স্বদেশ প্রেম
এবি ছিদ্দিক
বিশ্বাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সমকাল
নেড়েচেড়ে বিশুদ্ধ উচ্চারণ তো স্বদেশ প্রেম!
আর হিতাহিত পরামর্শ দান- সৃজনের
গর্বিত অংশীদার কেউ মানুক চাই না মানুক!
অতঃপর মিছিলটা শুরু হোক দেশপ্রেমের ঐক্যের খাতিরে…
স্বদেশ প্রেমের শিখাটা জ্বলে উঠুক মা-মাটির উদরে।
দাবী উঠুক মায়ের লিখিত দলিল রক্ষার
মায়ের গর্ভ আর বোনের সম্ভ্রম রক্ষার।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবীও উঠুক…
তবে দমন করা হোক এবং শক্ত হাতে…
যারা বিজয়ের বিরুদ্ধে বিজয় চায়!
শ্রেষ্ঠ বিকেলের বিরুদ্ধে বিকল বিকেল চায়!
অস্পষ্ট সমর্থন
আরজাত হোসেন
তোমার জন্য রাখিনি কোনো সীমানাপ্রচীর
দিইনি কোনো অযাচিত প্রত্যাশা।
রাখিনি কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থল
নর্থ কেপে, জেরুজালেম
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ কিংবা কার্মান রেখা।
আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখাইনি কখনো, মেঘের ছয়লাপ।
শুধু নিরব সমর্থন, এটাও অস্পষ্টে রেখেছি খুব!
ভালোবাসা জাহির করতে দেখাইনি বাহুবল,
অতি প্রকাশ্যে পৃথিবী তছনছ প্রত্যাশা দেওয়া
কেবল ভঙ্গুর প্রতিশ্রুতি।
অতশত সৌপর্ণ প্রেমের আমিই কেবল ব্যস্তানুপাত।
তাই তো ক্ষণিকের অধিক নয়,
বরং অল্প অল্প ভালোবাসতে চাই আজীবন।
বড়াল
জাকির সেতু
এই অভাগা নদীর শুষ্ক আঁচল ঘেঁষে
জন্ম নেয় এক নীরব জনপদের স্মৃতি,
যেখানে উলঙ্গ চাঁদও
ক্লান্ত শরীর নিয়ে নেমে আসে
জরাগ্রস্ত মৃত্তিকার গোপন অন্ধকারে।
নদী সেখানে আর নদী থাকে না
পদদলিত হয় ইতিহাসের মতো
বয়ে চলে ক্ষয়ের সহিংসতায়।
তবুও কোথাও, গভীর রক্তকণিকায়
প্রশান্তির ক্ষুদ্র বীজ নিঃশব্দে অঙ্কুরিত হয়
যেন জীবন নিজেই
নিজেকে পুনর্লিখনের এক গোপন প্রয়াস।
তারপর ফাগুন আসে, কত যুগ পেরিয়ে
খেসারির ক্ষেতে হেঁটে যায় সময়
নিঃশব্দে নিঃসংকচে অপার্থিব তাড়নায়
নির্বাক দৃষ্টিতে
আকাশ আর মাটির দূরত্ব মেপে
দুচোখ ভরে নামে অজস্র অজানা প্রশ্ন
যার উত্তর হয়তো
নদীর বুকেই ডুবে আছে অনন্তকাল।
ফাল্গুনে মৃত্যু
আহাম্মদ উল্লাহ
এতসব ভেবে কী হবে?
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাথরের মতন
পাহাড়ের মতন স্থানুু
নষ্ট বীজের মতন নিষ্ফলা।
একটুও আশা নেই বর্ষার
মাঘের শীত কাবু করে তোমার হৃদয়?
তুমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগো,
পুরাতন খসখসে পৃথিবীতে
আজ আছো অনড় হয়ে।
তারপর একদিন পালকি চড়ে
চলে গেলে ফাল্গুনের দিগন্তে
বললেও না, ভালোবাসি না।
অপেক্ষা করো না, সংসার পাতো।
মাঘে সব পাতা ঝরে গেলে
ফাল্গুনে মৃত্যু নামে বুকে।
বেদনার ডানায় রাত নামে
ফসলের মুখে বিষ যেমন মঙ্গল বসনায়।
ফ্লাই ঝড়
টিপু সুলতান
ফ্লাই ঝড়- বয়স্ক প্রান্তরে ব্রাউন রঙা টংঘর
থিকা উঠতি ধোঁয়ার মদ্যপ নদী গড়াচ্ছে,
সন্নিকটে মানুষের ব্যবহৃত কালভার্ট ব্রীজ-
হৈমন্তীক প্রেম,
উপমিত কর্পোরেট
আমাদের সন্তর্পণে এসেছিল
গানহীন দস্যিপাখির ছায়া,
ছায়ারাজ্যে বনচারি গ্রাম-
খুঁজে দেখি, তাঁদেরও নীরবতার মোহ
সূর্যমুখীর ক্রুশকাঠে জোড় বেঁধেছে
সকল ঘুমন্ত বই,
গল্পে প্যাটার্ন করা শব্দের অঙ্কুরেই দ্বিগুণ হচ্ছে
যৌথ থিরথিরানি রোদ ও দুপুর
কমলালেবুর কলিজি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে!





















































