রকল্পের উদ্দেশ্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে বলেন, “আপনি যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন, রাষ্ট্র আপনাকে সহায়তা করবে। তবে অবশ্যই সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো ভুল বা বাড়তি তথ্য দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান যুগে ভুল তথ্য দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা ‘জিরো এরর’ চাই। কোনো প্রকার বানানো বা অনুমানভিত্তিক তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।”

মাঠে ৯০০ কর্মী
জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে প্রায় ৯০০ কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, দেশের স্বার্থে নির্ভুল তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে। “পারব না নয়—আমাদের বলতে হবে, আমাদের পারতেই হবে,” যোগ করেন তিনি।