আনোয়ারুল ইসলাম »
রাইমা ছিল এক সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী মেয়ে। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। অজানা কোনকিছু সম্পর্কে জানার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। তার গ্রামের পাশের পাহাড়ের ওপর ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকলেও, সে সব সময় সেখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত। সবাই তাকে সতর্ক করত, ‘সেখানে যাওয়া খুবই বিপদজনক, সেখানে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না।’
কিন্তু রাইমার মনের এক অদ্ভুত টানে, সেই কুয়াশার রাজ্যের প্রতি আকর্ষণ কাজ করত।
এক সকালে রাইমা হঠাৎ সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। সে তার ছোট্ট ব্যাগে কিছু শুকনো খাবার, গরম জামা-কাপড় এবং একটি লণ্ঠন ভরে নিয়ে বের হলো। রাইমা ধীরে ধীরে পাহাড়ের পথ বেয়ে ওপরে ওঠার সময় কুয়াশা তাকে ঘিরে ধরল। কুয়াশার সাদা আলোয় আলোকিত হলো। আশে-পাশের কিছুই দেখা ও অনুমান করা যায় না। কিন্তু রাইমা হাল ছাড়ল না।
একসময় রাইমা কুয়াশার মধ্যে ঝিলমিল আলো দেখতে পেল। সে কাছে গিয়ে দেখল, এক রাজকীয় রাজ্য- সে রাজ্য যেন কুয়াশার ছায়ার মধ্যে হারিয়ে গেছে। রাজ্যের মানুষেরা হাস্যেজ্জল, কিন্তু রাইমাকে দেখে কিছুটা বিস্মিত হলেন।
কুয়াশার রাজ্যের রাজার সঙ্গে দেখা হলে রাইমা জানতে পারে, ‘এই রাজ্য সবসময় কুয়াশা ও মানুষের আড়ালে থাকে। যারা সাহস করে আসে, তারাই এই রাজ্যের রহস্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়। রাইমা রাজাকে বলল, ‘রাজা মহাশয়, আমি আপনার রাজ্যের সব সৌন্দর্য অন্য রাজ্যের মানুষকে দেখাতে চাই।’
রাজা হেসে বললেন, ‘রাইমা, তুমি সাহসী। পারবে, তুমি সব জয় করতে পারবে। তবে মনে রেখো, এই রাজ্যের সৌন্দর্য দেখার জন্য মনের আগ্রহ ও কৌতুহল লাগে। সত্যিকারের সৌন্দর্য বোঝার জন্য মন, মেধা এবং সাহস লাগে।’
রাইমা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দেখে, কুয়াশার মধ্যেই লুকানো আছে — লাল, নীল, হলুদ পানির ঝরনা, বনজঙ্গল, হরেক রকম পশু-পাখি , সবুজের মাঠ এবং রঙিন ফুলের বাগান। সে বুঝল, কুয়াশা শুধু বাধা নয়, বরং রহস্যের চাবিকাঠি।
রাইমা শেষে গ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সে আর আগের রাইমা নেই। সে সবাইকে শেখায়, ‘সাহসী হও, আত্মবিশ্বাসী হও, পৃথিবী সম্পর্কে জানো এবং কুয়াশার ভেতরে লুকানো সৌন্দর্যকে দেখো। কখনও কখনও যে জায়গা অজানা মনে হয়, সেখানে সবচেয়ে সুন্দর গল্প লুকানো থাকে। সেখান থেকে আমরা অনেককিছু শিখে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সাফল্য পেতে পারি।’




















































